১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

সিমোনার স্বপ্ন, প্রত্যাশা


শৈশব পেরুতে না পেরুতেই টেনিস খেলতে আগ্রহী হয়ে পড়েন সিমোনা হ্যালেপ। ছয় বছর বয়সে তো টেনিস কোর্টে নিয়মিতই অনুশীলন শুরু করে দেন রোমানিয়ার এই প্রতিভাবান বালিকা। সেই হ্যালেপই গত কয়েক মৌসুম ধরে টেনিস বিশ্বের আলোচিত নাম। ২০১৪ সালে ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালেও জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে রাশিয়ান তারকা মারিয়া শারাপোভার কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় হ্যালেপের। তারপরও দমে যাননি পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি উচ্চতার এই এ্যাথলেট।

টেনিস কোর্টে নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টা সবসময়ই করেছেন তিনি। তারই ফলস্বরূপ দীর্ঘদিন পর আবারও শিরোপার দেখা পেলেন সিমোনা হ্যালেপ। শনিবার মাদ্রিদ ওপেনে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি। এদিন তিনি ৬-২ এবং ৬-৪ সেটে ডোমিনিকার সিবুলকোভাকে হারিয়ে মাদ্রিদ ওপেনের শিরোপা জিতেন রোমানিয়ার এই টেনিস তারকা। চলতি মৌসুমে এটিই তার প্রথম ট্রফি। শুধু তাই নয়, গত এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটাই তার প্রথম কোন শিরোপা অর্জন। তবে স্পেনের রাজধানীর এই টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দুর্দান্ত পারফরমেন্স উপহার দেন হ্যালেপ। মাদ্রিদ মাস্টার্সের ফাইনালেও তার পারফর্ম ধরে রেখেছেন। প্রথম সেটে মাত্র আধাঘণ্টার ঝড়ে সিবুলকোভাকে উড়িয়ে দেন তিনি। এরপর দ্বিতীয় সেটের প্রথম গেমেই ব্রেক পয়েন্ট নিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করেন এই রোমানিয়ান। গত বছর ইন্ডিয়ান ওয়েলসে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন হ্যালেপ। তার পর মাদ্রিদ ওপেনেই প্রথম শিরোপা জিতেন তিনি।

স্পেনের এই টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতে সিমোনা হ্যালেপ দারুণ রোমাঞ্চিত। ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে হ্যালেপ বলেন, ‘মাদ্রিদ ওপেনে চ্যাম্পিয়ন হতে পেরে আমি সত্যিই খুব আনন্দিত। প্রকৃতপক্ষে এটা আমার জন্য বিশেষ এক অর্জন। এই মুহূর্তটা আমার কাছে অন্যরকম।’ স্পেনের এই টুর্নামেন্টে নিজের দেশের টেনিসভক্তদের সমর্থন পান হ্যালেপ। জনতার ভীড়ে নিজের দেশের পতাকা উড়তে দেখতে পান তিনি। যা ২৪ বছর বয়সী এই রোমানিয়ান তারকার কাছে বিশেষ সম্মানের। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মাদ্রিদ মাস্টার্সে অসংখ্য রোমানিয়ানরা খেলা দেখতে আসে। যে কারণে আমার কাছে এটাকে নিজের বাড়ির টুর্নামেন্ট বলেই মনে হয়। এখানে আসা সব রোমানিয়ানরাই আমাকে দারুণভাবে সমর্থন করেন। ভীড়ের মাঝে আমার দেশের পতাকা দেখতে পাই। আমার কাছে এটা অনেক কিছুই।’

এই টুর্নামেন্টে হ্যালেপের মতো দুর্দান্ত খেলেই ফাইনালে জায়গা করে নেন ডোমিনিকা সিবুলকোভা। ভেবেছিলেন শিরোপার লড়াইটা বেশ জমজমাটই হবে। হ্যালেপও মনে করেছিলেন সিবুলকোভার বিপক্ষে জিততে হলে ঘাম ঝড়তে হবে তার। কিন্তু সেই তুলনায় সহজেই শিরোপা নিজের করে নিয়েছেন হ্যালেপ। ম্যাচ শেষে ফ্রেঞ্চ ওপেনের সাবেক ফাইনালিস্ট হ্যালেপ বলেন, ‘ধরেই নিয়েছিলাম ম্যাচটা আরও কঠিন হবে। তার অসাধারণ শটের বিপক্ষে ভেবেছিলাম আমাকে অনেক লড়াই করতে হবে। কিন্তু কোর্টে আমার পা বেশ শক্তই ছিল। বলতে পারি যে তার বিপক্ষে আমার নিজের খেলাটা বেশ ভালভাবেই খেলতে পেরেছি।’ আগামী ১৬ মে থেকে শুরু হবে ফ্রেঞ্চ ওপেন। মৌসুমের দ্বিতীয় গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্টের আগে মাদ্রিদের এই জয় স্বাভাবিকভাবেই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস জোগাবে হ্যালেপকে। তবে ফ্রেঞ্চ ওপেনের আগে মাদ্রিদে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন বুনেছিলেন সিবুলকোভাও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হতে দিলেন না হ্যালেপ। তবে ডোমিনিকান তারকা স্বীকার করে নিয়েছেন যে, প্রতিপক্ষ ভাল খেলেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। সিবুলকোভা বলেন, ‘রোঁলা গ্যাঁরোয় যাওয়ার আগে কিছুটা বিশ্রাম এবং প্রস্তুতিটা ভালভাবে সেরে নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু প্রতিপক্ষ আসলেই খুব ভাল খেলেছে। সেই যোগ্য চ্যাম্পিয়ন।’ দুই বছর আগে মাদ্রিদের ফাইনালে উঠেও রুশ সুন্দরী মারিয়া শারাপোভার বিপক্ষে হেরে স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় ডুবেছিলেন হ্যালেপ। এবার সেই আক্ষেপ ঘুচল রোমানিয়ান তারকার। শুধু তাই নয়, ক্যারিয়ারের ১২তম শিরোপা জয়ের পর টেনিস র‌্যাংকিংয়েও অগ্রগতি হয়েছে তার। দুই ধাপ অগ্রগতি হয়েছে হ্যালেপের। বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের সপ্তম স্থান থেকে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছেন তিনি। তবে মাদ্রিদ মাস্টার্স থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয়া সেরেনা উইলিয়ামস যথারীতি র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছেন। তবে মাদ্রিদে নিজের প্রথম ম্যাচে হেরেও র‌্যাঙ্কিংয়ে অগ্রগতি হয়েছে এ্যাঞ্জেলিক কারবারের। যিনি চলতি মৌসুমেই ক্যারিয়ারের প্রথম মেজর শিরোপা জয়ের স্বাদ পান। পোল্যান্ডের এ্যাগ্নিয়েস্কা রাদওয়ানস্কাকে হরিয়ে র‌্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের চ্যাম্পিয়ন কারবার। তবে স্প্যানিশ টেনিস তারকা গারবিন মুগুরুজা যথারীতি চতুর্থস্থানটা দখল করে রেখেছেন। র‌্যাঙ্কিংয়ে ব্যাপক উন্নতি করেছেন হ্যালেপের কাছে হার মানা সিবুলকোভাও।

জানিয়ে রাখা ভাল যে, এবারের এই মাদ্রিদ শিরোপা জেতার পথে টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশে থাকা কোন খেলোয়াড়েরই মুখোমুখি হতে হয়নি সিমোনা হ্যালেপকে। মাদ্রিদ ওপেন শুরুর আগেই পুরোপুরি ফিট না হওয়ায় টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেন বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ তারকা সেরেনা উইলিয়ামস। গত বছরটা আমেরিকান তারকার দারুণ কাটলেও চলতি মৌসুমে একেবারেই নিস্প্রভ তিনি। তবে ফ্রেঞ্চ ওপেনের আগেই টেনিস কোর্টে ফেরার প্রত্যয় সেরেনার। ২১টি গ্র্যান্ডসøামজয়ী এই টেনিস কিংবদন্তির পর ইনজুরির কারণে মাদ্রিদ ওপেনের মাঝপথেই সরে দাঁড়িয়েছেন বেলারুশ সুন্দরী ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা। এছাড়া লজ্জাজনকভাবে হেরে স্পেনের রাজধানীর এই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছেন পোল্যান্ডের এ্যাগ্নিয়েস্কা রাদওয়ানস্কা, স্বাগতিক তারকা গারবিন মুগুরুজা এবং অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের চ্যাম্পিয়ন এ্যাঞ্জেলিক কারবার।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: