২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

সেতু নির্মাণে ৩০ কোটি টাকা জলে


নিজস্ব সংবাদদাতা, পটুয়াখালী, ৯ মে ॥ লোহালিয়া নদীর ওপর লোহালিয়া সেতুর নির্মাণকাজ দেড় বছর ধরে বন্ধ হয়ে আছে। ৫৫ শতাংশ কাজ শেষে হওয়ার পর লোহালিয়া নদীপথ দিয়ে পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরে জাহাজ চলাচলে সেতু কম উচ্চতার কারণে নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়। ফলে পানিতে গেল ভূমি অধিগ্রহণ ও সেতু নির্মাণের ২৯ কোটি ৪ লাখ ২২ হাজার ৩৭৯ টাকা। এছাড়াও অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে পটুয়াখালীর আট উপজেলার সঙ্গে সরাসরি সড়কপথে যোগাযোগসহ ভোলা ও বরগুনা জেলাবাসীর সঙ্গে সড়কপথে যোগাযোগ করার মহাপরিকল্পনা ভেস্তে গেল।

এলজিইডি সূত্র জানায়, পটুয়াখালী জেলার আট উপজেলার সঙ্গে সহজে যোগাযোগসহ ভোলা ও বরগুনা জেলার সঙ্গেও সড়কপথে যোগাযোগ সহজ করার দাবি দীর্ঘদিনের। দাবির প্রেক্ষিতে ২০০৮ সালে পটুয়াখালীর গলাচিপা-কলাগাছিয়া সড়কের লোহালিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। ৪৬৪ মিটার দৈর্ঘ্যরে এই গার্ডার সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৪৬ কোটি টাকা। ২০১১ সালের ৯ নবেম্বর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৪ সালের ২০ অক্টোবর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা। শুরুতেই ৪ দশমিক ৯৫১ একর ভূমি অধিগ্রহণে ৩ কোটি ৭৫ লাখ ২২ হাজার ৩৭৯ টাকা ব্যয় করা হয়।

এদিকে, ৫৫ শতাংশ কাজ শেষে ২০১৪ সালের ১ অক্টোবর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিইডি) মন্ত্রণালয় ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লোহালিয়া সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। সেই থেকে দীর্ঘ দেড় বছর সেতুটির নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। তবে ঠিকাদারকে তার কাজের অনুকূলে ২৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। ভূমি অধিগ্রহণ ও সেতু নির্মাণে মোট ব্যয় হয় ২৯ কোটি ৪ লাখ ২২ হাজার ৩৭৯ টাকা।

এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সালেহ হানিফ বলেন, সেতুর উচ্চতা বিআইডব্লিউটিএর অনুমোদন ছিল ৯ দশমিক ৫৭ মিটার। সে অনুযায়ী সেতু নির্মাণ শুরু হয়। লোহালিয়া সেতু অনুমোদনের সময় পায়রা বন্দরের কথা বিবেচনা করা হয়নি, যা বর্তমানে হচ্ছে। পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের ফলে ভবিষ্যতে লোহালিয়া নদী দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করবে। পায়রা সমুদ্রবন্দরের স্বার্থে লোহালিয়া নদীর মূল চ্যানেলে ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স (নদীর সর্বোচ্চ পানি থেকে সেতুর উচ্চতা) ১৮ দশমিক ৩০ মিটার প্রয়োজন। লোহালিয়া সেতুর উচ্চতা কম হওয়ায় নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়েছে। তবে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ নিয়ে কয়েক দফা বসা হয়েছে। এ বিষয়ে উচ্চপর্যায় থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।