২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

মনোনয়ন বৈধ করতে তদ্বির


স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ সাতকানিয়া উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত এক প্রার্থীসহ ৯ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। আয়কর রিটার্ন প্রদান না করা এবং অসম্পূর্ণ মনোনয়নপত্র জমা দেয়ায় তাদের প্রার্থিতা বাতিল হয়। এরমধ্যে সরকারদলীয় প্রার্থীকে ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। বাতিল মনোনয়নপত্র বৈধ করতে তিনি নানামুখী প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে যাদের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে তারা হলেনÑ সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হারুনুর রশীদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী মফিজুর রহমান, রাশেদুল ইসলাম, চরতি ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম, আমিলাইশ ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউর রহমান, এইচএম হানিফ, মাদার্শা ইউনিয়নের বিএনপি প্রার্থী ফেরদৌস সিকদার, ফজল করিম মেম্বার ও ঢেমশা ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবসার। এরমধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হারুনুর রশীদের প্রার্থিতা বাতিল হয় আয়কর রিটার্ন জমা না দেয়া এবং মনোনয়নপত্র অসম্পূর্ণ থাকায়। এছাড়া একই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী রাশেদুল ইসলাম ও মফিজুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয় সরকারী চাকরিজীবী হওয়ায় ও মামলাজনিত কারণে। এছাড়া আমিলাইশ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী জিয়াউর রহমান সারের ডিলার হওয়ায় এবং চরতি ইউনিয়নের প্রার্থী এসএম হানিফ ঋণখেলাপী হওয়ায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

হারুনুর রশীদ তার প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে জেলা নির্বাচন অফিসে আপীল করেছেন। এদিকে, তৃণমূল পর্যায়ে কাউন্সিলরদের সমর্থন আদায়ের ক্ষেত্রে তিনি অনৈতিকতার আশ্রয় নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ছিলেন জামায়াতী ঘরানার। আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে কাউন্সিলরদের সমর্থন আদায় করতে তিনি নানা অনৈতিক কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন। শুধু আপীলই নয়, পাশাপাশি তিনি সরকারদলীয় নেতা ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে তদ্বির চালিয়ে বাতিল হওয়া মনোনয়নপত্র বৈধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ আছে।

আতঙ্ক কাটেনি মুকসুদপুরে

নিজস্ব সংবাদদাতা গোপালগঞ্জ থেকে জানান, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় নির্বাচনপরবর্তী বেশকিছু এলাকায় সহিংস ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে এলাকার সাধারণ মানুষ। হামলা, ভাংচুর, লুটপাট, মারধর, হুমকি-ধমকিতে সর্বক্ষণ তটস্থ থাকছে তারা। বহু ছেলেমেয়ের স্কুলে যাওয়া বন্ধ রয়েছে। অনেকে নিরাপত্তার অভাবে বাড়ির বাইরে রয়েছেন। ক্ষমতাশালীদের নিয়মিত মহড়ার কারণে অনেকে বাজার-ঘাট বা কর্মস্থলে যাওয়া-আসা করতে পারছেন না। কিন্তু মুখ খুলতে কেউ সাহস পাচ্ছেন না। বলার মতো দু’একজন যারা আছেন তারাও গা-বাাঁচিয়ে চলছেন। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, পুলিশের কাছে গেলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।

নির্বাচনের পরদিন মুকসুদপুর উপজেলার বহুগ্রাম ইউনিয়নের গাড়লগাতী গ্রামের ঘোড়পাড়া, মধ্যপাড়া ও উত্তরপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামের অর্ধ শতাধিক পরিবারের বসতঘরে ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে। নির্বাচনে হেরে যাওয়া ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী টুলু মোল্লা ও তার লোকজন ঢাল-সরকি, বল্লম, রাম-দা ও লাঠিসোটা নিয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে গ্রামবাসীর ওপর এসব হামলা চালায়।

বৃহস্পতিবার সেখানে সরেজমিন গেলে গাড়লগাতী মধ্যপাড়া গ্রামের ৯০ বছর বয়সী খুলনার খালিশপুর প্লাটিনাম হাই স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাজী ইয়াসিন শেখ জানান, তিনি খুলনায় থাকেন এবং সেখানকার ভোটার। নাড়ির টানে মাঝে মধ্যে তিনি পৈত্রিক ভিটায় আসেন। নির্বাচনের পরদিন তার বাড়িতে কুপিয়ে যেভাবে ভাংচুর করা হয়েছে এবং আশপাশের লোকজনদের মারপিট করে জখম করা হয়েছে, তাতে মনে হয়েছে চারিদিকে আইয়্যামে জাহেলিয়ার যুগ ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, যখন-তখন পাশের গ্রাম থেকে ঢাল-সড়কি নিয়ে এসে হামলা ভাংচুর করা হয়। এসবের নেতৃত্ব দিচ্ছে এই গ্রামের দক্ষিণপাড়ার সন্তান ইঞ্জিনিয়ার মনিুরুজ্জামান; যিনি বর্তমানে বগুড়ায় স্বাস্থ্য-প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী। ওরা পুলিশকে হাত করে ফেলেছে, অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ নিচ্ছে না।

এছাড়াও ঘোড়পাড়া রিয়াজুল শেখের বাড়ি ও টুকু শেখের বাড়িসহ বিভিন্ন বাড়ির অর্ধ শতাধিক পরিবারের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। এখনও এলাকায় সন্ত্রাসীদের মহড়া অব্যাহত রয়েছে। এসবের প্রেক্ষিতে এলাকার সাধারণ মানুষ এখন ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন অনেকটা থমকে গিয়েছে। মুকসুদপুর থানার ওসি আজিজুর রহমান জানান, বহুগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য লোকজন গিয়ে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আশ্বাস দেয়ায় গাড়লগাতীর ঘটনায় কোন মামলা হয়নি। তবে দিগনগর ইউনিয়নের কানুরিয়ার ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এলাকায় কেউ শান্তি ভঙ্গের কাজ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পুনরায় ভোট গণনার দাবি

নিজস্ব সংবাদদাতা পার্বতীপুর থেকে জানান, পার্বতীপুর উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী মোঃ হাসান আলী পুনরায় ভোট গণনার দাবিতে শুক্রবার সকাল ১০টায় পার্বতীপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তিনি জানান ৭ মে চতুর্থ ধাপে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে তিনি তালা মার্কা নিয়ে মেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোটকেন্দ্র ছিল গুড়গুড়ি দাখিল মাদ্রাসা। প্রথম গণনায় তিনি ৫০১ ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আবু হাসান পান ৪৭৫ ভোট। উভয়ের নাম হাসান হওয়ায় সুযোগে প্রিসাইডিং অফিসার পক্ষ নিয়ে কারসাজির মাধ্যমে ৪ দফায় ব্যালট পেপার গুণে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে ৭ ভোটে বিজয়ী ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এখনও এলাকায় তার সমর্থক ও ভোটাররা বিক্ষুব্ধ। পুনরায় গণনা হলে তিনি ২৬ ভোটে নিশ্চিত বিজয়ী হবেন বলে জানান।

আড়াইহাজারে নির্বাচিত হওয়ার পথে ৮ চেয়ারম্যান

নিজস্ব সংবাদদাতা, নারায়ণগঞ্জ থেকে জানান, আগামী ২৮ মে পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আড়াইহাজার উপজেলায় ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৮টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পথে রয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী ৪ প্রার্থী তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার, তিন জনের মনোনয়ন বাতিল ও একজন একক প্রার্থী থাকায় তারা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পথে রয়েছেন বলে বিষয়টি শুক্রবার নিশ্চিত করেছেন আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মোরশেদ আলম।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পথে রয়েছেন তারা হলেন- সাতগ্রাম ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী অদুদ মাহমুদ, দুপ্তারা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহিদা মোশারফ, ব্রাহ্মহ্মন্দী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ লাক মিয়া, হাইজাদী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ আলী হোসেন ভুইয়া, ফতেপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু তালেব মোল্লা, মাহমুদপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ আমানউল্লাহ আমান, উচিৎপুরা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ নাজিম উদ্দিন মোল্লা, কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী সাইফুল ইসলাম স্বপন।

কাজিপুরে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাঁচ চেয়ারম্যান

স্টাফ রিপোর্টার, সিরাজগঞ্জ থেকে জানান কাজিপুর উপজেলার ১২ ইউনিয়নের নির্বাচনে ৫ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। মাত্র ৪ ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থী দিয়েছে। বাকি সব ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বৃহস্পতিবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতরা হচ্ছেনÑ সোনামুখীতে শাহজাহান আলী (আওয়ামী লীগ), গান্ধাইলে আশরাফুল আলম (আওয়ামী লীগ), মনসুরনগরে রাজমোহর (আওয়ামী লীগ), তেকানীতে হারুনার রশীদ (আওয়ামী লীগ), খাসরাজবাড়িতে গোলাম হোসেন (আওয়ামী লীগ)।