১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন চলে গেলেন না ফেরার দেশে


সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন চলে গেলেন না  ফেরার দেশে

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর(নেত্রকোনা)॥ সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন চলে গেলেন না ফেরার দেশে। বুধবার ভোর সাড়ে তিনটার দিকে ভারতের মুম্বাইয়ের হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) মাইদুল ইসলাম, প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আবদুর রহমান ও তার ভাগ্নে স্যাং , প্রমোদ মানকিনের শ্বশুরবাড়ির গ্রাম মাধবপুরের বাসিন্দা কলেজ শিক্ষক রেমন্ড আরেং, ক্ষুদ্র ণৃ-গোষ্টির কালচারাল একাডেমির পরিচালক উত্তম রিছিল, গবেষনা কর্মকর্তা সৃজন সংামা মন্ত্রীর মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মুম্বাইয়ে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার মেয়ে মালা মারথা। ফুসফুসের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে গত কিছুদিন ধরে মুম্বাইয়ের হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রয়াত এই নেতার পরিবারের সদস্যদের প্রতি জানিয়েছেন সমবেদনা।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের তথ্য ও পরিবারের সদস্যদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এডভোকেট প্রমোদ মানকিন এমপি ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের ১৮ এপ্রিল নেত্রকোণা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার বাকালজোড়া ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত গারো পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা স্বর্গীয় মেঘা তজু এবং মা স্বর্গীয়া হৃদয় শিসিলিয়া মানকিন। তিনি আট ভাই-বোনের মধ্যে পঞ্চম। প্রমোদ মানকিন ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে নটরডেম কলেজ থেকে ব্যাচেলর অব আর্টস (বিএ) ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে ময়মনসিংহ টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে ব্যাচেলর অব এডুকেশন (বি.এড) এবং ময়মনসিংহ ‘ল’ কলেজ থেকে ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে এলএলবি ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য।

ছাত্রজীবন ও কর্মজীবনের শুরু থেকেই তিনি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদানের মাধ্যমে তার সরাসরি সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ। মৃত্যর আগ নাগাদ তিনি হালুযাঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন।

প্রমোদ মানকিন ১৯৯১, ২০০১, ২০০৮, এবং ২০১৩ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ এর সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০০৮ সালে ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে প্রথমে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান, ২০০৯ সালের ১৫ জুলাই থেকে ২০১২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। তারপর ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১২ সাল থেকে সরকারের মেয়াদেও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার জন্মভূমি দুর্গাপুর উপজেলার রামনগর গ্রাম,মাধবপুর গ্রাম,সহ উপজেলার সর্বত্রই সামাজিক,রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে। শোক প্রকাশ করেছেন বিরিশিরি ক্ষুদ্র ণৃ-গোষ্ঠির পরিচালক উত্তম রিছিল, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আলহাজ্ব আলাউদ্দিন আল আজাদ, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ,মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রুহুল আমীন চুন্নু, দুর্গাপুর প্রেসক্লাব সহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: