২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

আইসিডিডিআরবি ভবন ব্র্যাককে দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ


আইসিডিডিআরবি ভবন ব্র্যাককে দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ রোগীদের জন্য তৈরি করা ১০ তলা ভবনের কিছু অংশ এক টাকার বিনিময়ে কেন ‘ব্র্যাক’কে দেয়া হলো তা জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া তিনি বলেন, জয়কে নিয়ে বেগম জিয়া যে কথা বলেছেন তার প্রমাণ তাকেই করতে হবে। পাশাপাশি সব ধরনের সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলে নতুন করে একটি আইন করছে সরকার, যা অমান্যে শাস্তিরও সুপারিশ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল আইন-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সচিবালয়ে সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভা বৈঠকে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল আইনের খসড়াটি উপস্থাপন করা হলে প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত ’৯৬-এর আমলে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিলে মানুষের অসহায় অবস্থা জেনে আমি আইসিডিডিআরবিতে যাই। সেখানে দেখি ব্যাপক রোগী তাঁবুর নিচে সেবা নিচ্ছে। রোগীদের এ দুরবস্থা দেখে ১০ তলা একটি ভবন নির্মাণ করে দেই। সেই ভবন থেকে কয়েকটা ফ্লোর এক টাকার বিনিময়ে কেন ‘ব্র্যাক’কে দেয়া হলো। সরকারী টাকায় করা এ ভবনের ফ্লোর একটি এনজিও কিভাবে পায়? প্রধানমন্ত্রীর এ প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে বলতে হবে। এ সময় সচিব বলেন, বিষয়টি দেখা হচ্ছে। অবিলম্বে এর চুক্তি বাতিল করা হবে।

মন্ত্রিসভার সিনিয়র এক সদস্য জয়ের বিরুদ্ধে বিএনপির দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গটি তোলেন। সিনিয়র ওই মন্ত্রী বলেন, বিএনপির উদ্দেশ্য হলো জয়কে দুর্নীতিবাজ তারেক জিয়ার কাতারে নামিয়ে আনা। এ লক্ষ্যে তারা যা খুশি তাই বলে যাচ্ছে। তারা মনে করছে, এগুলো বলতে থাকলে মানুষ একদিন বিশ্বাস করলেও করতে পারে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে যখন দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়, তখন এফবিআই আমার এবং জয়ের এ্যাকাউন্ট খোঁজে। তারা দেখে যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের নামে কোন এ্যাকাউন্ট আছে কি-না, থাকলে তাতে কী পরিমাণ টাকা আছে বা লেনদেনের অবস্থা কী? শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, দেশে-বিদেশে আমাদের এ্যাকাউন্ট খোঁজ করে। সেখানে কিছু না পেয়ে আমাদের ওপর কোন দোষ চাপাতে পারেনি। শফিক রেহমানের বাসার কাগজপত্র থেকে এর প্রমাণ মিলেছে। তিনি বলেন, এখন বেগম জিয়া যখন দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন, দুর্নীতির প্রমাণ তাকেই করতে হবে। তা না হলে জনগণ যা বোঝার তা বুঝবে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ম্যালেরিয়া নিয়ে ১৯৭৭ ও ১৯৭৮ সালের দুটি আইন ছিল। এ দুটি আইন বিলুপ্ত করে নতুন করে একটি আইন হচ্ছে। আগের আইন ছিল মূলত ম্যালেরিয়া সংক্রান্ত। নতুন আইনে সংক্রামক সব ব্যাধিকে কাভার করা হয়েছে। আইনে সংক্রামক রোগের সংজ্ঞায় বলা হয়েছেÑ জীবাণুঘটিত রোগ। এর মধ্যে যতরকম জীবাণুঘটিত রোগ আছে তার নাম জুড়ে দিয়ে শেষে বলা হয়েছে ইত্যাদি, তার মানে আরও হতে পারে।

কালাজ্বর, ফাইলেরিয়া, ডেঙ্গু, ইনফ্লুয়েঞ্জা, এ্যানথ্রাক্স, ফ্লু, এভিয়েন ফ্লু, নিপাহ, জলাতঙ্ক, শ্বাসনালীর সংক্রমণ, এইচআইভি, ভাইরাল হেপাটাইটিস, টাইফয়েড ছাড়াও নতুনভাবে আবিষ্কৃত সংক্রামক রোগ এ আইনের আওতায় পড়বে।

তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি ও জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরী অবস্থা মোকাবেলা করাসহ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ঝুঁকি কমাতে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল করা হবে। এছাড়া সংক্রামক রোগ সম্পর্কে জনগণের স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরির লক্ষ্য নিয়েও নতুন আইন করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

নতুন এ আইনে শাস্তির প্রস্তাব করা হলেও তা চূড়ান্ত হয়নি জানিয়ে শফিউল বলেন, সংক্রামক রোগে আক্রান্ত সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট স্থানে শারীরিক ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষা করাতে হবে। যদি কেউ এটা না করেন তবে আইনের ব্যত্যয় হবে এবং তিনি এক বছরের জেল ও সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা জরিমানার সম্মুখীন হবেন।

কাকে শাস্তি দেয়া হবে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে শফিউল আলম বলেন, রোগী নিজে বা তিনি যার অধীনে আছেন তিনি দায়ী হবেন। অমান্যকারী বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারীকে শাস্তি দেয়া হবে, তা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান হতে পারে। কিছু কিছু মারাত্মক রোগ আছে ইবোলা, এইচআইভি এইডস, এগুলো স্ক্রিন আউট না করলে তো ছড়িয়ে যাবে। এজন্য এয়ারপোর্ট থেকে এদের ধরা। যেখান থেকে ধরবে সেখানেই তাদের স্ক্রিন আউট করে আইসোলেশনে রাখা হবে।

মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়ায় নতুন এ আইন নিয়ে স্পষ্ট কিছু না জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বন্দরগুলো দিয়ে এগুলো (সংক্রামক রোগ) নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

ক্যাডেট কলেজ আইন অনুমোদন ॥ ক্যাডেট কলেজ আইনের খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। ১৯৬৪ সালের অর্ডিন্যান্সের ভিত্তিতে ক্যাডেট কলেজ চলছিল জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আইনটি পাকিস্তান আমলের এবং পাকিস্তান সরকারের রেফারেন্সও তাতে ছিল। আগের ইংরেজী অর্ডিন্যান্স বাংলায় রূপান্তর করা হয়েছে।

আইনে ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠার ক্ষমতা সরকারকে দেয়া আছে জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, সরকার উপযুক্ত মনে করলে প্রজ্ঞাপন জারি করে এক বা একাধিক এলাকায় এক বা একাধিক ক্যাডেট কলেজ স্থাপন করতে পারবে। বাংলাদেশে বর্তমানে ১২টি সরকারী ক্যাডেট কলেজ রয়েছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: