মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৫ আশ্বিন ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

পাক হাইকমিশনের মুচলেকায় সিটি স্কুলের সেই অধ্যক্ষ ছাড়া পেলেন

প্রকাশিত : ১৪ মে ২০১৬

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর সিটি স্কুল ইন্টারন্যাশনালের ফান্ডের অর্থ নিয়ে পালানোর সময় আটক হওয়া সেই পাকিস্তানী নারী অধ্যক্ষ ইয়াসমিন রাজবয়কে (৪৫) ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। আটকের পর থেকে পাকিস্তান হাইকমিশনের নানামুখী তৎপরতায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গুলশান থানা পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। তবে পাকিস্তান হাইকমিশন মুচলেকা দিয়ে বলেছে, কোন কারণে অধ্যক্ষ অর্থ প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করলে পাকিস্তান হাইকমিশন তা দিতে বাধ্য থাকবে।

শুক্রবার গুলশান বিভাগের পুলিশের উপ-কমিশনার মোস্তাক আহমেদ জানান, বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানী ডেপুটি হাইকমিশনার শামিমা মেজবাহ মুচলেকা দিয়ে ইয়াসমিন রাজবয়কে ছাড়িয়ে নেন। অর্থ আত্মসাতের যে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে আছে তা তদন্তে প্রমাণিত হলে ইয়াসমিন রাজবয় সে অর্থ পরিশোধ করবেন। কোন কারণে তিনি অপারগতা প্রকাশ করলে পাকিস্তান হাইকমিশন তা দিতে বাধ্য থাকবে বলেও জানান ডিসি মোস্তাক আহমেদ। পাকিস্তানী মালিকাধীন ‘সিটি স্কুল ইন্টারন্যাশনাল’ নামে গুলশান ও বনানীর একটি স্কুলের অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত ছিলেন পাকিস্তানী নাগরিক ইয়াসমিন রাজবয়। তিনি ওই স্কুলের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন থেকে এক কোটি ৯৫ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেনÑ এই মর্মে স্কুলের শিক্ষকরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন বুধবার। বৃহস্পতিবার বারিধারার ৮ নম্বর রোডের ভাড়া বাসা থেকে ইয়াসমিন রাজবয় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্কুলের শিক্ষকরা তাতে বাধা দেন এবং পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ দুপুরে গিয়ে রাজবয়কে আটক করে থানা হেফাজতে নেয়। তবে ইয়াসমিন রাজবয়কে ছাড়িয়ে নিতে তখনই থানায় হাজির হন ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার শামিমা মেজবাহ।

এদিকে সিটি স্কুল ইন্টারন্যাশনালের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এমন ঘোষণায় অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে শিক্ষক-কর্মচারীদের কোটি কোটি টাকা লোপাট করে হঠাৎ প্রতিষ্ঠান গুটিয়ে নেয়ার ঘোষণায় আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষক-কর্মচারী ও অভিভাবকরা। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত নিশ্চিত করা ও পাওনা টাকা প্রদানের দাবিতে আন্দোলন করছেন তারা। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা শুক্রবার বলেছেন, পাকিস্তানী দূতাবাস পুরো পাওনা টাকা মিটিয়ে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত নিশ্চিত করার ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক আসিফ বলছিলেন, আমি এখানকার অস্থায়ী শিক্ষক। তাই আমার পাওনা টাকার পরিমাণ বেশি নয়। তবে নিয়মিত শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিপুল অংকের অর্থ পাওনা আছে। প্রভিডেন্ট ফান্ডের লাখ লাখ টাকা পাওনা আছে। এখানে প্রায় ১০০ জন শিক্ষক-কর্মচারী ও ৩০০ জনের মধ্যে শিক্ষার্থী আছে।

রাজধানীর বনানী ও গুলশানের অভিজাত পাড়ায় সিটি স্কুলের দুটি ক্যাম্পাস রয়েছে। স্কুলটির মালিক পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমানে তেহরিক-ই-ইনসাফের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা খুরশিদ মাহমুদ কাসুরীর শালিকা ড. ফারজানা ফিরোজ। তিনি এ স্কুলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১৭০টিরও বেশি শাখা আছে স্কুলটির। পাকিস্তানে ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ স্কুলটি বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে ২০০৩ সালে। বাংলাদেশ ছাড়াও শ্রীলঙ্কা, নেপালসহ কয়েকটি দেশের শিক্ষার্থীরাও এ স্কুলে পড়ছে।

প্রকাশিত : ১৪ মে ২০১৬

১৪/০৫/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: