২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সামার ল্যাপটপ ফেয়ারে প্রযুক্তিপ্রেমীদের দীর্ঘ লাইন


স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘সামার ল্যাপটপ ফেয়ার-২০১৬’। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের আনাগোনায় মুখর হয়ে উঠে মেলা প্রাঙ্গণ। দুপুরের বৃষ্টিতে লোকসমাগম কিছুটা কমে গেলেও বিকেলে মেলার প্রবেশপথেই দেখা গেল মানুষের দীর্ঘ লাইন-এ যেন প্রযুক্তিপ্রেমীদের উপচেপড়া ভিড়। আর স্টল ঘুরে দেখা যায়-সর্বশেষ প্রযুক্তির পণ্যে বাহারি অফার। প্রতিটি পণ্যেই রয়েছে কোন না কোন ছাড়। শুধু তাই নয়, নতুন মডেলের পণ্যের সঙ্গেও পরিচিত হচ্ছেন দর্শনার্থীরা। জেনে নিচ্ছেন সদ্য মোড়ক উন্মোচিত হওয়া নতুন মডেলের ল্যাপটপের কনফিগারেশন। শুক্রবার সকাল ১০টায় শুরু হওয়া মেলার অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় বিকেলে। মেলা উদ্বোধন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এক্সপো মেকারের পরিচালনা বিভাগের প্রধান ও সামার ল্যাপটপ ফেয়ার-২০১৬-এর সমন্বয়ক নাহিদ হাসনাইন। এছাড়াও ওই অনুষ্ঠানে ল্যাপটপ ব্র্যান্ড এসার, আসুস, ডেল ও এইচপির উর্ধতন কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, আইটি খাতে বাংলাদেশ এমন এক স্থানে পৌঁছেছে, বিশ্বের অনেক দেশই হতবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। তাদের কথায়- বাংলাদেশের এ সাফল্য অবিশ্বাস্য। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তি ব্যবহারের জ্ঞানটাও থাকতে হবে, জ্ঞানের প্রসার ঘটাতে হবে, জ্ঞানকে এগিয়ে নিতে হবে। বাংলাদেশ আরও উপরে যাবে, যদি যেতে হয় তাহলে নিত্যনতুন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার আবশ্যক, যন্ত্রগুলোর ব্যবহার করতে হবে এবং সে সম্পর্কে জানতে হবে। প্রযুক্তি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এটি শুধু ব্যবসা নয়-একটা দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নেয়া, তাদের সেভাবেই ব্যবসা করতে হবে।

মেলার সমন্বয়ক নাহিদ হাসনাইন বলেন, আমরা আশাকরি এবারের মেলা পূর্বাপরের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। আমরা আশাবাদী মেলা আয়োজনের সুফল প্রযুক্তিপ্রেমীরা অবশ্যই পাবেন। এ সময় ল্যাপটপ ব্র্যান্ড এসার, আসুস, ডেল ও এইচপির উর্ধতন কর্মকর্তাদের বক্তব্যেও একই কথা উঠে আসে। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ল্যাপটপ মেলা আয়োজনের কারণে আমাদের মধ্যে এক ধরনের দায়বদ্ধতা চলে এসেছে। একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের চাহিদা সম্পর্কে জানতে পারছি তেমনি বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন প্রযুক্তি সরবরাহ করতে হচ্ছে। এতে দিন দিন প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মেলা আয়োজনে ক্রেতাদের নতুন নতুন প্রযুক্তি দেখানোও সম্ভব হচ্ছে।

বক্তৃতা শেষে ‘প্রযুক্তির আলো জ্বালো’ সেøাগানকে সামনে রেখে প্রযুক্তিবিদ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা মোমবাতি প্রজ্বলন করেন। পরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।

মেলা আয়োজক প্রতিষ্ঠান এক্সপো মেকারের এটি ১৭তম ল্যাপটপ মেলা। এতে ৪টি প্যাভিলিয়ন, ৭টি মিনি প্যাভিলিয়ন ও ৫৪টি স্টলে দেশ-বিদেশের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সর্বশেষ প্রযুক্তি প্রদর্শন করছে।

আয়োজকরা জানানা, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় প্রবেশের টিকেট মূল্য ৩০ টাকা, তবে স্কুলের শিক্ষার্থীরা ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় কিংবা পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারবে।

এছাড়া প্রতিবন্ধীরা বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ পাবে। প্রতিবারের মতো এবারও টিকেট থেকে অর্জিত অর্থ একজন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় ব্যয় হবে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।