১৭ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

মোহামেডান-আবাহনী দ্বৈরথ আজ


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ‘মোহামেডান ও আবাহনীর মধ্যকার খেলা হলে কি হবে, সেই জৌলুস কি আর আছে এ দুই দলের ম্যাচে?’ এখন এ দুই দলের ক্রিকেট ম্যাচের আগে প্রায়ই এমনটি শোনা যায়। এর কারণও আছে। এখন যে ক্রিকেট বোর্ডে এ দুই ক্লাবের কর্মকর্তারাই মিলেমিশে আছেন। তাতে দুই দলের লড়াইয়েও সেই উত্তেজনা আর নেই। সেই মর্যাদার লড়াই, এখন সমর্থকদের মধ্যেও উত্তেজনা তৈরি করে না। যে সমর্থকরাই হচ্ছে খেলার প্রাণ। দর্শক তো মাঠে আসেই না। সমর্থকরা গলাবাজি করে খেলাটাকে একটু চাঙ্গা করে রাখেন। সেই চাঙ্গাভাব দেশের সেরা দুই দলের মধ্যকার, আগের প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের মধ্যে এখন আর নেই। আজ যখন ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগে (ডিপিএল) দুই দল খেলতে নামবে, তখন কি সেই জৌলুস ফিরে আসবে? যতই দুই দলের কর্মকর্তারা বিসিবিতে পরিচালকের ভূমিকায় থাকুক।

এমন প্রশ্ন বারবার উঠছে, উঠবে। সেই প্রশ্নের উত্তরও আজ মিলে যাবে। ম্যাচটি মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সকাল নয়টায় শুরু হবে। যে ম্যাচটিতে বাংলাদেশ জাতীয় টেস্ট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম ও সহঅধিনায়ক তামিম ইকবালের মধ্যকারও লড়াই হবে। তবে এবার লড়াই হবে ওয়ানডে ম্যাচে। মোহামেডানের নেতৃত্বে থাকবেন মুশফিকুর রহীম। আবাহনীর নেতৃত্বে থাকবেন তামিম ইকবাল। একইদিন আরও দুটি ম্যাচ রয়েছে। বিকেএসপিতে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের মুখোমুখি হবে ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব। আর ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব ও লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ লড়াই করবে।

আজ যে তিনটি ম্যাচ হবে, সেই ম্যাচগুলোর মধ্য স্বাভাবিকভাবেই মোহামেডান-আবাহনীর মধ্যকার ম্যাচের দিকে সবার নজর থাকবে। যতই এ দুই দলের ম্যাচের উত্তেজনা কমে যাক, ক্রিকেটারদের মধ্যে তো স্নায়ুচাপ কাজ করবেই। ভেতরে ভেতরে কি আর কোন দলই হারতে চায়? সেই চাপ গিয়ে ক্রিকেটারদের মধ্যে যেমন আগেও পড়ত, এখনও পড়ে। তাতেই খেলাটা আসলে হয়ে ওঠে জমজমাট। তাছাড়া ক্রিকেটারদের মধ্যে নিজেকে ছাপিয়ে যাওয়ার জেদওতো আছে। এমন ম্যাচে যদি নিজেকে তুলে ধরা যায়, তাহলে তো যে কারো নজরেই পড়ার সম্ভাবনাও থাকে। যেটি ভবিষ্যতে অনেক কাজে দেয়। ক্রিকেটারদের এই চেষ্টাই এখন ম্যাচটাকে উত্তেজনায় ভরে দেয়ার সম্বল!

তাছাড়া ম্যাচটিতে মোহামেডানে বেশি করে জিততে চাইবে। পয়েন্ট তালিকায় যে ৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে তারা। আবাহনী পেয়েছে ৬ পয়েন্ট। লীগে যে ১২ দল খেলছে, প্রতিটি দলেরই ৫টি করে ম্যাচ শেষ হয়ে গেছে। আজ শুরু হচ্ছে ষষ্ঠ রাউন্ড। এ রাউন্ডে সুপার লীগের লাইনে চড়া-নামাও শুরু হয়ে যাবে। যে দলগুলো হারবে, তাদের সুপার লীগে ওঠার পথ কঠিন হতে থাকবে। আর যে দলগুলো জিতবে, তারা এক এক করে সিঁড়ি অতিক্রম করতে থাকবে। মোহামেডানের ১০ পয়েন্ট করে নেয়ার সুযোগ আছে। আবাহনীর সুযোগ আছে মোহামেডানের সমান ৮ পয়েন্টে থাকার। যদি মোহামেডানকে হারিয়ে দিতে পারে আবাহনী।

আরেকটি দল আছে, যারাও শীর্ষে চলে যেতে পারে। পঞ্চম রাউন্ডে মোহামেডানের জয় পর্যন্ত শীর্ষেই ছিল প্রাইম দোলেশ্বর। মোহামেডান জেতাতে সমান ৮ পয়েন্ট হওয়াতে দোলেশ্বর পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে চলে যায়। আজ যদি মোহামেডান হারে, আর রূপগঞ্জকে হারিয়ে দেয় দোলেশ্বর, তাহলে আবারও শীর্ষে চলে যাবে দলটি। তবে মজার বিষয় হলো, যদি মোহামেডান ও দোলেশ্বর হারে, তাহলে রূপগঞ্জ চলে যাবে শীর্ষে। মোহামেডান ও দোলেশ্বরের তখন ৮ পয়েন্টই থাকবে। রূপগঞ্জের এখন আছে ৭ পয়েন্ট। দোলেশ্বরকে হারাতে পারলেই হয়ে যাবে ৯ পয়েন্ট। তখন সবাইকে ছাপিয়ে শীর্ষে চলে যাবে রূপগঞ্জ।

রূপগঞ্জকে ছাপিয়ে আবার ভিক্টোরিয়ারও শীর্ষে উঠে যাওয়ার সুযোগ আছে। দলটি যদি আজ প্রাইম ব্যাংককে হারাতে পারে তাহলেই শীর্ষে উঠে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য মোহামেডান, দোলেশ্বরকে হারতে হবে। আর রূপগঞ্জের চেয়েও ভাল ব্যবধানে জিততে হবে ভিক্টোরিয়াকে। তখন ৯ পয়েন্ট হবে ভিক্টোরিয়ারও। আর ভিক্টোরিয়ার প্রতিপক্ষ প্রাইম ব্যাংক জিতলে হবে ৮ পয়েন্ট। এমন এক অবস্থা দেখা যাচ্ছে, মোহামেডান-আবাহনী মর্যাদার লড়াইয়ের দিনে শীর্ষে ওঠার লড়াই যেন সবার মধ্যেই হবে! এখন দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কোন্ দল শীর্ষে উঠতে পারে। আবাহনী ও মোহামেডানের মধ্যকার লড়াই আগের মতো কোন উত্তেজনা ছড়াতে পারে কিনা।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: