২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

হার মানিয়েছে সব ইতিহাস


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের ইতিহাসে অন্যতম সাফল্য পেয়েছে এবার লিচেস্টার সিটি ফুটবল ক্লাব। ১৮৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ ক্লাবটি পরিচিত ‘দ্য ফক্সেস’ নামে। কিন্তু ১৩২ বছরের ইতিহাসে এতটা আনন্দের দিন আসেনি কখনও। ইতালিয়ান কোচ ক্লদিও রানিয়েরি এবার সেই অবিস্মরণীয় সাফল্য এনে দিয়েছেন। ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে লিচেস্টার। অথচ ২০০৮-০৯ মৌসুমেও তৃতীয় বিভাগে খেলতে হয়েছে তাদের। দ্বিতীয় বিভাগে যাওয়া-আসা ছিল অহরহ। সেই দলটি এবার এমন চমক জাগানিয়া সাফল্য পেয়ে এক রূপকথারই জন্ম দিয়েছে। বিশ্বক্রীড়ার ইতিহাসে এমন রূপকথার মতো কীর্তির অভাব নেই। সেরা সেসব রূপকথাকে হার মানিয়ে দিয়েছে লিচেস্টার কীর্তি। ক্রীড়াজগতের সেরা ৫টি অবিস্মরণীয় ঘটনা এখানে জানানো হলো:

নটিংহ্যাম ফরেস্ট (১৯৭৭-৭৯) ॥ ব্রায়ান ক্লাফের দলটি ছিল নিশ্চিতভাবেই অলৌকিক! তাদের অর্জনটা লিচেস্টারের বর্তমান সাফল্যকে প্রায় ছুঁয়ে ফেলে। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ্য, লিচেস্টারের মালিকপক্ষের আছে বিলিয়ন ডলার। কিন্তু সে সময় নিজেদের তহবিল বাড়ানোর জন্য নটিংহ্যামকে করতে হয়েছে মাখন ও মদ বিক্রি। সেটা করেও ক্লাফের দল ফুটবল লীগ চ্যাম্পিয়নশিপ প্রথমবারের মতো জিতেছিল ৪ ম্যাচ বাকি থাকতেই। এরপর টানা দুটি ইউরোপিয়ান কাপ। বব পেইসলির দুর্দমনীয় লিভারপুলের একক আধিপত্য খর্ব করে দিয়েছিল নটিংহ্যাম। সে সময়কার বার্সিলোনা হয়ে উঠেছিল লিভারপুল। এক মৌসুমে টানা ৪২ ম্যাচ জেতার রেকর্ড গড়েছিল নটিংহ্যাম।

মোহাম্মদ আলী (১৯৭৪) ॥ ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরোধিতা করে বিশ্বসেরা মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী বক্সিং রিং থেকে তিন বছর সরে ছিলেন। ফেরার পর তিনি জো ফ্রেজিয়ার ও কেন নর্টনের কাছে হেরে যান। অথচ সবাই ভাবতেন আলী ছাড়া আর কারও ক্ষমতা নেই জর্জ ফোরম্যানকে হারানোর। ফোরম্যান মাত্র দুই রাউন্ডের মধ্যেই নির্বিচারে মেরে হারিয়ে দিয়েছিলেন নর্টন ও ফ্রেজিয়ারকে। কিন্তু আলী ‘রোপ এ ডোপ’ ও ‘রাম্বল ইন দ্য জাঙ্গল’ কৌশল দিয়ে জায়ারেতে এক কঠিন লড়াইয়ের পর অষ্টম রাউন্ডে নকআউট করেন অপ্রতিরোধ্য ফোরম্যানকে। ৩২ বছর বয়সে পুনরুদ্ধার করেন হেভিওয়েট শিরোপা।

ডেনমার্ক (১৯৯২ ইউরো) ॥ সিভিল ওয়ারের কারণে এক সপ্তাহের নোটিসে যুগোশ্লাভিয়া ১৯৯২ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপস থেকে নিষিদ্ধ হয়। সেবার বাছাইয়ে ডেনমার্ক তাদের গ্রুপে হয়েছিল রানার্সআপ, যুগোশ্লাভরা হয়েছিল চ্যাম্পিয়ন। শেষ পর্যন্ত সেই ডেনমার্কই চ্যাম্পিয়ন হয় ইউরোতে। জার্মানির বিরুদ্ধে গোলরক্ষক পিটার শ্মেইখেল ছিলেন দুর্ভেদ্য এবং জন জেনসেন ও কিম ভিলফোর্টের গোলে জয় ছিনিয়ে নেয় ডেনিশরা।

বরিস বেকার (উইম্বলডন, ১৯৮৫) ॥ ১৯৮৫ সালের জুনে লন্ডনের কুইন্স ক্লাবে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী গ্র্যান্ডসøামের ওয়ার্ম আপে যখন ১৭ বছর বয়সী একেবারে তরতাজা নতুন এক কিশোর ঘাসের কোর্টে জিতে যান তখনই বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছিল। সবাই বলাবলি করছিল এই ছেলেটিই উইম্বলডন জিতবে। গণমাধ্যমগুলোও সেটাই লিখেছিল। মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যেই বিস্ময়কর ও কাকতালীয়ভাবে সে কথাটি অক্ষরে অক্ষরে ফলে গেল। অবাছাই বরিস বেকার শেষ পর্যন্ত জিতে গেলেন। যদিও ফাইনালে কেভিন কারেনের বিরুদ্ধে দারুণ সংগ্রাম করতে হয়েছিল। এই দক্ষিণ আফ্রিকান জিতে যান জিমি কনর্স ও জন ম্যাকেনরোর বিরুদ্ধেও। এ এক আশ্চর্য রূপকথা, সেটাই বাস্তব করেছিলেন বেকার।

বব চ্যাম্পিয়ন (গ্র্যান্ড ন্যাশনাল, ১৯৮১) ॥ ১৯৭৯ সালেই অ-কোষে ক্যান্সার শনাক্ত হয়েছিল ইংলিশ জাম্প রেসিং জকি বব চ্যাম্পিয়নের। বলা হয়েছিল বড় জোর ৬ থেকে ৮ মাস আর পৃথিবীর আলোয় বেঁচে থাকবেন। তখন সবেমাত্র আবিষ্কার হয়েছিল কঠিন বেদনাদায়ক কেমোথেরাপি পদ্ধতি। সেটা গ্রহণ করে এক বছরের মাথায় আবারও ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হন বব। এরপর সাড়ে চার মাইল দীর্ঘ বিশ্বের সবচেয়ে সেরা স্টিপলচেজের কোর্স আনিট্রিতে জিতে যান তিনি। যে ঘোড়া ব্যবহার করতেন সেটাও নানাবিধ ইনজুরি ও অসুস্থতার কারণে সবসময় চিকিৎসার মধ্যেই ছিল। কিন্তু এরপরও ১৯৮১ সালে গ্র্যান্ড ন্যাশনাল জিতে নেন বব। এখন ৬৭ বছর বয়সে সেই বব ক্যান্সার চিকিৎসা ও গবেষণার জন্য তহবিল গঠনে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।