২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

স্টিকম্যানের আতঙ্কে ২৪ পরগনার সীমান্ত শহর


স্টিকম্যানের আতঙ্কে ২৪ পরগনার সীমান্ত শহর

অনলাইন ডেস্ক॥ সুপারম্যান নয়, স্পাইডারম্যানও নয়, এবার স্টিকম্যানের ভয়ে আছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের এক শহুরে জনপদ। সন্ধ্যে নামতেই রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার সীমান্তবর্তী শহর হাবড়ার বাসিন্দারা স্টিকম্যানের আতঙ্কে ঘরের বাইরে বের হন না। ঘরের মধ্যেই রীতিমতো ইস্টনাম জপ করেন। কখন কার ওপর লাঠির বাড়ি পড়বে কে জানে?

জানা গেছে, হাবড়ার ফুলতলা-বাইগাছি এলাকায় কিছুদিন ধরেই অদৃশ্য স্টিকম্যানের আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে আর রাস্তায় বের হওয়া যাচ্ছে না। অন্ধকার জায়গা বুঝে আক্রমণ করছে স্টিকম্যান। রাস্তার মধ্যে আলো-আঁধারি জায়গা পেলেই সেখানে সপাটে পথচারীদের মারধর করছে স্টিকম্যান। কখনো বাঁশ, কখনো বেত, আবার কখনো মোটা কাঠের লাঠি দিয়ে মানুষকে পিটিয়ে আহত করছে স্টিকম্যান। পিটিয়ে আহত করেই অন্ধকারে মিলিয়ে যাচ্ছে সে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই জানান, অনেক ক্ষেত্রে মোটরসাইকেলে চেপে আক্রমণ করছে স্টিকম্যান। অন্ধকারের মধ্যে ঝড়ের গতিতে পথচারীদের মারধর করেই পালিয়ে যায় সে। কোনোভাবেই ধরা যাচ্ছে না তাকে।

অদ্ভুত বিষয় হলো, স্টিকম্যান পথচারীদের শুধু মারধর করে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ কায়েম করতে চাইছে। এরই মধ্যে স্টিকম্যানের আক্রমণে এলাকার অনেকের হাত ও পা ভেঙেছে। কিন্তু কারো কাছ থেকে কোনো রকম জিনিসপত্র ছিনতাই করেনি এই স্টিকম্যান। অদ্ভুত এই কাণ্ড-কারখানায় রীতিমতো কপালে চিন্তার ভাঁজ উঠেছে প্রশাসনের। কেউ ভেবে পাচ্ছে না, আসলে স্টিকম্যানের উদ্দেশ্যটাই কী?

গত শুক্রবার রাতে স্টিকম্যানের হাতে আক্রান্ত হওয়ার পর স্থানীয় রুদ্রপুরের বাসিন্দা শ্যামল দাস বলেন, অন্ধকারের মধ্যে স্টিকম্যানের আক্রমণের সময় টর্চের আলোয় তার হাতে ট্যাটু দেখতে পান তিনি। এরপর বিষয়টি হাবড়া থানাতেও জানানো হয়। ট্যাটুর সূত্র ধরে পুলিশ শনিবার এলাকা থেকে গায়ে ট্যাটু লাগানো চার যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু এতেও সমস্যার সমাধান হয়নি। শনিবার রাতেই স্টিকম্যান ফের আক্রমণ চালিয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দার হাত ভেঙে পালিয়ে যায়। ফলে চাপ বেড়েছে প্রশাসনের ওপর। হাবড়ার বাসিন্দাদের ভয় কাটাতে এখন সন্ধ্যার পর এলাকাজুড়ে চলছে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের তল্লাশি।

জানা গেছে, এলাকায় প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান পাঠানো হয়েছে। সন্ধ্যা থেকেই এলাকায় টহল দিচ্ছেন তাঁরা। কথাও বলছেন এলাকাবাসীর সঙ্গে। বিভিন্নভাবে জানার চেষ্টা করছেন স্টিকম্যানের গতিবিধি। সেই সঙ্গে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশও। রাতভর এলাকায় টহলদারি জারি রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে তল্লাশি চালানো হচ্ছে প্রতিটি বাইকে। পুলিশের তল্লাশির জেরে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। কিন্তু এখনো পর্যন্ত ধরা পড়েনি আসল স্টিকম্যান। আর পুলিশের যতই টহলদারি থাকুক, স্টিকম্যান ধরা না পড়ায় আতঙ্ক কাটেনি এলাকাবাসীর।

বিষয়টি নিয়ে হাবড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেবাশীষ চক্রবর্তী বলেন, কেউ বদমায়েশি করে এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়াতে চাইছে। স্রেফ মজা করার জন্যই কেউ এমন ঘটনা ঘটাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। খুব শিগগির ওই স্টিকম্যানকে পুলিশ গ্রেপ্তর করতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: