২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আসছে ৫০ লাখ উপকারভোগী


সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আসছে ৫০ লাখ উপকারভোগী

এম শাহজাহান ॥ আসন্ন ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতায় ৫০ লাখ উপকারভোগীকে আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এতে করে গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকা- আরও সচল এবং শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে সরকার। কমে আসবে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা। এ লক্ষ্যে উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি ভাতার পরিমাণও বাড়ানো হবে। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থিক সচ্ছলতার বিষয়টি মাথায় রেখে আগামী বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতা বাড়ানো হবে। এই কর্মসূচীর আওতায় বাজেটে হিজড়া, দলিত হরিজন, বেদে শ্রেণী, দরিদ্র ক্যান্সার রোগী ও চা-শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা দেয়া হবে। এজন্য গঠন করা হবে ‘সোস্যাল প্রটেকশন ইউনিট’। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

জানা গেছে, দারিদ্র্য নিরসনে সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের যৌক্তিক ও লক্ষ্যভিত্তিক সম্প্রসারণ করতে এ খাতে এবার বরাদ্দ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হবে। এই কর্মসূচীর আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত। যদিও চলতি বাজেটে বয়স্ক ভাতাভোগীর সংখ্যা ২৭ লাখ ২৩ হাজার হতে বৃদ্ধি করে ৩০ লাখে, বিধবা ও স্বামী নিগৃহিতা মহিলা ভাতাভোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ১২ হতে বৃদ্ধি করে ১১ লাখ ১৩ হাজারে, অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা ৪ লাখ হতে ৬ লাখে, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী উপবৃত্তির সংখ্যা ৫০ হাজার হতে বৃদ্ধি করে ৬০ হাজার জনে, দরিদ্র মার জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগীর সংখ্যা এবং কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাদারদের সংখ্যা শতকরা ২০ ভাগ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রণালয়ে সামাজিক নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অর্থমন্ত্রী এ খাতে বরাদ্দ ও উপকারভোগী বাড়ানোর আভাস দিয়েছেন। তবে এই কর্মসূচীর আওতায় যেসব প্রকল্প ঠিকমতো চলছে না সেগুলোর পুনর্মূল্যায়নের তাগিদ দিয়েছেন তিনি। ওই বৈঠকে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানোর ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায় উপকারভোগীর মোট সংখ্যা ৪২ লাখের বেশি। আগামী বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায় নতুন করে আরও সাড়ে ৫ লাখ গরিব মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করতে প্রস্তাব দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো। এ খাতে বরাদ্দও বাড়াতে বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে নতুন বাজেটে উপকারভোগীর সংখ্যা ৫০ লাখে নিয়ে যাওয়ার একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। তাই ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে এ সংখ্যা গড়ে ৫ থেকে ১০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব থাকছে। এতে অতিরিক্ত কত টাকার প্রয়োজন হবে সে হিসেব-নিকেশও করছে অর্থমন্ত্রণালয়। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বর্তমানে যে পরিমাণ বরাদ্দ দেয়া হয়, তা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ দশমিক ৩ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে এই বরাদ্দ জিডিপির ৩ শতাংশের প্রস্তাব করা হতে পারে।

জানা গেছে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায় সরকারের ২২ মন্ত্রণালয় ও সংস্থার অধীনে বর্তমান ১৪৫টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অধিকাংশ প্রকল্পই সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু, খাদ্য, ত্রাণ ও দুর্যোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করছে। জাতীয় বাজেটের ১০ শতাংশ অর্থ এ খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়। চলতি অর্থবছরে এ খাতে সর্বমোট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সাড়ে ৩০ হাজার কোটি টাকা। এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, প্রতি বাজেটেই সামাজিক নিরাপত্তা খাতে উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি ভাতাও কিছুটা বাড়ানো হয়ে থাকে। এবারও এই কর্মসূচীটির আওতায় উপকারভোগী বাড়বে। তিনি বলেন, দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে নিয়ে যেতে হলে অবশ্যই দারিদ্র্য নিরসন হওয়া প্রয়োজন। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় দেশে দরিদ্রের সংখ্যা কমে আসবে।

জানা গেছে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায় ভিজিডি, দরিদ্র মায়ের মাতৃত্বকালীন ভাতা, কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মায়ের ভাতা মাঠপর্যায়ে বিতরণ ও বাস্তবায়ন করছে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এছাড়া বয়স্ক ভাতা, অসচ্ছল প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ও বিধবাভাতা কর্মসূচী দেখছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাস্তবায়ন করছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। আগামী বাজেটে ভিজিডি, দরিদ্র মায়ের মাতৃত্বকালীন ভাতা ও কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মায়ের ভাতার উপকারভোগীর সংখ্যা বিদ্যমানের চেয়ে আরও সাড়ে ৫ লাখ বাড়াতে অর্থ সচিবকে ডিও লেটার (আধা সরকারী পত্র) দিয়েছেন মহিলা ও শিশু সচিব নাছিমা বেগম (এনডিসি)।

এদিকে, মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সংরক্ষণে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারবর্গের কল্যাণ ও পুনর্বাসনে সম্মানী ভাতার হার বৃদ্ধি, চিকিৎসা ও রেশন প্রদান, সরকারী চাকরিতে কোটা সংরক্ষণ, বিশেষ ক্ষেত্রে ভিআইপি মর্যাদা প্রদান করা হচ্ছে। আসন্ন বাজেটেও মুক্তিযোদ্ধাদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে।