২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

জেলে পড়ে শোনানো হলো ॥ নিজামীর ফাঁসির রায়


জেলে পড়ে শোনানো হলো ॥ নিজামীর ফাঁসির রায়

বিকাশ দত্ত/ মশিউর রহমান খান ॥ একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর রিভিউ (রায় পুনর্বিবেচনা) আবেদন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় তাকে পড়ে শোনানো হয়েছে। সোমবার রাত পৌনে নয়টার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে থাকা নিজামীকে রায়টি পড়ে শোনানো হয়।

কারাসূত্র জানিয়েছে, এখন তার সামনে একমাত্র সুযোগ রয়েছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার। তবে রাত বারটা পর্যন্ত তিনি প্রাণভিক্ষা চাননি। কারাসূত্র জানায়, নিজামী প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি চাইবেন না সে সিদ্ধান্ত নেবেন আজ মঙ্গলবার সকাল দশটায়।

সূত্র জানায়, কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির, পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি গোলাম হায়দার, জেল সুপার নেসার আলম এবং দুইজন ডেপুটি জেল সুপার কনডেম সেলে গিয়ে রায় পড়ে শোনান। পরে জাহাঙ্গীর কবির ও গোলাম হায়দার অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মোঃ ইকবালের সঙ্গে দেখা করতে কারাগার থেকে বের হন। এর আগে কারা চিকিৎসক ডাঃ বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস ও ডাঃ আহসান হাবিব নিজামীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। তিনি সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছে কারা সূত্র।

এর আগে রাত সাতটায় রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ করে সর্বোচ্চ আদালতের দেয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি কারাগারে পৌঁছানোর পর মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী বাহিনীর সহযোগী কিলিং স্কোয়াড আলবদর বাহিনীর এই সর্বোচ্চ নেতাকে ফাঁসিতে ঝোলানোর চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু করে কারা কর্তৃপক্ষ। লাল ফাইলে মোড়ানো রায়টি কারা কর্তৃপক্ষের হাতে হস্তান্তর করেন বিচারিক আদালত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্মকর্তারা।

হত্যা, ধর্ষণ এবং বুদ্ধিজীবী গণহত্যার দায়ে আপীল বিভাগ কর্তৃক মৃত্যুদ-প্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর আমির শীর্ষ নেতা আলবদর বাহিনীর প্রধান বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের সাবেক মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী রাষ্ট্রপতির নিকট প্রাণভিক্ষা না চাইলে যে কোন সময় দ- কার্যকর করা হবে। কারাকর্তৃপক্ষও সব কিছু প্রস্তুত রেখেছে।

কারাসূত্রে জানা গেছে, মুজাহিদ ও সাকা চৌধুরীর ফাঁসির মঞ্চেই দ- কার্যকর করা হবে। জল্লাদও প্রস্তুত রয়েছে। ৩ জল্লাদ ইতোমধ্যে দ- কার্যকরের মহড়াও দিয়েছে।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, নিয়মানুযায়ী নিজামীর দ- কার্যকর করা হবে। অন্যদিকে রিভিউয়ের রায় পৌঁছার পর পরই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের চতুর্দিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

নিয়মানুযায়ী, কারা কর্তৃপক্ষ মতিউর রহমান নিজামীকে রায় পড়ে শোনান। এখন সর্বশেষ সুযোগ হিসেবে দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করতে পারবেন। তবে নিজামী প্রাণভিক্ষা না চাইলে বা প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ হলে যে কোন সময় দ- কার্যকর করতে পারবে সরকার। ৫ মে মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ খারিজ করে দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপীল বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এক শব্দের এই রায় ঘোষণা করেন। বেলা সাড়ে ১১টায় এজলাসে এসে প্রধান বিচারপতি শুধু বলেন, ‘ডিসমিসড’। এই বেঞ্চের অপর তিন সদস্য হলেনÑ বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। এর পর সোমবার রিভিউর ২২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। সোমবার বিকেলে আপীল বিভাগের রেজিস্ট্রার অরুণাভ চক্রবর্তী ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার মেহেদি হাসান রায়ের কপি ট্রাইব্যুনালে নিয়ে যান। রায় প্রকাশের ফলে নিজামীর ফাঁসি কার্যকরে আর কোন বাধা থাকল না। এখন তিনি শুধু রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার সুযোগ পাবেন।

রায় প্রকাশের পর এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত মতিউর রহমান নিজামী যদি প্রাণভিক্ষা না চান তবে সরকার যে কোন সময় রায় কার্যকর করতে পারবে। তিনি আরও বলেন, কবে কোন সময় রায় কার্যকর হবে তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারা কর্তৃপক্ষের বিষয়। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না। তবে প্রাণভিক্ষা না চাইলে রায় যে কোন সময় কার্যকর করা যেতে পারে। সোমবার বিকেলে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেছেন।

আপীল বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার অরুণাভ চক্রবর্তী জনকণ্ঠকে জানান, বিচারকদের সইয়ের পর সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার আগে মতিউর রহমান নিজামীর রিভিউ খারিজের রায় প্রকাশ করা হয়। অরুণাভ চক্রবর্তী আরও জানান, রায়ের তিনটি অনুলিপি দেয়া হয়েছে ট্রাইব্যুনালে। সেগুলো ট্রাইব্যুনাল, কারা কর্তৃপক্ষ ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের জন্য। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দুই পক্ষের আইনজীবীকেও অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। এদিকে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার শহীদুল ইসলাম ঝিনুক জনকণ্ঠকে বলেন, ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে কারা কর্তৃপক্ষকে একটি আদেশ দিয়েছেন। রায়সহ সেই আদেশ পৌঁছে দেয়া হয়েছে কারাগারে। কারা কর্তৃপক্ষ সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

আপীল বিভাগের একই বেঞ্চ গত ৬ জানুয়ারি নিজামীর আপীলের রায় ঘোষণা করে। ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেয়া প্রাণদ-ের সাজাই তাতে বহাল থাকে। জামায়াত আমির নিজামী একাত্তরে ছিলেন দলটির ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের নাজিমে আলা বা সভাপতি এবং সেই সূত্রে পাকিস্তানী বাহিনীকে সহযোগিতার জন্য গঠিত আলবদর বাহিনীর প্রধান। তার পরিকল্পনা, নির্দেশনা ও নেতৃত্বেই যে আলবদর বাহিনী বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনক্সা বাস্তবায়ন করেছিল- এ মামলার বিচারে তা প্রমাণিত হয়। সুপ্রীমকোর্ট ১৫ মার্চ আপীলের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করলে ট্রাইব্যুনাল মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে, পর দিন তা পড়ে শোনানো হয় যুদ্ধাপরাধী নিজামীকে। এদিকে রিভিউ আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ায় রবিবার রাতেই তাকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে নিয়ে আসা হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে।

কপি কারাগারে ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর সাজা পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছেছে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ডেপুটি রেজিস্ট্রার কেশব রায়ের নেতৃত্বে সাতজন কারাগারে যান। রায়ের অনুলিপি হাতে তাদের মধ্যে চারজন কারাগারের ভেতরে ঢোকেন। এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার কিছু আগে ট্রাইব্যুনাল থেকে ঢাকা মেট্রো-চ ৫৩-৮১২১ নম্বরের একটি গাড়িতে রায়ের অনুলিপি নিয়ে কারাগারের উদ্দেশে রওনা হন তারা। লাল ফাইলে মোড়ানো রায়টি গ্রহণ করেন কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির।

রিভিউর পূর্ণাঙ্গ রায় ॥ আপীল বিভাগের একই বেঞ্চ গত ৬ জানুয়ারি নিজামীর আপীলের রায় ঘোষণা করে। ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেয়া প্রাণদ-ের সাজাই তাতে বহাল থাকে। ৯ মে সোমবার রিভিউর ২২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। রিভিউর রায় লিখেছেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। এর সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। আপীলের রায়ে ২, ৬ ও ১৬ নম্বর অভিযোগে হত্যা, ধর্ষণ ও বুদ্ধিজীবী গণহত্যার দায়ে নিজামীর ফাঁসির রায় বহাল থাকে। রিভিউ খারিজ হওয়ায় সেই দ-ই এখন তার প্রাপ্য। ১, ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগ থেকে নিজামীকে খালাস দেয় আপীল বিভাগ। আর যাবজ্জীবন কারাদ-ের সাজা বহাল রাখা হয় ৭ ও ৮ নম্বর অভিযোগে। রিভিউ আবেদনে এ দুটি অভিযোগের বিষয়ে কোন যুক্তি দেয়নি আসামিপক্ষ। রায়ের শেষ অংশে বলা হয়েছে, ৭ ও ৮ নম্বর অভিযোগে নিজামী দোষী সাব্যস্ত হলেও তার আইনজীবীরা এর বিরুদ্ধে কোন যুক্তি না দিয়ে কার্যত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যায় তার সম্পৃক্ততা মেনে নিয়েছে। অথচ আসামিপক্ষ দ- কমানোর কথা বলেছে, যদিও আবেদনকারী সেসব অপরাধে সম্পৃক্ততার দায় এড়াতে পারেন না। আমরা এই আবেদনের কোন সারবত্তা খুঁজে পাইনি। আবেদনটি খারিজ করা হলো, বলেছে আপীল বিভাগ। জামায়াত আমির নিজামী একাত্তরে ছিলেন দলটির ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের নাজিমে আলা বা সভাপতি এবং সেই সূত্রে পাকিস্তানী বাহিনীকে সহযোগিতার জন্য গঠিত।

শুধু প্রাণভিক্ষা ॥ দ- কার্যকরের আগে যুদ্ধাপরাধী নিজামীর শেষ আইনী সুযোগ ছিল রিভিউ আবেদন। তা খারিজের মধ্য দিয়ে আইনি লড়াইয়ের পরিসমাপ্তি হয়েছে। এখন সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে শেষ সুযোগে দ-াদেশ পাওয়া আসামি প্রাণভিক্ষা চাইতে পারেন। আসামি তা না চাইলে বা রাষ্ট্রপতির ক্ষমা না পেলে সরকার দিনক্ষণ ঠিক করে কারা কর্তৃপক্ষকে ফাঁসি কার্যকরের নির্দেশ দেবে। তার আগে স্বজনেরা কারাগারে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাত করতে পারবেন। রিভিউ খারিজের পর এরই মধ্যে স্ত্রী, ছেলে-মেয়েরা কাশিমপুরে গিয়ে নিজামীর সঙ্গে একবার সাক্ষাত করেছেন। তবে সে সময় তারা ক্ষমা ভিক্ষার বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কোন কথা বলেননি। এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এর আগে জানিয়েছেন, রিভিউয়ের রায় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে যাবে। দিন তারিখ ঠিক করবে সরকার এবং দ- কার্যকর করবে কারা কর্তৃপক্ষ। জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকরের প্রক্রিয়া সম্পর্কে এ্যাটর্নি বলেছেন, ফাঁসি কার্যকরের সিদ্ধান্ত হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে। ফাঁসি কবে, কখন কার্যকর হবে, এ বিষয়ে কোন কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে রায় জানানোর পরিপ্রেক্ষিতে নিজামীকে ‘রিজেনেবল’ সময় দেয়া হবে। সেটি একদিনের হতে পারে। অর্থাৎ পিটিশন (মার্সি) লেখার জন্য বা এটি প্রস্তুত করার জন্য যেটুকু সময় দরকার।

নিয়ম অনুযায়ীই দ- কার্যকর ॥ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হলেও যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদ- কার্যকরের প্রস্তুতি কারা কর্তৃপক্ষের রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। জামায়াত আমিরের রিভিউ খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় সোমবার প্রকাশের পর এখন বিধি অনুযায়ীই দ- কার্যকরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে জানান তিনি। সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে দ- কার্যকর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আসাদুজ্জামান কামাল বলেন, কাশিমপুর থেকে ঢাকায় আনার মানে এই নয় যে এখনই ফাঁসির দ- কার্যকর হবে। যে ফরমালিটিজ আছে। তার (নিজামীর) দ-াদেশ আসতে হবে আমাদের কাছে, পূর্ণাঙ্গ রায় আসতে হবে। পূর্ণাঙ্গ রায় আসার পর আমাদের আরও অনেক নিয়ম-কানুন আছে। সেগুলো পালন করেই রায় কার্যকর করা হবে। মৃত্যুদ- কার্যকরের প্রস্তুতি আছে কি না- জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সব ঠিক আছে।’

কাশিমপুর কারাগারে ॥ চূড়ান্ত আইনী লড়াইয়ে হেরে যাওয়ার পর নিজামীর সামনে শুধু একটি পথ খোলা রয়েছে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রাণভিক্ষা। সে কারণে ইতোমধ্যে রবিবারই মতিউর রহমান নিজামীকে কাশিমপুর কারাগার-২ থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। এদিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার মতিউর রহমান নিজামীকে দ- কার্যকর করার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে জানা গেছে।

এর আগে যাদের দ- কার্যকর হয়েছে ॥ একাত্তরে যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর ফাঁসিতে ঝোলানো হয় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লাকে।আর ২০১৫ সালের ১১ এপ্রিল জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদ- কার্যকর করে কারা কর্তৃপক্ষ। তাদের দুজনের রিভিউ আবেদন একদিনের মধ্যে শুনানি শেষে খারিজ হয়ে গিয়েছিল। তারা রাষ্ট্রপতির ক্ষমা চাননি বলে সরকারের পক্ষ থেকে সে সময় জানানো হয়, পরে তাদের ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। এরপর জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপির সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয় একই দিনে, গতবছর ২১ নবেম্বর। তারা প্রাণভিক্ষার আবেদন করলেও রাষ্ট্রপতি তা নাকচ করে দেন। এর বাইরে যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামিদের মধ্যে কেবল জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায় এসেছে আপীল বিভাগে। ট্রাইব্যুনালে তাকে দেয়া সর্বোচ্চ সাজার রায় কমিয়ে আপীল বিভাগ আমৃত্যু কারাদ-ের যে রায় দিয়েছে, তার রিভিউ চেয়েছে দুই পক্ষই।

যে অভিযোগে ফাঁসি ॥ আপীলের রায়ে বলা হয়, যে আট অভিযোগে তিনি (নিজামী) ট্রাইব্যুনালে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন, তার মধ্যে ১, ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে তিনি খালাস পেয়েছেন। আর ২, ৬, ৭, ৮ ও ১৬ নম্বর অভিযোগে তার দ- বহাল রয়েছে। এর মধ্যে ২, ৬ ও ১৬ নম্বর অভিযোগে পাবনার বাউশগাড়ি, ডেমরা ও রূপসী গ্রামের প্রায় সাড়ে ৪০০ মানুষকে পাকিস্তানী সেনারা হত্যা ও ৩০-৪০ জন নারীকে ধর্ষণ; পাবনার ধুলাউড়ি গ্রামে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ৫২ জনকে হত্যা এবং পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবী গণহত্যার দায়ে নিজামীর ফাঁসির রায় বহাল রেখেছে আপীল বিভাগ। রিভিউয়ে আপীলের দ-ই বহাল রয়েছে।

মঞ্চ প্রস্তুত ॥ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর দ- কার্যকরের সমস্ত প্রস্তুতি রয়েছে কারা কর্তৃপক্ষের। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে ফাঁসির মঞ্চ।

গেল বছরের নবেম্বরে যে মঞ্চে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের (সাক) চৌধুরীর মৃত্যুদ- কার্যকর হয় সেই মঞ্চেই ফাঁসিতে ঝোলানো হবে মতিউর রহমান নিজামীকে। এর মধ্যে নিজামীর দ- কার্যকরের মহড়াও হয়েছে। তিন জল্লাদও উপস্থিত ছিলেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম জানা যায়নি।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: