১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

অসভ্যতার অন্ধকারে দেশকে ডুবিয়ে দিচ্ছে শাসকরা ॥ খালেদা


স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বলেছেন, ক্ষমতার দখলদারিত্ব যেন শাসক গোষ্ঠীকে স্বেচ্ছাচারিতার অবাধ ছাড়পত্র দিয়েছে। তারা দেশকে এক অসভ্যতার অন্ধকারে ডুবিয়ে দিচ্ছে। তিনি বলেন, আইনের শাসনকে পদদলিত করে দেশে পেশীশক্তি নির্ভর এক দুঃশাসন চাপিয়ে দেয়ার বেপরোয়া ও ধারাবাহিক অপপ্রয়াসে সচেতন নাগরিক সমাজ আজ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

খালেদা জিয়া বলেন, জনগণের ভোটের অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে জবরদস্তি ও অপকৌশলের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন হয়েছে বর্তমান সরকার। এ শাসকদের সরাসরি মদদ ও আস্কারায় তাদের চ্যালা চামু-ারা দেশজুড়ে উচ্ছৃঙ্খলতা ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। নির্লজ্জ দলীয়করণ ও যথেচ্ছ অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসমূহের আইনসম্মত পন্থায় স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার কোন অবকাশ এরা রাখেনি। তারপরেও সন্ত্রাসীরা প্রশাসন, পুলিশ, সীমান্তরক্ষীসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও সরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর দৈহিক হামলা ও সশস্ত্র আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, অন্যায় আবদার রক্ষা ও বেআইনী নির্দেশ পালন এবং বিধিবহির্ভূত সম্মান ও সুযোগ দিতে অস্বীকার করলেই রাষ্ট্রীয় কর্তব্য পালনে নিয়োজিত কর্মকর্তারা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হাতে হেনস্তা ও নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন। মাঠ প্রশাসন পর্যায়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ প্রসঙ্গে আমি বিশেষ করে আমার নির্বাচনী এলাকা ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম রকিব হায়দারকে সম্প্রতি পিটিয়ে আহত করার ঘটনাটির কথা উল্লেখ করতে চাই। স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গুরুত্ব না দেয়ার কারণে তাকে সরকারী কর্তব্য পালনরত অবস্থায় প্রকাশ্যে মারধর করে আহত করা হয়েছে।

খালেদা জিয়া বলেন, সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবাধে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন এখন কতটা অসম্ভব ও ঝুঁকিপূর্র্ণ হয়ে উঠেছে ফেনীর পরশুরামের ঘটনা তার এক জ্বলন্ত প্রমাণ। সারাদেশে এ ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটছে। কোন ঘটনা নিয়ে বেশি তোলপাড় হলে চোখে ধুলা দেয়ার জন্য সাময়িক কিছু পদক্ষেপ নিয়ে ধামাচাপা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোন প্রতিকার বা সুষ্ঠু বিচার হচ্ছে না। ফাঁক-ফোকরে শাসক দলের কোন নেতাকর্মী আদালত থেকে দোষী সাব্যস্ত হলেও বিশেষ অনুকম্পায় তাদের মুক্ত করে দেয়া হচ্ছে। ফাঁসিতে মৃত্যুদ-াদেশপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাও ছাড়া পেয়ে নতুন নতুন ভয়ঙ্কর অপরাধ সংঘটিত করছে। অপরদিকে বিনা দোষে মিথ্যা মামলায় বিরোধীদলের অগণিত নেতাকর্মী ও সাধারণ নাগরিকেরা দুঃসহ নিপীড়ন ভোগ করছেন।

খালেদা জিয়া বলেন, আমি পরশুরামের ইউএনও’র ওপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি, যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আমি মনে করি দুর্নীতি, দুঃশাসন, স্বেচ্ছাচারিতা ও নৈরাজ্যের বর্তমান দুঃসহ পরিস্থিতির অবসানকল্পে সকলের অংশগ্রহণে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক জাতীয় নির্বাচনে জনগণের ভোটে একটি প্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার কোন বিকল্প নেই।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: