১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

২০ বছরে মুক্তি, তবু জেলেই ফেরত প্যালেস্তাইনির


২০ বছরে মুক্তি, তবু জেলেই ফেরত প্যালেস্তাইনির

অনলাইন ডেস্ক ॥ দীর্ঘ ২০ বছর কলকাতার জেলে থাকতে থাকতে মাতৃভাষাটাই প্রায় ভুলে যেতে বসেছেন। আপাতত কাজ চালাচ্ছেন ভাঙা-ভাঙা বাংলাতেই। প্যালেস্তাইনের কোথায় বাড়ি, তা-ও মনে করতে পারেন না। সেই কারণে বছর তিনেক আগে সাজা শেষ হয়ে গেলেও প্রেসিডেন্সি জেলেই আটক ছিলেন ফতোহ আহমেদ আবু সাত্তা নামে এক প্যালেস্তাইনি। অবশেষে এক আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে বুধবার মুক্তি মিললেও বাড়ি ফেরা হল না তাঁর।

কারণ, যে বেসরকারি সংস্থার উড়ানে ওই জেলবন্দির দেশে ফেরার কথা ছিল, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তাঁরাই বেঁকে বসলেন। ডিজি (কারা) অরুণকুমার গুপ্ত বলেন, ‘‘আমরা অন্য উড়ান সংস্থার সঙ্গে কথা বলছি। ফতোহ আবু সাত্তাকে আপাতত প্রেসিডেন্সি জেলেই ফিরিয়ে আনা হয়েছে।’’ রাজ্যের বেশ কিছু জেল ঘুরে শেষ ১০ বছর এই প্রেসিডেন্সিতেই ছিলেন বছর পঞ্চাশের ফতোহ।

কিন্তু কেন তাঁকে দেশে ফেরানো গেল না? যে বেসরকারি সংস্থা তাঁকে বিমানে তুলতে রাজি হয়নি সেই এমিরেটস-এর এক কর্তা বলেন, ‘‘এক জন বন্দিকে একা উড়ানে পাঠাতে গেলে অনেক শর্ত পূরণ করতে হয়। দিল্লির একটি সংস্থা ওই বন্দির টিকিট কেটে দিলেও প্রয়োজনীয় পদ্ধতি মেনে ফর্ম পূরণ করেনি।’’ বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা জানতে পারে, ওই প্যালেস্তাইনি তাদের উড়ানেই দুবাই যাবেন। তখনই দিল্লির ওই সংস্থার কাছে এমিরেটস কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ফর্ম পাঠিয়ে দেন। কিন্তু তা পূরণ করে কলকাতায় পাঠানো হয়নি বলে অভিযোগ। এমিরেটস জানাচ্ছে, সেই ফর্ম পেলে তা দুবাই পাঠিয়ে সেখান থেকে সবুজ সঙ্কেত জোগাড় করতে হতো। দিল্লি থেকে ফর্ম না আসায় সে সব কিছুই করা যায়নি।

বিমান সংস্থাটি জানিয়েছে, মুক্তি পাওয়া ফতোহ-র দুবাই থেকে সদ্য কায়রো যাওয়ার কথা ছিল। কলকাতা থেকে রাতের উড়ানে দুবাই গেলে সেখানে ওই বিদেশিকে ১০ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। এমিরেটস-এর ওই কর্তার কথায়, ‘‘দুবাই বিমানবন্দরে এই ধরনের বন্দিদের বেশি ক্ষণ অপেক্ষা করতে দেওয়া হয়

না। সে ক্ষেত্রে কলকাতা থেকে সকালের উড়ানে দুবাই পৌঁছনোই বাঞ্ছনীয়।’’

বিদেশি নাগরিক আইনে (ফরেনার্স অ্যাক্ট) কলকাতাতেই পুলিশ গ্রেফতার করেছিল ফতোহকে। জেলের নথি বলছে, ১৯৯৫-এর ৯ জুন ওই প্যালেস্তাইনীর কারাজীবন শুরু হয়। জেলকর্তারা জানাচ্ছেন, ভাষা সমস্যার কারণে প্রথম দিকে চুপচাপই থাকতেন ফতোহ। বহু দিন এ রাজ্যে থাকতে থাকতে শেষের দিকে বাংলাটা এক রকম শিখে নিয়েছিলেন। তা দিয়েই কাজ চালাতেন। নির্বিরোধী ওই জেলবন্দির সঙ্গে কারও গোলমাল হওয়া দূরের কথা, বরং জেলের নানা কাজে কয়েদিদের একজোট করতেন ফতোহ। কিন্তু দিনের পর দিন এ রাজ্যের বন্দিদের সঙ্গে থাকার কারণে এক সময় নিজের মাতৃভাষাটাই ভুলতে শুরু করেন। এমনকী সাজা শেষ হয়ে যাওয়ার পরে জেলকর্তারা যখন তাঁর বাড়ির ঠিকানা জানতে চান, তিনি কিছুই বলতে পারেননি বলে জেল সূত্রের খবর। ফলে ২০ বছর আগে জেলে ঢোকার সময় ফতোহ প্যালেস্তাইনের যে ঠিকানা বলেছিলেন, তা আর যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ডিজি (কারা) বলেন, মাসখানেক আগে একটি আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ফতোহর ঠিকানা খুঁজে বার করার ব্যাপারে উদ্যোগী হয়। তারা প্যালেস্তাইন হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। জানা যায়, তাঁর পরিবার থাকে গাজায়। ছবি দেখে ফতোহকে চিহ্নিত করেছে তাঁর পরিবারও। এর পরে বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে যাবতীয় চিঠিচাপাটির কাজ মিটিয়ে বুধবার দুপুরে ফতোহকে প্রেসিডেন্সি জেল থেকে পুলিশের গাড়িতে চাপিয়ে কলকাতা বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই নতুন করে বিপত্তি দেখা দেয়। সংশ্লিষ্ট উড়ান সংস্থা ফতোহকে নিয়ে যেতে অস্বীকার করায় আবার তাঁর ঠাঁই হয়েছে প্রেসিডেন্সি জেলে।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: