২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

স্মরণ ॥ কথাশিল্পী শওকত ওসমান


আজ ১৪ মে কথাশিল্পী শওকত ওসমানের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৯৮ সালের তিনি ইন্তেকাল করেন। বাংলা সাহিত্যের কালোত্তীর্ণ এক অসামান্য প্রতিভা শওকত ওসমান। পৈত্রিক নাম শেখ আজিজুর রহমান। ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার খানাকুল থানার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, মা গুলজান বেগম। ৩ ভাই ৪ বোনের সংসারে শওকত ওসমান জ্যেষ্ঠ। ১৯৪১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এমএ পাস করেন। ১৯৪১ সালে কর্মজীবন শুরু করেন কলকাতায় রাজ্য সরকারের তথ্য দফতরের প্যামফ্লেট রাইটার, কৃষক পত্রিকার নিবন্ধক, গভর্নমেন্ট কমার্শিয়াল কলেজে প্রভাষকের চাকরির মাধ্যমে। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানে এসে চট্টগ্রাম কলেজ অব কমার্সে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৫৮ সালে বদলি হয়ে আসেন ঢাকা কলেজে। মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশত্যাগ করে মুজিবনগর সরকারের তথ্য দফতরে কাজ করেন এবং স্বাধীন দেশে ১৯৭২ সালের ১ এপ্রিল অবসর গ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মম হত্যাকা-ের প্রতিবাদে স্বেচ্ছায় নির্বাসনে ভারত চলে যান।

তাঁর মোট ১৬টি উপন্যাস, ১৪টি গল্পগ্রন্থ, ১০টি প্রবন্ধগ্রন্থ, ৩টি কাব্যগ্রন্থ, ৬টি নাটক, ১০টি অনুবাদ, ১০টি শিশুতোষ, ১১টি আত্মজৈবনিক, ১টি পাঁচ মিশালী, ২টি সম্পাদনা, ১টি সমালোচনাসহ ৩টি উপন্যাস ও ছোটগল্পের ইংরেজী অনুবাদ মিলিয়ে মোট ৯০টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। উপন্যাস ‘জননী’ (১৯৫৮), ‘ক্রীতদাসের হাসি’ (১৯৬২), ‘জাহান্নাম হইতে বিদায়’ (১৯৭১), প্রবন্ধের বই ‘জন্ম যদি তব বঙ্গে’ (১৯৭৫), ‘পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা’ (১৯৯০) ও ‘ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী’ (১৯৯০) ইতোমধ্যে বাংলা সাহিত্যে অসামান্য সৃষ্টি হিসেবে স্থায়ী আসন করে গিয়েছে।

দীর্ঘ এই সাহিত্য ভা-ার রচনার সঙ্গে সঙ্গে শওকত ওসমান একটি স্বকীয় বৈশিষ্ট্য সৃজনেও সক্ষম হন। দ্রোহ মনস্ক অধিকার স্পৃহা, মৌলবাদ-ফতোয়াবাজি ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদসহ বাঙালী জাতীয়তাবাদের দর্শনই তাঁর এই স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

সাহিত্য ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য শওকত ওসমান জাতীয় পর্যায়ের প্রায় সবকটি পুরস্কারই অর্জন করেন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হচ্ছে, আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২), বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৬), প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৬৭), একুশে পদক (১৯৮৩), নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক (১৯৮৬), মুক্তধারা পুরস্কার (১৯৮৮), ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), টেনাসিস পুরস্কার (১৯৯১), মাহবুবউল্লাহ ফাউন্ডেশন পদক (১৯৯৬) এবং স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার (১৯৯৬)।

বঙ্গবন্ধুর দর্শন প্রভাবিত এই মহান কথাশিল্পী স্বপ্ন দেখতেন বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে। এজন্য রাজপথে, শহীদ মিনারে, মাঠে-ময়দানে আন্দোলন গড়ে তুলতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ছুটে বেরিয়েছেন শওকত ওসমান। তাঁদের আন্দোলনের ফলেই আজ বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্ভব হচ্ছে। এই মহান কথাশিল্পীর ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।

লেখক : চেয়ারম্যান, মুক্তিযুদ্ধ একাডেমি

ধনঁষধুফ১৯৬১@মসধরষ.পড়স