১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

উদ্ভট উটের পিঠে কি চলেছে স্বদেশ?


(গতকালের চতুরঙ্গ পাতার পর)

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতারা এবং চরের পীর কী বলছেন দেখুন- ‘গতকাল [৬.৫.১৬] শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর সড়কে বিক্ষোভ সমাবেশে সংগঠনটির ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি এটিএম হেমায়েত উদ্দিন এ হুমকি দেন। ইসলামী আন্দোলন খসড়া শিক্ষা আইনকে ‘নাস্তিক্যবাদী’ ও ‘ইসলামবিরোধী’ বলে অভিযোগ করে গতকাল বিক্ষোভ সমাবেশ করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলের আমির ও চরমোনাইয়ের পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম অভিযোগ করেন, প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পাঠ্যবই থেকে ইসলামী চিন্তা-চেতনার গল্প, রচনা, কবিতা এবং মহানবী (সা.)-এর জীবনচরিত বাদ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘৯২ ভাগ মুসলমানের দেশে এভাবে যে শিক্ষায় নাস্তিক্যবাদ শেখানো হয়, সেই বই আমরা পড়ব না। শুনেছি প্রধানমন্ত্রী নামাজ পড়েন। আমার মনে হয়, তাঁর অগোচরে এসব বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এটা এক বিরাট ষড়যন্ত্র। এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

সংগঠনের সভাপতিম-লীর সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে বলেন, ‘এই শিক্ষানীতি বন্ধ না করলে সরকার পতনের ডাক দেব।’

সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটের সড়ক থেকে বিক্ষোভ মিছিল করেন ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। [প্রথম আলো, ৭.৫.১৬]

আগে উত্তর গেট থেকে জামায়াত নেতারা এ ধরনের বক্তব্য দিতেন। তাদের স্থান নিয়েছেন এখন এরা।

বাংলা নববর্ষে গত বছর কিছু ঘটনা ঘটেছিল। কাউকে ধরতে পারেনি পুলিশ। এবার মেট্রো কমিশনার কীভাবে নিরাপত্তা দিলেন- অনেক রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হলো। কনসার্ট হওয়ার কথা বিকেলে। বলা হলো ৫টার আগে সব সারতে হবে। ভাবুন একবার, দুপুরে তপ্ত রোদে প্রায় শূন্য মাঠে কনসার্ট হলো। ঘর ছেড়ে অনেকেই বেরুলেন না। এই দিন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কিছু ব্যবসা করেন, এবার তাদের ব্যবসা মার খেল। অথচ নববর্ষের অর্থনীতি শক্তিশালী করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বোনাস দিলেন। ইংরেজী নববর্ষে বনানী-গুলশানের সব রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়। এ হলো সে রকম নিদান- মাথা ব্যথা হয়েছে, কেটে ফেল মাথা। নাগরিকদের এ রকম নিরাপত্তা দিতে পারবে পুলিশ। প্যারিসের মতো কোন ঘটনা ঘটলে কী করবে আমাদের পুলিশ-র‌্যাব। নিরাপত্তার কী নতুন থিয়োরি দেবে? প্যারিসের ঘটনার পর ঘটনাস্থলের আশপাশের সড়ক কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ ছিল। তারপর সব খোলা। শুধু তাই নয়, হত্যাকারীদেরও তারা ধরেছে এক এক করে।

পুলিশ এখন এতই শক্তিশালী যে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বা নীতির বিরোধিতা করতে পারে। যেমনটি আগে পারত সেনাবাহিনী।

আপনারা কতজন মফস্বল এলাকা ঘুরে দেখেন জানি না। অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ধর্মের প্রবৃদ্ধিও বাড়ছে। এই ধর্ম ইসলামের আসল মর্মার্থ কতটুকু তুলে ধরছে তা বিতর্কের বিষয়। ভোর চারটা থেকে অনেক এলাকায় মসজিদে মাইক বাজিয়ে সুরা পড়া হচ্ছে। গ্রামবাসীদের তখন জেগে থাকতে হয় এবং ধর্মের এক ভীতি তাদের গ্রাস করে। কিশোরীদের পরনে প্রায় সবারই হিজাব। অনেক স্কুল-কলেজে শিক্ষকরাই মেয়েদের কামিজের ওপর আলগা এ্যাপ্রোন ও হিজাব পরাটা অনেকটা ‘বাধ্যতামূলক’ করে দিচ্ছেন। না, পোশাক নিয়ে আমার কোন সমালোচনা নেই। বাংলাদেশে কয়েক বছর আগেও কিশোরীরা এমনভাবে হিজাব পরত না। মাদ্রাসায় দান বাড়ছে। যেখানে খুশি সেখানে মসজিদ তৈরি করা হচ্ছে। ওয়াজ চলে সারারাত।

মুখ্য বিষয়, পরোক্ষভাবে এই সরকারের সমালোচনা করা। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে যখন জঙ্গী মৌলবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছিলেন তখন এসব প্রকাশ্য ছিল না। (চলবে)