২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ঢাকা নগরীর আয়তন দ্বিগুণ হলো


ঢাকা নগরীর আয়তন দ্বিগুণ হলো

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ দ্বিগুণ হলো ঢাকা নগরীর আয়তন। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে নতুন করে ১৬ ইউনিয়ন যুক্ত করেছে সরকার, যার মধ্য দিয়ে দুই সিটির মিলিত আয়তন বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। নতুন করে ১৬ ইউনিয়ন যুক্ত হওয়ায় ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের এলাকার আয়তন ১২৯ বর্গকিলোমিটার থেকে বেড়ে ২৭০ বর্গকিলোমিটারে গিয়ে দাঁড়াল। তবে দক্ষিণের চেয়ে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আয়তন বাড়ল বেশি।

সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় এ প্রস্তাব অনুমোদন পায়। ১৬ ইউনিয়ন সিটি কর্পোরেশনের আওতায় আসায় এখানকার প্রায় ১০ লাখেরও বেশি মানুষ এ দুটি সিটি কর্পোরেশনের আওতায় এলো। তবে এর ফলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আয়তন ও জনসংখ্যা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তুলনায় বেশিই থাকছে।

প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী ঢাকা মহানগর সম্প্রসারণের আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে সম্প্রসারিত এলাকার নক্সা সরকারের শীর্ষপর্যায়ে রয়েছে। তবে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের আয়তন দ্বিগুণ হলেও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সমান হবে না। ৩২৯ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে গাজীপুরই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সিটি কর্পোরেশন এলাকা।

সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের জানান, ঢাকা মহানগরের চারপাশের ১৬টি ইউনিয়নকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে মার্জ করে দেয়া হয়েছে। উত্তর সিটি কর্পোরেশনে আটটি ইউনিয়ন এবং দক্ষিণে আটটি ইউনিয়নকে যুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন করে যুক্ত হওয়া ইউনিয়নগুলোর ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস করে সেখানে নির্বাচন দেয়া হবে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে যুক্ত হওয়া আট ইউনিয়ন হলোÑ বেরাইদ, বাড্ডা, ভাটারা, সাঁতারকূল, হরিরামপুর, উত্তরখান, দক্ষিণখান ও ডুমনি (খিলক্ষেত)। আর ঢাকা দক্ষিণে যুক্ত হওয়া আট ইউনিয়ন হলো- শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল, সারুলিয়া, ডেমরা, মান্ডা, দক্ষিণগাঁও ও নাসিরাবাদ। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, নতুন করে ১৬টি ইউনিয়ন যুক্ত হওয়ায় ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের এলাকার আয়তন ১২৯ বর্গকিলোমিটার থেকে বেড়ে ২৭০ বর্গকিলোমিটার হবে। তিনি বলেন, ২০০১ সালের হিসাব অনুযায়ী এ ১৬টি ইউনিয়নের জনসংখ্যা ১০ লাখের মতো। তবে বর্তমানে আরও বেশি মানুষ সেসব এলাকায় বসবাস করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুটি সিটি কর্পোরেশনেই আটটি করে ইউনিয়ন যুক্ত হওয়ায় আয়তনের দিক থেকে দুটিই দ্বিগুণ আকার ধারণ করল। স্বাভাবিকভাবে বেড়েছে জনসংখ্যাও। আয়তন বৃদ্ধির ফলে ঢাকা উত্তরের জনসংখ্যা দাঁড়াবে ১ কোটি ৬ লাখ ২৭ হাজার ১৭ জনে আর দক্ষিণের জনসংখ্যা হবে ৭৫ লাখ ৫৮ হাজার ২৫ জন। দুই সিটি কর্পোরেশন মিলে ঢাকার জনসংখ্যা দাঁড়াবে এক কোটি ৮১ লাখ ৮৪ হাজার ৪১। তবে জনসংখ্যার এই হিসাব ২০১১ সালের আদমশুমারির ভিত্তিতে করা। এরপর পাঁচ বছরেরও বেশি সময় কেটে গেছে। ধারণা করা যায়, এই সংখ্যা দুই কোটি ছাড়িয়ে গেছে।

জনসংখ্যার বিচারে দুই সিটি কর্পোরেশনের আয়তন বাড়ানো হলেও অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, বর্তমান আয়তন ও জনসংখ্যা নিয়েই যেখানে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে আয়তন দ্বিগুণ করে দুই সিটির নাগরিককে সেবা দিতে তারা কতটুকু প্রস্তুত? তাদের মতে, সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান কাঠামো ও ক্ষমতা বজায় রেখে আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার কাজটি কিছুটা হলেও অসম্ভবই হবে। ঢাকা শহর ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের মূল সমস্যা সেবামূলক সংস্থাগুলোর সমন্বয় না থাকায় বাড়তি এই আয়তন নিয়ে কিছুটা সমস্যাই পড়তে হবে দুই নগরপিতাকে।

তবে নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, শহুরে আবহের ভেতর গ্রামীণ চরিত্র থাকাটা মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই সিটি কর্পোরেশনের আওতায় ইউনিয়নগুলোকে নেয়াটা ভালই হয়েছে। তবে সংবিধানে সুস্পষ্ট বিধান থাকার পরও স্বাধীনতার ৪৪ বছরে রাজধানীর সীমানা নির্ধারণ করতে না পারার ব্যর্থতার সমালোচনা করছেন কেউ কেউ। তাঁদের মতে, স্বাধীনতার ৪৪ বছরেও নির্ধারণ করা যায়নি রাজধানীর সীমানা। একেক সংস্থা একেকভাবে এর সীমানা ধরে নিচ্ছে। এতে রাজধানীকে নিয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন ব্যাহত হচ্ছে বলেই মনে করছেন তাঁরা।

২০১১ সালের ২৯ নবেম্বর পূর্ববর্তী ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। নতুন আইন অনুযায়ী ৪ ডিসেম্বর ২০১১ থেকে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে দুটি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়, যা কার্যকর হয় ২০১২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি। জানা গেছে, নতুন যুক্ত হওয়া ওই ১৬টি ইউনিয়ন সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। এসব ইউনিয়নের বাসিন্দারা নগরের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করলেও কাগজে-কলমে গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

এ ১৬টি ইউনিয়নকে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় গত সাত-আট মাস ধরেই কাজ করে আসছিল। গত বছরের ৭ অক্টোবর সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সাতটি ইউনিয়নকে সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ঢাকা জেলা প্রশাসন ১৬টি ইউনিয়নকে সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: