১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

ইসরাইলের সঙ্গে বিএনপির আঁতাত নিয়ে তদন্ত চলছে


ইসরাইলের সঙ্গে বিএনপির আঁতাত নিয়ে  তদন্ত চলছে

কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ ক্ষমতাসীন বর্তমান সরকার উৎখাতে ইসরাইলের সঙ্গে বিএনপির গোপন আঁতাতের বিষয়ে এখন তদন্ত চলছে। কেননা ইসরাইলী গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় আসতে চাইছে বিএনপি। এদিকে ইসরাইলের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে হটিয়ে এমন একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে যাতে ইসরাইলের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা হয়।

ইসরাইলের সঙ্গে বিএনপির আঁতাতের বিষয়ে জানতে চাইলে মঙ্গলবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, আমাদের কাছে এমনও খবর আছে, তারা (বিএনপি) ইসরাইলী গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে বাংলাদেশকে একটি ধর্মান্ধ মুসলিম দেশ হিসেবে উপস্থাপন করে তাদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি হবে। এটা যে কত বড় অপরাধ! আমার মনে হয় এখন সময় এসেছে এসব সাক্ষ্য প্রমাণকে এক জায়গায় করে বাংলাদেশে বিএনপির রাজনীতি করার অধিকার আদৌ আছে কিনা। নৈতিক অধিকারের বাইরে গিয়ে বলব, তাদের কোন অধিকারই নেই। কারণ, তারা অব্যাহতভাবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে যাচ্ছে। আমার মনে হয় প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়ার সময় এসেছে।

ইসরাইলের পত্রিকা জেরুজালেম অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের জন্য ইসরাইল কাজ করছে। ইসরাইলের পররাষ্ট্রনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাফাদি সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোমেসি এ্যান্ড এ্যাডভোকেসির প্রধান মেন্দি সাফাদি সম্প্রতি ভারত সফর করেছেন। তিনি ইসরাইলের সাবেক লিকুদ পার্টির সরকারের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ছিলেন। মোসাদের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা হিসেবেও তিনি পরিচিত। ভারত সফরকালে বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন প্রতিনিধির সঙ্গেও আলোচনা করেছেন সাফাদি।

ভারত সফরকালে বাংলাদেশের বিষয়ে সাফাদি বলেছেন, নির্যাতিত ও জীবন সঙ্কটাপন্ন মানুষের স্বাধীনতার জন্য কাজ করা একটি নৈতিক দায়িত্ব। আর ওসব মানুষের সাহায্যের জন্যই আমি এখানে এসেছি। বাংলাদেশে গত কয়েক বছর ধরে সংখ্যালঘুদের ওপর জাতিগত নির্মূল অভিযান চলছে। এটা অত্যন্ত বাস্তব ঘটনা, ফিলিস্তিনের মতো বানানো বিষয় না। বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যার পাসপোর্টে লেখা থাকে- ইসরাইল ছাড়া বিশ্বের যে কোন দেশ ভ্রমণে অনুমোদিত। মেন্দি সাফাদি বলেন, আমি এ অবস্থার পরিবর্তন করতে চাই।

জেরুজালেম অনলাইনে বাংলাদেশ নিয়ে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খুব শীঘ্রই ইসরাইলীদের জন্য বাংলাদেশের দরজা খুলবে। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার মুসলিম ব্রাদারহুডের সরকার। তারা সংখ্যালঘু হিন্দু ও খ্রিস্টানদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বার্থ সংরক্ষণে বর্তমান সরকারকে হটিয়ে এমন একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে যাতে ইসরাইলের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা হয়।

জেরুজালেম অনলাইনে বাংলাদেশ নিয়ে সর্বশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে ৪ মে। এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে উগ্রবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। সম্প্রতি হিন্দু দর্জি, বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক ও সমকামী অধিকারকর্মী হত্যার উদাহরণ দিয়ে এতে বলা হয়, বাংলাদেশে ইসলামিক স্টেট (আইএস) প্রভাব বিস্তার করছে। আর আইএসের টার্গেট হয়েছে হিন্দু ও খ্রীস্টানরা। আর আইএসের ম্যাগাজিন দাবিকে বলা হয়েছে, খিলাফতের সৈনিকরা বাংলায় তাদের এ্যাকশন চালিয়ে যাবে। এছাড়া ইসলামী রাষ্ট্রের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশে আঞ্চলিক নেতাও মনোনয়ন দেবে আইএস।

মোসাদের শীর্ষ কর্মকর্তা বলে পরিচিত মেন্দি সাফাদির সঙ্গে বাংলাদেশের তিনজন প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এই তিন প্রতিনিধি হলেন, শিপন কুমার বসু, রওশন জাহিদ প্রিন্স ও বিবেক দেব। প্রতিবেদনে এই তিনজনের বিস্তারিত পরিচয় দেয়া হয়নি। তবে তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, নির্বাচনের পর বাংলাদেশ-ইসরাইল সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হবে। এজন্য এখন থেকেই কাজ করতে হবে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু ও খ্রীস্টানদের হত্যা করা হচ্ছে। এছাড়া বিগত জাতীয় নির্বাচনকে জাতিসংঘ স্বীকৃতি দেয়নি। এই সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিক দল ‘পিএনবি’ মোসাদ ও মেন্দি সাফাদের সাহায্য চেয়েছে। তবে প্রতিবেদনে পিএনবি বলা হলেও বিএনপির নামই ভুল করে পিএনবি বলা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, ইসরাইলের সঙ্গে বিএনপির আলাপের বিষয়ে ইতোমধ্যেই সরকার থেকে তদন্ত করা হচ্ছে। বিশেষ করে দিল্লীতে গিয়ে মেন্দি সাফাদির সঙ্গে বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে আরও খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। ইসরাইলের সঙ্গে বাংলাদেশের কোন কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের কোন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করাটা বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী হিসেবেই বিবেচনা করছে সরকার।

ইসরাইলে গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে বিএনপির বৈঠকের বিষয়ে মঙ্গলবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, বিএনপির সাথে মোসাদের বৈঠকের অনেক তথ্যই আমাদের কাছে আছে। যেগুলো জোড়া দিলে আগামী কালই বিএনপিকে নিষিদ্ধ করতে পারে সরকার।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সবসময় যোগাযোগ রক্ষার করার চেষ্টা করছে। ইসরাইলের বাইরে পৃথিবীর সব রাষ্ট্রের সঙ্গেই আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে। তবে এসব চক্রান্তে বিএনপি- জামায়াত অতীতেও সফল হয়নি, ভবিষ্যতেও পারবে না।

ইসরাইল-বাংলাদেশ সম্পর্ক বিষয়ে শাহরিয়ার আলম বলেন, বিএনপির সঙ্গে বৈঠকের কারণে ইসরাইলের কাছে ধরণা দেয়ার কিছু নেই। কেননা ইসরাইল নির্বিচারে ফিলিস্তিনে মানুষ হত্যা করছে। ফিলিস্তিন দখল করে রেখেছে। সেখানকার মানুষকে নাগরিক অধিকার দিচ্ছে না। আমরা সবসময় একটা স্বাধীন সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র দেখতে চাই। সেখানে দাঁড়িয়ে ইসরাইলের সঙ্গে কোন ধরনের সম্পর্কে যাওয়ার চিন্তাই করি না আমরা।

খালেদা জিয়ার পক্ষে পাকিস্তানের ওকালতি ॥ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক দরবারে ওকালতি করছে পাকিস্তান। খালেদা জিয়া, যিনি একাধিকবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। পাকিস্তান তার হয়ে আন্তর্জাতিক দরবারে ওকালতি করছে। এটা তাৎপর্যপূর্ণ। জামায়াতের মুখোশ আগেই উন্মোচিত হয়েছে, যতই দিন যাচ্ছে বিএনপির মুখোশও উন্মোচিত হচ্ছে। তারা অব্যাহতভাবে বাংলাদেশকে বিব্রত করার জন্য, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে যাচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, কমনওয়েলথ মিনিস্টারিয়াল এ্যাকশন গ্রুপের (সিমেগ) বৈঠকে পাকিস্তান খালেদার পক্ষে ওকালতি করছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সে বৈঠকে আমরা উপস্থিত ছিলাম না, অন্য যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের থেকে সত্যতা পেয়েছি। এতে প্রতীয়মাণ হয়, বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন না পেয়ে তারা বিদেশীদের ওপর নির্ভর করা শুরু করেছে।

শাহরিয়ার আলম বলেন, বর্তমান রাজনীতি প্রমাণ করে বিএনপি-জামায়াতের ওপর বাংলাদেশের মানুষের আস্থা নেই। আর বিএনপির এসব কর্মকা- প্রমাণ করে বাংলাদেশের মানুষের ওপর তাদেরও আস্থা বা বিশ্বাস নেই। তিনি বলেন, তাদের ভবিষ্যত এদেশের মানুষের ওপর নির্ভর করছে না। তারা মনে করছে, তাদের ভবিষ্যত নির্ভর করছে সেইসব রাষ্ট্রের ওপর যাদের সঙ্গে তারা যোগাযোগ রক্ষা করে বাংলাদেশের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। আমার মনে হয়, কেউ যুদ্ধাপরাধী দল হিসেবে বিএনপিকে নিষিদ্ধ করার দাবি করলে, সেটা মোটেও অযৌক্তিক হবে না।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে কমনওয়েলথ মিনিস্ট্রিয়াল এ্যাকশন গ্রুপের বৈঠকে খালেদা জিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তাব তুলেছিল পাকিস্তান। তবে অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিরা পাকিস্তানের ওই প্রস্তাব নাকচ করে দেয়।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: