২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

জামায়াত নিষিদ্ধ করা সময়ের ব্যাপার ॥ তোফায়েল


জামায়াত নিষিদ্ধ করা সময়ের ব্যাপার ॥ তোফায়েল

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ যুদ্ধাপরাধী রাজনৈতিক সংগঠন জামায়াত নিষিদ্ধ করা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। এজন্য যথাযথ প্রক্রিয়ায় তা করার জন্য সবাইকে ধৈর্য ধরারও পরামর্শ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াত আমির মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদ- সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জামায়াত নিষিদ্ধের বিষয়টা সময়ের ব্যাপার। অপেক্ষা করেন এবং দেখেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু যুদ্ধাপরাধীদের কখনও ক্ষমা করেননি। যারা ওই সময় মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে খুন, ধর্ষণ, হত্যা এবং গুম করেছে সেসব রাজাকারদের বিচার হবেই। কোন ক্ষমা নেই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বড় দুটি অর্জন হচ্ছেÑ বঙ্গবন্ধু হত্যা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা। তিনি ইতিহাসের পাতায় অক্ষয় হয়ে থাকবেন। কেউ ভাবেনি, কিন্তু তিনি তার ডিটারমিনেশনের মধ্য দিয়ে, নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে তিনি এটা করেছেন।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) গঠন করে যুদ্ধাপরাধীদের বহু প্রতীক্ষিত বিচার শুরু হলে যুদ্ধাপরাধী দল হিসেবে জামায়াত নিষিদ্ধের দাবিও জোরালো হয়ে ওঠে। এরই মধ্যে শর্ত পূরণ না করায় হাইকোর্টের আদেশে নির্বাচন কমিশনে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল হয়ে যায়। ফলে বাংলাদেশে নির্বাচনে অংশ নেয়ার অযোগ্য হয়ে পড়ে দলটি। ওই আদেশের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী আপীল বিভাগে গেলেও সেই শুনানি এখনও শুরু হয়নি।

একাত্তরের ভূমিকার জন্য জামায়াতের শীর্ষ নেতারা কখনোই ক্ষমা চাননি, বরং তারা বলে এসেছেন, তাদের সেই অবস্থান সঠিক ছিল। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিভিন্ন মামলার বিচারেও মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতের সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে এসেছে।

মুক্তিযুদ্ধকালীন জামায়াতের আমির গোলাম আযমের যুদ্ধাপরাধ মামলার রায়ে জামায়াতকে একটি ক্রিমিনাল সংগঠন বলা হয়। এরপর বিভিন্ন মহল থেকে দল হিসেবে জামায়াতের যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবি জোরালো হয়ে উঠলে প্রসিকিউশন তদন্তও শুরু করে। কিন্তু ব্যক্তির পাশাপাশি দল বা সংগঠনের বিচারে প্রয়োজনীয় আইনী কাঠামো না থাকায় বিষয়টি এখনও আটকে আছে।

দল হিসেবে জামায়াতের বিচারে প্রস্তাবিত আইন মন্ত্রিসভায় কেন দুই বছর ধরে ঝুলে আছে তা জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অপেক্ষা করেন, ৪৫ বছরে বিচারের কাজ করেছি।

আইনটি নিয়ে সরকারের মধ্যে কোন প্রশ্ন আছে কি-না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, না, আইন হওয়ার ক্ষেত্রে কোন প্রশ্ন আসেনি। এ দেশের জনগণের আদালতে জামায়াতের বিচার হচ্ছে। জামায়াত সম্পর্কে আজ মানুষের কী ধারণা? জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে দিলেন তাহলে কি সব শেষ হয়ে গেল? এটার একটা প্রক্রিয়া আছে। জামায়াত নিষিদ্ধের ব্যাপারটা সময়ের ব্যাপার।

জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হলে জঙ্গিবাদী কার্যক্রম বাড়বে বলে একটি মহলের শঙ্কার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, জামায়াত তো ইতোমধ্যে বিভিন্ন নামে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। যতগুলো জঙ্গী সংগঠন বাংলাদেশের পত্র-পত্রিকায় দেখা যায়, এগুলোর মূলে রয়েছে জামায়াত। বিএনপির লোকও আছে এর মধ্যে। নিজামীর ফাঁসির প্রসঙ্গ টেনে তোফায়েল বলেন, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় এই কঠিন কাজটা করা সম্ভব হয়েছে। আল-বদর বাহিনীর প্রধান এই দেশে মন্ত্রী হয়েছিলেন, এটা কি এই দেশের কেউ ভাবতে পেরেছে! বিচার চলছে, আমরা কলঙ্কমুক্ত হতে চলেছি। বঙ্গবন্ধু নিজেই একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করেছিলেন বলে যে যুক্তি যুদ্ধাপরাধের বিরোধিতাকারীরা দেয়, তা নাকচ করেন এই আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি তাদের ক্ষমা করেননি। আমি বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব ছিলাম। যে আদেশটা গিয়েছিল, তখন মালেক উকিল সাহেব ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ক্লেমেন্সি উইল বি গিভেন টু দোজ, হো আর নট ইনভলভড ইন কিলিং, লুটিং, আরসেনিং এ্যান্ড রেইপ। তাদের বিচারের জন্যই ১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান সংবিধানে রাখা হয়েছে। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ঘাতক দালালদের বিচারে আইন প্রণয়ন করে আদালত গঠন করা হলেও সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সেই উদ্যোগ থেমে যায়। ১৯৭৫ সালের শেষ দিন জেনারেল জিয়াউর রহমান এক সামরিক অধ্যাদেশে দালাল আইন বাতিল করলে, মুক্তি পেয়ে যায় কারাবন্দী যুদ্ধাপরাধীরা। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে তোফায়েল বলেন, জিয়ার আমলে ৩১ ডিসেম্বর ঘুমিয়ে ১ জানুয়ারি ঘুম থেকে উঠে দেখি জেলখানা খালি। ওই জেলের মধ্যে যারা যুদ্ধাপরাধী ছিল, জিয়া তাদের মুক্ত করে দিয়েছিলেন।