১২ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

তামসযাত্রার বিরুদ্ধে


(শেষাংশ)

সেজন্যই আমরা ১৯৮৮ সালে দায়ের করা মামলাটি ২৮ বছর পর শুনানির উদ্যোগ নিয়েছিলাম। বৈঠকে ঐক্য পরিষদের নেতারা জানালেন তারা এ বিষয়ে জেনারেল এরশাদ ও জাতীয় পার্টির সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। এরশাদ তাদের বলেছেন, তিনি নাকি তার প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফরের পরামর্শে এ কাজ করেছেন। এখন বুঝতে পারছেন কাজটি তিনি ঠিক করেননি। কাজী জাফর তাকে বুঝিয়েছিলেন, ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রচুর টাকা আসবে। বাস্তবে কিছুই হয়নি।

হাইকোর্টে অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে এই মামলা খারিজ করে দেয়া হয়। বলা হয় যারা এ রিট দায়ের করেছেন তাদের নাকি এর এখতিয়ার নেই। ‘স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী নাগরিক কমিটি’র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় চার বছর পর আমরা যখন ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’ গঠন করে গণআদালতে যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের প্রতীকী বিচার করি তখন জামায়াত সমর্থিত বিএনপি সরকার আমাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করেছিল। রাষ্ট্রধর্মের বিরুদ্ধে রিট পিটিশনকারীদের অনেকেই এই মামলার আসামী ছিলেন। উচ্চতর আদালত আমাদের জামিন দিয়েছিল এই যুক্তিতে- যুদ্ধাপরাধী, গোলাম আযমের বিরুদ্ধে কথা বলে আমরা রাষ্ট্রবিরোধী কোনও কাজ করিনি। আমরা যারা এ রাষ্ট্র গঠন করেছি বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপি সরকার তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করেছিল শুধু জামায়াতকে খুশি করার জন্য। মধ্যপ্রাচ্যকে খুশি করার জন্য এরশাদ ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেননি। জামায়াতকে খুশি করার জন্য খালেদা জিয়া আমাদের রাষ্ট্রদ্রোহী বানিয়েছিলেন- তিনিও ক্ষমতায় থাকতে পারেননি।

আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সংবিধান পুনঃপ্রবর্তনের জন্য উচ্চতর আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলাম এই বিবেচনায়- সুপ্রীমকোর্ট আমাদের সংবিধানের রক্ষক ও অভিভাবক। দুর্ভাগ্যের বিষয় এই সুপ্রীমকোর্ট বার বার সংবিধান লংঘন করে অবৈধ ক্ষমতাদখলকে বৈধতা দিয়েছে। সংবিধানের মর্যাদা রক্ষার জন্য বার বার আমাদের সুপ্রীমকোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। সুপ্রীমকোর্ট শুধু সংবিধান নয়, এই রাষ্ট্রের স্রষ্টাদেরও অপমানিত করেছে। একজন বিচারকের সমালোচনা করলে সুপ্রীমকোর্ট নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের শাস্তি দিতে দ্বিধাবোধ করে না। অথচ যে সংবিধানের ভিত্তিতে সুপ্রীমকোর্ট প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে, বিচারপতিরা সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী হয়েছেন, যে সংবিধান রচিত হয়েছে ৩০ লাখ শহীদের রক্তভেজা অক্ষরে, সেই সংবিধানকে উর্দিপরা জেনারেলরা বার বার বেয়নেটের খোঁচায় ক্ষতবিক্ষত করেছেন মুক্তিযুদ্ধের চিহ্নিত শত্রু মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে তুষ্ট করবার জন্যÑ সুপ্রীমকোর্ট সেই সব দুষ্কর্মকে বৈধতা দিয়েছেন ‘ডকট্রিন অব নেসেসিটি’র কথা বলে। পরবর্তীকালে এই সুপ্রীমকোর্ট যখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সংবিধানের মর্যাদা উর্ধ্বে তুলে ধরতে চেয়েছে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বপ্রদানকারী দলের সরকার তা উপেক্ষা করেছে। রাষ্ট্র এভাবেই মৌলবাদী তামসিক শক্তির উত্থানের পথ সুগম করেছে।

আমরা জনগণ এই প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক। রাষ্ট্রের সকল অঙ্গ আমাদের সেবক। সংবিধান আমাদের এই ক্ষমতা ও এখতিয়ার নিশ্চিত করেছে, যা উপেক্ষা করবার ক্ষমতা কারও নেই। সংবিধান রক্ষার দায়িত্ব সংবিধানই সুপ্রীমকোর্টকে দিয়েছে। মৌলবাদ তোষণকারী জেনারেলরা যেভাবে ৩০ লাখ শহীদের রক্তে লেখা সংবিধান অপমান করেছেন আমরা কখনও তা মানব না।

মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক জামায়াত-শিবির চক্রকে হত্যার লাইসেন্স দিয়ে বেলাগাম ছেড়ে দেয়া অর্থ হচ্ছে আলোকাভিসারী একটি জাতিকে তমসাচ্ছন্ন তালেবানি শাসনের দিকে ঠেলে দেয়া। জামায়াত সম্পর্কে আওয়ামী লীগ ও সরকারের দ্বৈতনীতির ষোলআনা সুযোগ নিচ্ছে প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অবস্থানকারী জামায়াতের লোকজনরা। এই দ্বৈতনীতির কারণে মুক্তচিন্তার মানুষদের হত্যাকারীরা ধরা পড়ে না। কখনও ধরা পড়লেও জামিনে বেরিয়ে আসে। দু’বছর আগে জামায়াতের দপ্তর সম্পাদক দাবি করেছিলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে মহাজোট সরকার তাদের প্রায় এক লাখ নেতা-কর্মী-সমর্থক গ্রেফতার করেছে, যাদের ভেতর পঁচানব্বই হাজার জামিনে বেরিয়ে এসেছে, বাকিরা জামিনের প্রক্রিয়ায় আছে। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তচিন্তার লেখক ও গবেষক ড. অভিজিৎ রায়ের ঘাতকদের সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল তারা নজরদারিতে আছে। চৌদ্দ মাসে পরে বলা হলো তারা দেশ ছেড়ে চলে গেছে। টেলিভিশনের কার্টুন ছবি ‘টম এ্যান্ড জেরি’র মতো জঙ্গী ধরা-ছাড়ার খেলা দেখতে দেখতে আমরা ক্লান্তি ও বিরক্তির শেষ সীমায় পৌঁছেছি।

জঙ্গী মৌলবাদী সন্ত্রাসীরা গত ১৪ মাসে যে ৩৬ জনকে হত্যা করেছে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তদন্তকারীরা বলেছেন তারা ক্লু খুঁজে পাচ্ছেন না। জামায়াত এবং তাদের পোষ্য জঙ্গীদের বিভিন্ন নামের সংগঠনগুলো বিভিন্ন সময়ে তাদের প্রকাশনা ও প্রচারমাধ্যমে বলেছে তারা কাদের কেন হত্যা করতে চায়। হেফাজতের পক্ষ থেকে দু’বছর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ৮৬ জন ‘নাস্তিক ব্লগারের’ তালিকা প্রদান করা হয়েছে, যাদের কয়েকজনকে হত্যা করা হয়েছে, অনেকে নিহত হওয়ার আশঙ্কায় দেশত্যাগ করেছেন। এসব ক্ষেত্রে ক্লু খোঁজার অজুহাত বিরক্তিকর মশকরা ছাড়া আর কিছু নয়।

গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো জুলহাজ-তনয় হত্যার পর পুলিশের মহাপরিদর্শক বলেছেন, তারা ঘরে ঘরে নিরাপত্তা দিতে পারবেন না। তার এই মন্তব্যে মনে হয়েছে পুলিশের দায়িত্ব বুঝি নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে হবে! আমরা জন্মাবধি জেনে এসেছি নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্ব পুলিশের। আমার দায়িত্ব বাইরের দরজায় কিংবা আলমারি-সিন্দুকে তালা লাগানো। সামর্থ্য থাকলে পাহারাদার বসানো। জুলহাজের খুনিরা কি পাহারাদারের তোয়াক্কা করেছে? পুলিশ নাকি জানত জুলহাজকে হত্যার জন্য ঘাতকরা দু’মাস ধরে প্রস্তুতি নিয়েছে। তবু তাকে ঘাতকদের হাত থেকে রক্ষার জন্য পুলিশ কিছুই করেনি।

গত বছর ব্লগার বাবু হত্যার পর দৌড়ে পালানো দুজন সশস্ত্র ঘাতককে নিজেদের জীবন বিপন্ন করে জাপটে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন দুজন প্রান্তিক মানুষ, যাদের একজন তৃতীয় লিঙ্গের লাবণ্য, যাদের অধিকার ও মর্যাদার জন্য কাজ করতে গিয়ে জুলহাজকে জীবন দিতে হয়েছে। তখন আমরা সরকারকে বলেছিলাম এদের সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরস্কৃত করা হোক। সরকার কিছুই করেনি হতদরিদ্র এই দুজনের জন্য। আমরা নির্মূল কমিটির পক্ষ থেকে তাদের সংবর্ধনা প্রদান করে ৬০ হাজার টাকা দিয়েছি। আমাদের পক্ষে এর বেশি করা সম্ভব ছিল না। আমরা তখন বলেছিলাম, এখনও বলি জঙ্গী মৌলবাদী সন্ত্রাসী কেউ যদি ধরে দিতে পারে তাহলে তার জন্য ২০ লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হোক। জঙ্গীদের সন্ধানদাতাদেরও পুরস্কৃত করার ব্যবস্থা করা হোক। এমনটি করা হলে জঙ্গী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা নতুন মাত্রা লাভ করবে।

দু’মাস পুলিশ বাহিনীতে নতুন আরও ৫০ হাজার অন্তর্ভুক্তি সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে বলেছিলেনÑ নতুন নিয়োগের সময় জামায়াত-শিবির বা সন্ত্রাসীরা যাতে পুলিশ বাহিনীতে ঢুকতে না পারে সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে। এর পরদিনই পুলিশের আইজি বললেন, জামায়াত-শিবিরের কারও বিরুদ্ধে যদি ক্রিমিনাল রেকর্ড না থাকে তাদের পুলিশে নিতে বাধা নেই। পুলিশের বড় কর্তা জামায়াতকে যদি আওয়ামী লীগ, জাসদ বা ওয়ার্কার্স পার্টির মতো মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের আরেকটি রাজনৈতিক দল বিবেচনা করেন তাহলে এটা খুবই স্বাভাবিক যে, জঙ্গী মৌলবাদী সন্ত্রাসীদের তালিকাভুক্ত হত্যার ‘ক্লু’ কখনও খুঁজে পাওয়া যাবে না।

মৌলবাদী সন্ত্রাসীদের তালিকাভুক্ত বা তালিকা বহির্ভূত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড মুসলিমপ্রধান দেশসমূহে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হচ্ছে। আশার কথা এই যে, বাংলাদেশ এখনও ইরাক, সিরিয়া, নাইজেরিয়া, আফগানিস্তান বা পাকিস্তান হয়ে যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারী গোয়েন্দা সংস্থা ‘ইনটেল সেন্টার’ ২০১৫ সালে মুসলমানপ্রধান দেশে সন্ত্রাসী হত্যার তালিকা প্রকাশ করেছে। তাদের হিসেবে ২০১৫ সালে ৪০টি দেশে ৫২০৯ জনকে হত্যা করা হয়েছে। তালিকার শীর্ষে আছে ইরাক যেখানে নিহতের সংখ্যা ৩৫১৫। সর্বনিম্নে আছে চারটি দেশ, যেখানে ১জন নিহত হয়েছে। ৭ জন হত্যার পরিসংখ্যান নিয়ে এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান হচ্ছে ৩০তম। তালিকার প্রথম সাতটি দেশ হচ্ছে ইরাক (৩৫১৫), নাইজেরিয়া (৩৩৩২), সিরিয়া (২৭২৬), আফগানিস্তান (১০৭৪), ইয়েমেন (৬৫৪), সোমালিয়া (৫৮৪) এবং পাকিস্তান (৪৭৯)। ‘ইন্সটিটিউট ফর ইকোনমিকস এ্যান্ড পীস’-এর জরিপ অনুযায়ী ২০০১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সারা পৃথিবীতে ৬১ হাজার সন্ত্রাসী হামলায় ১৪০০০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ২০১৪ সালে নিহতের সংখ্যা ছিল সর্বাধিক। এই প্রতিষ্ঠানের হিসেবে নিহতদের তালিকায় পাঁচটি শীর্ষ দেশ হচ্ছে ইরাক (৯৯২৯), নাইজেরিয়া (৭৫১২), আফগানিস্তান (৪৫০৫), পাকিস্তান (১৭৬০) এবং সিরিয়া (১৬৯৮)। এসব হত্যাকান্ড রাষ্ট্রবহির্ভূত সন্ত্রাসীরা যেমন ঘটিয়েছেÑ সরকারি বাহিনী বা এসব দেশে অবস্থানরত মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীও ঘটিয়েছে। বাংলাদেশে এ কারণেই আইএস-এর উপস্থিতি প্রমাণ করে, হত্যার তালিকা দীর্ঘ করে আমেরিকা সামরিক অনুপ্রবেশ ও অবস্থানের সুযোগ খুঁজছে। খালেদা জিয়া তিন বছর আগেই আমেরিকাকে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি ক্ষমতায় এলে আমেরিকাকে বঙ্গোপসাগরে ঘাঁটি স্থাপন করতে দেবেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে জামায়াত-হেফাজতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।

জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধকরণের পাশাপাশি তাদের সকল আর্থিক, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। সংবিধানে একমুখী শিক্ষার কথা বলা হয়েছে। সকল মাদ্রাসায় একই পাঠ্যসূচী চালু করতে হবে। মাদ্রাসাসহ সকল সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাঙালির ইতিহাস এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বাধ্যতামূলক করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসবিকৃতকারীদের শাস্তির জন্য সরকার আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে প্রশংসা অর্জন করেছে। একইভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও কোন রকম শৈথিল্য আমরা দেখতে চাই না।

মৌলবাদী ঘাতকরা ’৭১-এর মতো তালিকা তৈরি করে একের পর এক হত্যাকা- চালিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কণ্ঠ স্তব্ধ করে দিতে চাইছে। আমরা আশা করব এই সন্ত্রাসের প্রতি সরকারের শূন্য সহিষ্ণুতা সর্বক্ষেত্রে প্রতিফলিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিকবার বলেছেন, আওয়ামী লীগ এত দেউলিয়া হয়ে যায়নি যে জামায়াত বা অন্য দল থেকে লোক এনে দলভারি করতে হবে। আওয়ামী লীগের আসন্ন কাউন্সিলে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে এবং দলের কর্মসূচীতে বঙ্গবন্ধুকন্যার এই প্রত্যয়ের প্রতিফলন দেখতে চাই। জামায়াত-হেফাজত-বিএনপি বাংলাদেশকে তমসার অতল গহ্বরে নিক্ষেপ করতে চাইছে, যার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সর্বশক্তি দিয়ে রুখে দাঁড়াতে হবে।