২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

জলাভূমি সংরক্ষণ


বাংলাদেশের ১৯টি জেলায় প্রায় ৫ হাজার বর্গমাইল এলাকাজুড়ে রয়েছে হাওড়। সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, বৃহত্তর ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, জামালপুর, শেরপুর প্রভৃতি জেলায় রয়েছে আদিগন্ত বিস্তৃত হাওড়। বর্ষাকালে এসব হাওড় পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। সব হাওড়কে উন্নয়নের আওতায় আনা সম্ভব হলে শুধু হাওড় এলাকার মাছ ও ফসল দিয়েই দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রফতানি সম্ভব। তাছাড়া দেশজুড়েই রয়েছে বিল-ঝিল, ডোবা-নালা, পুকুর-দীঘি। এটা অস্বীকার করার নয় যে, স্বার্থান্বেষীরা অর্থনৈতিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে পুকুর-দীঘি, ডোবা-নালা ভরাট করে ফেলছে। এতে পরিবেশও পড়ছে হুমকির মুখে।

মানব শরীরে রক্তপ্রবাহ ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ধমনী। কোন কারণবশত ধমনী যদি অকার্যকর হয়ে যায় তাহলে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখা কঠিন। ঠিক তেমনি একটি দেশকে বাঁচিয়ে রাখে নদ-নদী ও জলাভূমি। সেই নদ-নদী ও জলাভূমি যদি প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারণে দিনের পর দিন ভরাট ও নিশ্চিহ্ন হতে থাকে তাহলে দেশকে বাঁচিয়ে রাখতে বেগ পেতে হয়। বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশ হাওড় ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদফতরের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যথার্থভাবে জলাভূমিগুলোকে নদীমাতৃক বাংলাদেশের লাইফলাইন বা জীবনরেখা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পরিবেশের সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক কল্যাণের লক্ষ্যে এগুলোর ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবহারের যে নির্দেশনা তিনি দিয়েছেন তা সংশ্লিষ্ট মহল গুরুত্বের সঙ্গে নেবেÑ এটাই প্রত্যাশা। উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার ২০১২ সালের ৩ মে হাওড় মাস্টার প্ল্যানের নীতিগত অনুমোদন দেয়। এ পরিকল্পনার আওতায় ১৭টির মধ্যে ৯টি খাতে ২৬টি প্রকল্প নেয়া হয়। এর মধ্যে দুটি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ১৩টির কাজ বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে এবং ১১টির ডিপিপি প্রণয়ন ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। এসব কাজে আরও গতি আনা দরকার।

সুস্থ সুগভীর জলাভূমির সঙ্গে কৃষির যেমন সম্পর্ক রয়েছে, তেমনি রয়েছে জীববৈচিত্র্যের প্রকৃতিসম্মত বিকাশেরও। অথচ আজ জলের অভাবে সঙ্কটাপন্ন বহু জলাভূমি ও তার জীববৈচিত্র্য। ফলে কোথাও কোথাও ব্যাহত হচ্ছে কৃষি উৎপাদন। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও জাতীয় অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে নদীর পর আসে নানা জলাভূমির কথা। হাওড়-বাঁওড়, বিল-ঝিল, ডোবা-নালা, পুকুর-দীঘি ইত্যাদি এক সময় ছিল বিভিন্ন জাতের মাছের খনিস্বরূপ। কিন্তু এখন এসব জলাভূমি সংরক্ষণের অভাবে বিপন্নপ্রায়। ফলে মৎস্যসম্পদও বিপন্ন। তেমনি বিনষ্টির মুখোমুখি পরিবেশের ভারসাম্যও। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা এ ব্যাপারে বারবার কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। তাই জলাভূমি সংরক্ষণের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। দেশ তথা বিশ্ব বাঁচাতে, জীববৈচিত্র্যর ভারসাম্য বজায় রাখতে জলাভূমি সংরক্ষণ আজ বড় বেশি প্রয়োজন।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বিশ্বের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণী আমাদের দেশে রয়েছে। জীববৈচিত্র্য রক্ষার প্রয়োজনীয় সব আইনী কাঠামোও বিদ্যমান। সংবিধানে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকারের বিষয়টিও যুক্ত করা হয়েছে। জলাভূমি ইজারা দেয় ভূমি মন্ত্রণালয়, এর মৎস্য সম্পদের তদারক করে মৎস্য অধিদফতর, বন্য প্রাণী দেখে বন বিভাগ, পানির মান ও পরিবেশ দেখে পরিবেশ অধিদফতর, নৌপথ দেখে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ, সেচ দেখে কৃষি মন্ত্রণালয়। এই সব সংস্থার কাজের মধ্যে কি যথেষ্ট সমন্বয় রয়েছে? জলাভূমি সংরক্ষণের প্রয়োজনে এই সমন্বয় সাধন খুবই জরুরী।