১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

যৌথ সন্ত্রাস দমন


ভারতীয় উপমহাদেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ এমনভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে যে, তা এই অঞ্চলের প্রায় দেড়শ’ কোটি মানুষের জন্য ভীষণ উদ্বেগের কারণ দীর্ঘদিন ধরেই। এই অঞ্চলের অকার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত পাকিস্তান এই জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদের উদ্গাতা এবং মদদদাতা। এরাই প্রতিবেশী দুটি দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গী হামলা চালানোর কাজটি করে আসছে। পাকিস্তানে প্রশিক্ষিত জঙ্গীরা এই দুটি দেশের জন্য আতঙ্ক ও উদ্বেগের কারণ বৈকি। এটা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ। দুটি দেশের সাধারণ মানুষ শুধু নয়, পেশাজীবীরাও এই হামলার শিকার। মধ্যযুগীয় ধ্যানধারণায় আক্রান্ত পাকিস্তানের সঙ্গে এ দুটি দেশের স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে ওঠার কোন সম্ভাবনাই দেখা যায় না। তাই বাংলাদেশ-ভারত জঙ্গীবাদ নির্মূলে একসঙ্গে কাজ করে আসছে। এমনকি তথ্য বিনিময়ও করছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে কেন্দ্র করে এবং তা বানচাল করার লক্ষ্য থেকেই বাংলাদেশে গুপ্ত হত্যা চালানো হচ্ছে। এমনকি পেট্রোলবোমাসহ নাশকতামূলক তৎপরতাও চালানো হয়েছে।

আঞ্চলিক সন্ত্রাসী ও জঙ্গীগোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানী মদদে বাংলাদেশে নাশকতা চালিয়ে আসছে। যুদ্ধাপরাধী নিজামীর রায় ও শাস্তিকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের সর্বশেষ ভূমিকা স্পষ্ট হয়েছে এতে। তারা বাংলাদেশের অস্তিত্বের বিরুদ্ধেও স্বাধীনতাবিরোধীদের পক্ষে জোরালো রাষ্ট্রীয় অবস্থান নিয়েছে। এর আগেও আইএসআই-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত সাকা চৌধুরীর শাস্তি কার্যকর করাকে কেন্দ্র করেও তারা আস্ফালন প্রদর্শন করেছিল। এই জামায়াত নেতারা মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী হানাদারদের সঙ্গে পরাজয়ের পর পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার প্রকল্প নেয় পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থার অর্থে। এই একই সংস্থা ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছিল বলে সে দেশের সংসদে জানানো হয়েছে। পাকিস্তান তাদের অনুগত ও বিএনপি-জামায়াতকে বাংলাদেশের ক্ষমতায় বসানোর জন্য নানা তৎপরতা চালিয়ে আসছে। বাংলাদেশে পাকিস্তানী হাইকমিশনের কর্মকর্তারা জঙ্গীদের অর্থায়ন করে আসছিল। বাংলাদেশে যেসব জঙ্গী নাশকতায় জড়িত তারা মূলত জামায়াত-শিবিরের লোক। এরা পাকিস্তানীদের হাতে প্রশিক্ষিত হয়ে জঙ্গীতে রূপান্তরিত হয়েছে। জেএমবি, হরকত-উল-জিহাদ, আনসারুল্লাহ, হিযবুত তাহ্রীর নামক জঙ্গী গোষ্ঠীগুলোর মদদদাতা পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ছাড়াও লস্করই তৈয়বা, তেহরিক-ই তালেবানসহ আরও জঙ্গীগোষ্ঠী। এরা ভারতেও নাশকতা চালিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও জেএমবির আস্তানার সন্ধান পাওয়া গেছে, যেখানে বোমা তৈরি করা হতো। আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীপনা বাংলাদেশের উন্নতি ও অগ্রগতির পথে প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করছে। সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভারত সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করে আসছে, তথ্য আদান-প্রদানও করছে। ভবিষ্যতে এই দ্বিপক্ষীয় কাজের ক্ষেত্র কিভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, সে নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের লড়াইয়ের প্রতি ভারতের রয়েছে জোরালো সমর্থন। সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ মূলত প্রতিবেশী দুই দেশের জন্যই উদ্বেগের। দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সন্ত্রাস ও জঙ্গী দমনের জন্য উভয় দেশের মধ্যে যে কাঠামো রয়েছে, তা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করা দরকার। ঢাকায় দিন দুয়েক আগে অনুষ্ঠিত দু’দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ দমনে বাংলাদেশের প্রতি ভারতের জোরালো সমর্থনের কথা বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিকভাবে একসঙ্গে দুটি দেশ কাজ করছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। এমনিতেই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্ক ‘রোল মডেল’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে ভারত সব সময় বাংলাদেশের মানুষের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতে থাকবে বলে আশা করা যায় সম্পর্কের গভীরতায়। একবিংশ শতকের বাস্তবতা সামনে রেখে উন্নয়ন ও নিরাপত্তার প্রয়োজনে দু’দেশকে একসঙ্গে চলতে হবে। আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে দুটি দেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাবেÑ সেই প্রত্যাশা দু’দেশের জনগণের।