২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

যুদ্ধাপরাধী বিচারের রায়ের মূল কপি থাকবে আর্কাইভে


যুদ্ধাপরাধী বিচারের রায়ের মূল কপি থাকবে আর্কাইভে

নাজনীন আখতার ॥ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায়ের মূল কপি জাতীয় আর্কাইভসে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সার্টিফায়েড কপি আর্কাইভসে সংরক্ষণ করা হবে। সংসদীয় কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতে এ বিষয়ে আইনী বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে রায়ের মূল কপি পেতে ইতোমধ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সুপ্রীম কোর্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

সূত্র জানিয়েছে, গত বছরের ২৬ মে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে যত রায় দিয়েছে তার মূল কপি বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সার্টিফায়েড কপি জাতীয় আর্কাইভসে সংরক্ষণের সুপারিশ করা হয়। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে এ বিষয়ে অগ্রগতি হয়। সর্বশেষ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের চিঠির প্রেক্ষিতে আর্কাইভ অধিদফতর থেকে দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গত ১৯ এপ্রিল সুপ্রীম কোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার জেনারেল অরুনাভ চক্রবর্তীর সঙ্গে সাক্ষাত করেন। প্রতিনিধি দল সুপ্রীম কোর্টের রেকর্ডরুম এবং স্ট্রংরুম পরিদর্শন করেন। সেখানে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়ের কপি ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায়ের কপি এবং নথিপত্র দেখেন।

প্রতিনিধি দল এ সব রায়ের মূল কপি জাতীয় আর্কাইভসে সংরক্ষণের বিষয়ে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত ও সুপারিশের বিষয় তুলে ধরেন অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে। প্রতিনিধি দল আরও জানায়, এ বিষয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী ও সচিবের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। মামলার রায়ের কপির বিষয়টি বিচারাধীন এবং আর্কাইভস আইন অনুযায়ী ২৫ বছর অতিক্রান্ত হয়নি। জাতীয় আর্কাইভস এখুনি এসব মামলার রায়ের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করতে ইচ্ছুক। এ বিষয়ে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার জেনারেল একমত পোষন করে পরবর্তী কার্যক্রম নেয়ার পরামর্শ দেন।

এদিকে এ বিষয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সিমিন হোসেন রিমি রবিবার জনকণ্ঠকে বলেন, এক বছর আগে সংসদীয় কমিটি এ সুপারিশ করে। ৪ মে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির সর্বশেষ বৈঠকেও এর অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। রায়ের কপি জাতীয় আর্কাইভে স্থায়ী সংরক্ষণের জন্য যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও চেতনা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য নিয়েই এ সুপারিশ করা হয়। এক বছরে এ বিষয়ে বেশ কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে রায়ের মূল কপি সংগ্রহে আইনী প্রক্রিয়া শেষ হতে হবে। এর জন্য সময় প্রয়োজন। এছাড়া আর্কাইভসে সংরক্ষণে কোন ধরনের আইনী জটিলতা নেই।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের সময়ে ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠণের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়। এর মধ্যে ট্রাইব্যুনাল রায় দেয়ার পর বেশিরভাগই সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ পর্যন্ত পৌঁছেছে। বতর্মানে মীর কাশেমের আপীল চুড়ান্ত রায়টি হলো আপীল বিভাগের সপ্তম রায়। এর আগের ছয়টি রায়ের মধ্যে চারটিতে জামায়াতের দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, জামাযাতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। আপীল বিভাগের আরেক রায়ে জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। সেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হওয়ার পর দুই পক্ষের করা রিভিউ আবেদন এখন নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। আর সর্বশেষ ৫ মে রায়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর সর্বোচ্চ সাজা বহাল রেখেছে আপীল বিভাগ। ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ হলে দন্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু করবে কারা কর্তৃপক্ষ। শুনানি চলার মধ্যেই মুক্তিযুদ্ধকালীন জামায়াত আমির গোলাম আযম ও বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীমের মৃত্যু হওয়ায় তাদের আপীলের নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: