১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

টাকাসহ বিআরটিএ ভুয়া উপ-পরিচালককে হাতেনাতে ধরল মন্ত্রী


টাকাসহ বিআরটিএ ভুয়া উপ-পরিচালককে হাতেনাতে ধরল মন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) আঞ্চলিক কার্যালয়। খুব বেশিদিন হয়নি এখানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তাতে কি। দালালরা তো বসে নেই। তারাও এখানে আসেন। বলতে গেলে যাতায়াত প্রতিদিনের। অফিস করেন নিয়মিত। কখনও ভেতরে। কখনও বা বাইরে। রীতিমতো হর্তাকর্তা। সংশ্লিষ্ট অফিসের অনেক কর্মকর্তা কিংবা যারা এখানে লাইসেন্স বা গাড়ির কাজগপত্র করতে আসেন তাদের সবার কাছেই প্রতিষ্ঠানের উপ-পরিচালক বলে পরিচিতি ছিলেন দালাল লিটন। ধরা ছোয়ার বাইরে তিনি। বিশাল প্রভাব। হুমকি ধমকি দিয়ে অফিসের লোকদের দিয়ে কাজ করাতেন তিনি। বিনিময়ে সাধারণ মানুষদের কাছথেকে টাকা হাতিয়ে নিতেন। এটাই তার মূল পেশা। বিআরটিএ অফিসের অনেক কর্তার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সখ্যতা ছিল। যে কারণে তাকে বলার কিছু ছিল না। কিন্তু অভিযোগ ছিল সরব। সব মিলিয়ে অনেকটা ধরা ছোয়ার বাইরে ছিলেন প্রতারক লিটন। তার সঙ্গে আছে আরো বেশ কয়েকজন সদস্য। তবে তিনিই প্রতারক চক্রের মূল হোতা। এই অভিযোগ ছিল খোদ সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর কাছেও।

বুধবার সকালে অভিযানে বের হন সড়ক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এবার রাস্তায় নয় সরাসরি বিআরটিএর অফিসে। সেখানে কক্ষে কক্ষে ঢুকে মন্ত্রী খুঁজলেন দালাল। টাকার বান্ডিলসহ ধরলেন বিআরটিএর উপপরিচালক পরিচয়দানকারী ভুয়া একজনকে। পরে ওই যুবকের পকেট থেকে বের করলেন নগদ টাকার বান্ডিল। তখন উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও বিআরটিএ কর্মকর্তাদের অনেকেই তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেন। শোনান তার কথিত প্রভাবের কথা। কাজ করে দিতে দেরি হলে এখানকার কর্মচারীদের বদলি করে দেয়া সহ চাকরী খাওয়ার হুমকি দিত লিটন। কখনও বরখাস্ত করারও ভয় দেখাতো। কিন্তু মন্ত্রী তাকে হাতেনাতে ধরার পর লিটন অপরাধের কথা স্বীকার করে মাপ চান। তাকে ছেড়ে দেয়ারও অনুরোধ করেন। যার ক্ষমতার অপব্যবহারের কথা খোদ মন্ত্রী পর্যন্ত জানেন তাকে কি এভাবে ছেড়ে দেয়া যায়? ভ্রাম্যমান আদালতের কাছে লিটনকে সোর্পদ করেন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তারপর তাকে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। এসময় অনেকেই প্রতারক চক্রের দৌরাতেœ্যর কথা তুলে ধরেন মন্ত্রীর কাছে। অনেকের অভিযোগ দালালদের দৌরাত্নের কারণে অফিসে এসে কাজ করা যায় না। তাছাড়া টাকা ছাড়া কোন কাজও হয় না।

এরপর তিনতলা বিআরটিএ অফিসের তিন তলায় গিয়ে কর্মকর্তাদের ফাইল চেক করেন মন্ত্রী। লাইসেন্স নিতে আসা ভুক্তভোগীদের অভিযোগ শুনে আরেক কর্মকর্তাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। বিআরটিএ অফিসে মানুষ সেবা পেয়ে খুশি হয়ে বাড়ি ফিরবেন তা দেখতে চাই। দালাল আর অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের শিকার হয়ে মানুষ বাড়ি ফিরে যাক আমি তা চাই না।

এসময় তিনি আঞ্চলিক কার্যালয়টি আরো বড় করার জন্য বিআরটিএ চেয়ারম্যানের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। পরে মন্ত্রী কেরানিগঞ্জে বিআরটিএ কার্যালয় পরির্দশন করেন।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: