২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দুই এমপিকে তলব করে সতর্ক করে দিলেন ও. কাদের


বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দ্বন্দ্ব-সংঘাতে জড়িত দলের দুই এমপি আসলামুল হক আসলাম ও সাবিনা আক্তার তুহিনকে তলব করে সতর্ক করে দিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। নিজেদের মধ্যে গ্রুপিংয়ের ঘটনায় সংঘর্ষের ফল যে ভাল হবে না- প্রধানমন্ত্রীর সেই সতর্কবার্তা দুই এমপিকে সাফ জানিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।

সোমবার সন্ধ্যায় ধানম-িতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে উভয় গ্রুপকে ডেকে নেন ওবায়দুল কাদের। সূত্র জানায়, সেখানে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ওবায়দুল কাদের দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ তুলে ধরে বলেন, ‘নেত্রী (শেখ হাসিনা) গতকালই (রবিবার) আমাকে বিষয়টি নিয়ে বসার নির্দেশ দেন। নেত্রী নিজেই আমাকে বলেছেন, ওদের মেসেজ দাও, তারা যদি এই ধরনের কর্মকা- করে তাহলে আগামীতে কাউকেই মনোনয়ন দেব না। আমার কাছে তথ্য আছে, ওখানে কি ঘটনা ঘটেছে, কারা এর সঙ্গে জড়িত সব তথ্যই জানা আছে। তুমি শুধু তাদের ডেকে একটা কথা বল, এই ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে। দল করলে নিয়ম মেনে চলতে হবে। প্রকাশ্যে মানুষকে দেখিয়ে যদি এগুলো হয় তাহলে এটা মেনে নেয়া হবে না।’

এ সময় ওবায়দুল কাদের বলেন, অন্যায় কে করেছে তার তথ্য কিন্তু নেত্রীর কাছে আছে। ফ্রি-স্টাইলে দলকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অধিকার কারও নেই। কারণ এই ঘটনা তো সারাদেশেই জেনে গেছে যে, এমপি আসলামের সঙ্গে তুহিনের গ-গোল। দুই এমপির গ্রুপিংয়ে তো দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়েছে, এতে তো দল ছোট হয়েছে, নেত্রী বিচলিত হয়েছেন। এসব আমরা আর হতে দেব না।

এ ব্যাপারে উভয় পক্ষকে সতর্ক করে দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ ধরনের ঘটনা যাতে আর প্রকাশ্য রাস্তায় না ঘটে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আমাদের কার্যালয় আছে। নেত্রীর গণভবন আছে। অভিযোগ করার জন্য নেত্রী তো আছেন, আমরা আছি।

বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, সময়টা কি? এখন বিএনপি আন্দোলন ও নির্বাচনে ব্যর্থ হয়ে চারদিক থেকে লেগেছে। এখন ওরা চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছে। আর আমরা নিজেদের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটিয়ে বিরোধী পক্ষের হাতে রসদ তুলে দিচ্ছি। তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিচ্ছি। প্লিজ, এই অস্ত্র তুলে দেবেন না।

এ সময় সংসদ সদস্য আসলামুল হক আসলাম এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিন বৈঠকে কথা বলতে দাঁড়িয়ে যান। উচ্চৈঃস্বরে এমপি তুহিন বলেন, ‘আসলাম ভাই আমাকে দেখেই এই ঘটনা ঘটিয়েছে।’ জবাবে এমপি আসলাম বলেন, আমি তো ছিলামই না, আমি এটা করতেও বলিনি। এতে সভায় কিছুটা উত্তেজনা দেখা দেয়। এমপি তুহিনের সমর্থকরা এমপি আসলামকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন প্রশ্ন ছুড়লে ওবায়দুল কাদের চরম বিরক্তি প্রকাশ করে কক্ষ ত্যাগ করেন। এরপর এমপি আসলাম ও তুহিনসহ তাদের সমর্থকরা ধানম-ির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয় ত্যাগ করে চলে যান।

বৈঠকে ওবায়দুল কাদের ছাড়াও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, কেন্দ্রীয় নেতা এনামুল হক শামিমসহ ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, রবিবার রাজধানীর মিরপুরে আওয়ামী লীগের দুই সংসদ সদস্য আসলামুল হক আসলাম ও সাবিনা আক্তার তুহিনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত ১৮ জন আহত হন। জামায়াতের ডাকা হরতালবিরোধী কর্মসূচী চলার সময় দুই পক্ষে এই সংঘর্ষ হয়।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: