মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৫ আশ্বিন ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই

প্রকাশিত : ৯ মে ২০১৬

অবশেষে সেই ঠিকাদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ক্বরিৎকর্মা এই ঠিকাদার রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক। শুক্রবার রাজধানীর মিরপুরের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। সম্প্রতি চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনায় ২ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের অতিরিক্ত উপ-পরিচালকের ভবন নির্মাণের কাজে রডের বদলে বাঁশসহ নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের হোতা ওই কোম্পানি। এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে সারাদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এতদিন সরকারী নির্মাণকাজে নানা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের খবর মিললেও রডের বদলে বাঁশ, সিমেন্টের বদলে চুন, সুরকি ব্যবহারের খবর পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি দ্বিতল ভবনটির নির্মাণ কাজ প্রায় সম্পন্ন করেই ফেলেছিল। চলতি বছরের জুন মাসে ভবনটি হস্তান্তরের কথা। যা হোক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সরেজমিন পরিদর্শনের পর ১১ এপ্রিল দামুড়হুদা থানায় মামলা দায়ের করা হয়। তাতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মালিক, পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রকল্পের ক্রয় বিশেষজ্ঞ ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপসহকারী পরিচালককে আসামি করা হয়। শেষোক্ত তিনজন এখনও পলাতক।

উপরোক্ত ঘটনাটি সরকারী পুকুরচুরির সামান্য একটি নমুনা মাত্র। সরকারী অর্থায়নে সারাদেশে অসংখ্য ও অগণিত প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়িত হচ্ছে। সত্যি বলতে কী, এগুলোর প্রায় প্রতিটির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মসহ নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ আছে। এর পাশাপাশি ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ তো প্রায় প্রকল্পেরই নিত্যসঙ্গী। সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি গ্র্যান্টস কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা কর্তৃক খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো ভবন নির্মাণ প্রকল্পের মূল্যায়নের জন্য দশ লাখ টাকা উৎকোচ চাওয়ার বিষয়টি ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের আওতায় সারাদেশে নির্মিত স্কুল-কলেজের ভবন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে। এ নিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী স্বয়ং তীব্র ক্ষোভ উদ্্গিরণ করেছেন। বিভিন্ন স্থানে সরকারী অর্থায়নে ভবন নির্মাণ, রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংস্কার, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ ইত্যাদিতে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ প্রায়ই প্রকাশিত হয়ে থাকে গণমাধ্যমে। প্রকল্পের অর্থ নয়-ছয়সহ লুটপাটের অভিযোগও নতুন নয়। এর পাশাপাশি মেয়াদান্তে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়া, নানা অজুহাতে মেয়াদ বাড়িয়ে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি, ভুয়া ও অস্তিত্বহীন প্রকল্পÑএসবও আছে। আর এ কারণেই বোধহয় ‘সরকারী মাল দরিয়ামে ঢাল’ প্রবচনটির বহুল ব্যবহার। এতে দুর্ভোগ বাড়ে দেশবাসীর। অপ্রিয় হলেও সত্য যে, এসব অন্যায়-অনিয়ম-ঘুষ দুর্নীতির প্রায় কোন বিচারই হয় না অধিকাংশ ক্ষেত্রে। দু’একটি অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনা প্রকাশিত হলেও অভিযুক্তরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। তবে আশার কথা এই যে, আস্তে ধীরে হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। বর্তমান সরকারের আমলে দুর্নীতি-অনিয়মের ঘটনা প্রকাশিত হচ্ছে গণমাধ্যমে। অভিযুক্তরা ধরাও পড়ছে, বিচারও চলছে। দামুড়হুদার ঘটনা এর সর্বশেষ উদাহরণ। দুদক ও সংশ্লিষ্ট থানার উচিত দ্রুত তদন্ত শেষ করে চার্জশীট প্রদান এবং ঘটনাটি দ্রুত বিচার আদালতে দায়ের করা। দু’একটি ক্ষেত্রে দ্রুত বিচার করে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হলে আগামীতে সরকারী অর্থায়নে নির্মাণকাজে অনিয়ম-দুর্নীতি-গাফিলতি কমে আসবে বলে আশা করা যায়।

প্রকাশিত : ৯ মে ২০১৬

০৯/০৫/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: