২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সিরাজদিখানে তৈরী হচ্ছে নীচু ব্রীজ॥বর্ষায় নৌযান চলাচলে কৃষকের জন্য মরণ ফাঁদ


সিরাজদিখানে তৈরী হচ্ছে নীচু ব্রীজ॥বর্ষায় নৌযান চলাচলে কৃষকের জন্য মরণ ফাঁদ

স্টাফ রিপোর্টার,মুন্সীগঞ্জ ॥ যথাযথ উচ্চতা না রেখে ব্রীজ নির্মাণ করায় এটি এলাকাবাসীর মরণ ফাঁদে পরিণত হবার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ব্রীজ দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে পারলেও ব্রীজের নীচ দিয়ে বর্ষা মৌসুমে নৌযান চলাচল দুরূহ হয়ে পড়বে। বর্তমান পানির স্তর থেকে ব্রীজটি প্রায় ১১ ফুট উচ্চতায় রয়েছে। এখান থেকে বর্ষা মৌসুমে আরো ৮ ফিট পানি বৃদ্ধি পাবে। সেক্ষেত্রে ব্রীজের নীজ দিয়ে যাতায়াতের জন্য মাত্র ৩ ফিট জায়গা থাকবে। যা দিয়ে বর্ষা মৌসুমে নৌযানে কৃষি পন্য নিয়ে চলাচল করা অসম্ভব ব্যাপারে হয়ে পড়বে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে এলাকাবাসী জানালেও তাতে কোন কর্নপাত না করেই ব্রীজের ঢালাই কাজ শুরু হয়েছে।

সিরাজদিখান উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের মীর্জাকান্দা, মজিদপুর ও ভাড়ারিয়া গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ইছামতির শাখা নদীর উপরে স্থানীয় সরকার টঘজ-এউচ এর প্রকল্পের আওতায় বরাদ্ধকৃত প্রায় ২কোটি ৬১ লক্ষাধীক টাকা ব্যায়ে ৫৪ মিঃ দীর্ঘ ও ৭.৩ মিঃ প্রস্থ ব্রীজ নির্মানে ঠিকাধারী প্রতিষ্ঠান এস সরকার (সরকার মোশারফ জয়েন্ট এন্টারপ্রাইজ) এন্টাপ্রাইজ ব্রীজটি নির্মান করছেন। গত রবিবার ভোর বেলায় তড়িঘড়ি করে ঢালাইয়ের কাজ শুরু করলে এলাকাবাসী সাংবাদিকদের কাছে এ ব্যাপরে অভিযোগ করেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ মীজাকান্দা সরকারী প্রাথকিম বিদ্যালয়ের সন্নিকটে শাখা ইছামতি নদীর তীর দিয়ে বয়ে যাওয়া নিমতলা রাজানগর-শেখরনগর মীর্জাকান্দা সড়ক থেকে নব-নির্মিত ব্রীজটি নিচু হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষক পরিবারের লোকজন নৌকা যোগে চলাচলে বিঘœতার সৃষ্টি হবে। এলাকাটি কৃষি প্রধান হওয়ায় কৃষি পণ্য পরিবহনে নৌযান চলাচল ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়বে। ইতিপূর্বে ক্ষিপ্ত হয়ে এলাকাবাসী এ নিয়ে ৩ দফা ব্রীজের কাজ বন্ধ রাখার জন্য জন্য অভিযোগ করেন। এলাকাবাসী আরো জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট এলাকাবাসী গনস্বাক্ষর করে অভিযোগ দেয়ার পরেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এস সরকার (সরকার মোশারফ জয়েন্ট এন্টারপ্রাইজ) এ ব্যাপারে কোন কর্ণপাত না করে নিচু করেই ব্রীজের কাজ শুরু করে। এ নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে স্থানীয় ইউপি সদস্য বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের নিকট যোগাযোগের আশ্বাস দেন।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য মেহের মেম্বার বলেন, ব্রীজটি অনেক নিচু হয়েছে। এই ব্রীজের নিচ দিয়ে বর্ষা মৌসুমে তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার লোকের নৌযান চলাচলে বিঘœতা ঘটবে। ব্রীজটি মূলত যে কোন নৌযান চলাচলের ব্যাপক অসুবিধার সৃষ্টি করবে। মজিদ পুর গ্রামের মজিবর রহমান বলেন, ব্রীজের নিচ দিয়ে যদি নৌকাই না চলে তাহলে এত টাকা খরচ না করে খাল ভরাট করে রাস্তাই সরকার বানিয়ে দিক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারী চাকুরী জীবি বলেন, উপজেলা প্রকৌশলী আমিনূর ইসলাম এলাবাসীর সাথে কোন কথা না বলে ঠিকাদারী প্রতষ্ঠিান এস সরকার (সরকার মোশারফ জয়েন্ট এন্টারপ্রাইজ) এন্টাপ্রাইজের যোগসাজসে মোট টাকার ঘুষ খেয়ে তড়িঘরি করে ব্রীজের ঢালাই কাজ রবিবার সম্পন্ন করেছেন। আমরা প্রশাসন ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে এই প্রকৌশলীর শাস্তি চাই। ব্রীজটি একটু ভাংলেই রড ও অন্যান্য নি¤œমানের জিনিসের প্রমান মিলবে। এ ব্যাপরে উপজেলা প্রকৌশলী আমিনূর ইসলাম কোন প্রাকার আর্থিক দেলদেনের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন

, পরিকল্পনা মোতাবেক সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে উচ্চতা একটু কম হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না। কারণ এর থেকে কিছু দরেই আর একটি ব্রীজ রয়েছে। নির্মানাশীন ব্রীজটির উচ্চতা তার চেয়েও বেশী রয়েছে। তবে এতে কারো কারো ব্যক্তি স্বার্থ ক্ষুন্ন হওয়ায় তাঁরা এ অবিযোগ করছে। এ ব্যাপারে ব্রীজ নির্মাণের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এস সরকার (সরকার মোশারফ জয়েন্ট এন্টারপ্রাইজ) এন্টার প্রাইজের সাথে মোবাইল ফোনে বহুবার যোগাযোগ করলে তারা ফোন রিসিভ করেননি।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: