মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৫ আশ্বিন ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

সিলেট দিক নাট্যোৎসবে মহাকালের ‘নীলাখ্যান’

প্রকাশিত : ১৪ মে ২০১৬
সিলেট দিক নাট্যোৎসবে মহাকালের ‘নীলাখ্যান’

সংস্কৃতি ডেস্ক ॥ সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দিক থিয়েটারের প্রতিষ্ঠার ১৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে ৫ দিনব্যাপী ‘দিক নাট্যোৎসব-২০১৬’। এ উৎসবে আজ শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয় মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হবে মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের ৩৬তম প্রযোজনা ‘নীলাখ্যান’। আজ নাটকটির ১৫তম মঞ্চায়ন হবে। দ্রোহ ও প্রেমের কবি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘সাপুড়ে’ গল্প আশ্রয়ে নাটকটি রচনা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনন জামান। নির্দেশনা দিয়েছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ইউসুফ হাসান অর্ক।

‘নীলাখ্যান’ নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেনÑ মীর জাহিদ হাসান, পলি বিশ্বাস, মোঃ শাহনেওয়াজ, জেরিন তাসনীম এশা, কোনাল আলী চৈতী সাথী, শাহিনুর প্রীতি, আদিবা, সুরেলা, নির্ঝর অধিকারী, তনু ঘোষ, আমিনুল আশরাফ, আসাদুজ্জামান রাফিন, মোহাম্মদ আহাদ, শিবলী সরকার, শাহরিয়ার হোসেন পলিন, ইয়াছির আরাফাত, তৌহিদুর রহমান শিশির, রাজিব হোসেন, ইকবাল চৌধুরী, জাহিদুল কামাল চৌধুরী দিপু প্রমুখ। নাটকের নেপথ্য শিল্পীরা হলেনÑ মঞ্চ পরিকল্পনায় ইউসুফ হাসান অর্ক, আলোক পরিকল্পনায় ঠান্ডু রায়হান, সুর ও সঙ্গীতে ইউসুফ হাসান অর্ক, আবহসঙ্গীত ইউসুফ হাসান অর্ক, পোশাক পরিকল্পনায় ড. সোমা মোমতাজ, কোরিওগ্রাফি জেরিন তাসনিম এশা, প্রপস পরিকল্পনা ও নির্মাণ হাসনাত রিপন, রূপসজ্জায় শুভাশীষ দত্ত তন্ময়, পোস্টার ও স্মরণিকা ডিজাইন পংকজ নিনাদ, মঞ্চ ব্যবস্থাপক জাহিদ কামাল চৌধুরী এবং প্রযোজনা অধিকর্তা মীর জাহিদ হাসান।

নাটকের কাহিনীতে দেখা যায়, বেদিয়ার সর্দার জহরের বিষ জয় সাধনায় মনসা কর্তৃক কাম নিষিদ্ধ বলেÑ তার ভাষে আভাসে প্রত্যাখ্যাত ভালবাসার মানুষ বিন্তী রানী আড়ালি বিলে রাশি রাশি সাদা শাপলার বনে আত্মহত্যা করে। বেদিয়া বহরে বেড়ে ওঠা সাপে কাটা মান্দাস ভাসা বালিকা চন্দনের চুলের আড়ে বিন্তীর সুরভী পায় জহর। নারী নিষিদ্ধ বলে এ বালিকা বেড়ে উঠছিল বালকের বেশে। যাকে সন্তান করেছিল জ্ঞান-ঋতুমতি হয়ে উঠার পর তার প্রতি প্রবল রতি অনুভব করে জহর। বেদিয়া দলে তাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় বিচিত্রমুখী সঙ্কট। চন্দনের যুবা সাজে তাকে প্রেম নিবেদন করে মৌটুসী আর চন্দন ঠোঁটে মালতী ফুলের লাল ডলে ঝুমরোর সামনে দাঁড়ায়।

বেদিয়াদের উৎসবে চন্দনের নারীত্ব উন্মোচন হলে দলের অতিপ্রাকৃত বৃদ্ধ ঘণ্টাবুড়ো বেদিয়া দল ও জহরকে তিনটি অনিবার্য ভবিতব্যের ঘোষণা দেয়Ñ ভবিতব্যের তিনরূপ কহি- যে ভাতের পাতিল নেয়ার জন্য জলে ডুবেছে বিন্তী- তা অন্যরে দিতে চেয়ে পতিত হবি তুই। অথবা তোর আচরে বিন্তীর অনুগামী হবে চন্দনে। আর যদি না হয় তা- তবে আছে তৃতীয়জন- তার হবে মৃত্যু। মৃত্যু অনিবার্য- তবে তা কার হবে- তোর কার্যকরণ হবে থির।

সামগ্রিক দৃশ্যকাব্যে ক্ষণে ক্ষণে তিনটি ভবিতব্য ঘটে যাওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল হয়ে উঠে। যাকে পিতা মানে তাকে পতি মেনে নিতে পারে না চন্দন। ঝুমরোর জন্য জহরের ঝাঁপিতে আছে দাঁত না ভাঙা পোষা সাপ। শাওনের অখ- চাঁদের সাঁজ বেলায় আকাশজুড়ে যেন মনসার নীল মুখচ্ছবি ভেসে ওঠে। জহরের অন্তরে তখন বাজে চন্দন চেয়েছিল গাঢ় নীল রঙের ফতুয়া। সে ক্ষণে ১০০তম সাপের দংশন নেবে জহর- মন্ময় নীলের দোলাচলে সে চিত্রল ফণায় টোকা দিয়ে সাপটিকে ক্রোধমত্ত করে তোলে।

প্রসঙ্গত, মানবপ্রেমের অমর উপাখ্যান ‘নীলাখ্যান’ নাটকটি বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত হয়েছে। ইতোমধ্যে পশ্চিমবঙ্গের হুগলী, শান্তিনিকেতন ও বোলপুরে ৩টিসহ নাটকটির ১৪টি সফল মঞ্চায়ন হয়েছে।

প্রকাশিত : ১৪ মে ২০১৬

১৪/০৫/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: