১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আগামী বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে


আগামী বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে

এম শাহজাহান ॥ দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে আগামী বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ দুটি খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রফতানি হবে দক্ষ মানবসম্পদ। বাড়বে বৈদেশিক মুদ্রার সবচেয়ে বড় উৎস রেমিটেন্স। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানায় চাকরি পাবেন দক্ষ ও অভিজ্ঞরা। ফলে বিদ্যমান বিনিয়োগের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে। এছাড়া ভবিষ্যত প্রজন্মকে সুস্বাস্থ্য নিয়ে বেড়ে উঠতে পুষ্টির নিশ্চয়তা দেয়া হবে। কমবে চিকিৎসা ব্যয়। সহজলভ্য করা হবে চিকিৎসা উপকরণাদি। আসছে বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত নিয়ে এ ধরনের একটি বড় পরিকল্পনা নিয়ে বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

এদিকে, চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে গত বাজেটের চেয়ে বরাদ্দ কমানো হয়েছে। এ নিয়ে বাজেট ঘোষণার পরই ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বরাদ্দ কমানোর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ দুটি খাত কিছুটা পিছিয়েও পড়েছে। অথচ গত এক দশকে দেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন এবং অর্জন হয়েছে এ দুটি খাতেই। মাতৃ মৃত্যুরোধ এবং শিশু মৃত্যুহার কমে আসায় এমডিজি অর্জনে ব্যাপক সফলতা পেয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া গত এক দশকে শিক্ষায় ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে। এ সবের ধারাবাহিকতায় এবার ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে অর্থমন্ত্রী এ দুটিখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়ার আভাস দিয়েছেন। সম্প্রতি প্রাক-বাজেট আলোচনায় মুহিত জানান, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যখাতেই এবার সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হবে। কিভাবে এ দুটি খাতে বরাদ্দ বাড়ানো যায় সে লক্ষ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, তিনি যথার্থই বলেছেন। এবারের বাজেটে এ দুটি খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ দুটি খাতের বরাদ্দ এক ধরনের বিনিয়োগও। শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়ানোর ফলে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার কার্যক্রমগুলো আরও গতিশীল হবে। রফতানি হবে দক্ষ জনশক্তি। এতে করে এখন যে রেমিটেন্স আসছে তার চেয়ে বেশি আসবে। এছাড়া দেশেও বিরাট দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মীবাহিনী তৈরি হবে। কারখানাগুলোতে উৎপাদন বাড়বে। ফলে বিদ্যমান যে বিনিয়োগ রয়েছে, তারও উৎপাদন ক্ষমতা কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। তিনি বলেন, আর স্বাস্থ্যখাতে নজর দেয়া হচ্ছে ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা বিবেচনা করে। এতে করে পুষ্টি নিয়ে শিশুরা বেড়ে উঠবে। ব্যয় কমবে চিকিৎসার। এ কারণে এ দুটি খাতে এবার সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দিচ্ছে সরকার।

জানা গেছে, চলতি বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১২ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা। এর আগের অর্থবছরে তা ছিল ১১ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা। ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকার মোট বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের অংশ মাত্র ৪ দশমিক ৩১ শতাংশ। অথচ গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বরাদ্দ ছিল ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ। আবার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ একই রকম আছে, দশমিক ৭৪ শতাংশ। পাঁচ বছর আগেও স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ ছিল জিডিপির প্রায় ১ শতাংশ।

স্বাস্থ্য খাতের এই বরাদ্দ নিয়ে ইতোমধ্যে হতাশা প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা। তাঁরা বলছেন, চলতি বাজেট দেখে মনে হয়, স্বাস্থ্যের দিকে সরকারের কোন নজর নেই, মনোযোগ নেই। এই বরাদ্দে চিকিৎসা নিতে মানুষের পকেটের খরচ কয়েকগুণ বেড়েছে। বর্তমান দরিদ্র রোগীদের সেবা পাওয়া কঠিন হচ্ছে। তবে এ সবের মধ্যে ভাল খবর হলো, আসছে বাজেটে এ খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। দেরিতে হলেও সরকারের বোধোদয় হয়েছে এটাই বড় কথা। এটা সরকারের একটি ভাল সিদ্ধান্ত।

এদিকে, চলতি বাজেটে টাকার অঙ্কে শিক্ষা খাতের বরাদ্দ বেড়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাদ্দ পেয়েছে ১৭ হাজার ১০৩ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে তা ছিল ১৫ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা। আর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৪ হাজার ৫০২ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে তা ১৩ হাজার ৬৭৩ কোটি টাকা করা হয়। এবারের বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তি এক করে দেখানো হয়েছে। সব মিলিয়ে এই খাত বরাদ্দ পেয়েছে ৩৪ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ২ শতাংশ। আর আগের অর্থবছরে ছিল ২ দশমিক ১৬ শতাংশ। যদিও ইউনেসকোর সুপারিশ হচ্ছে, শিক্ষা খাতে একটি দেশের বরাদ্দ হওয়া উচিত জিডিপির ৬ শতাংশ। অর্থাৎ এক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। আগামী বাজেট প্রণয়নে এসব বিষয় বিবেচনায় নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, বাজেটে বেতন-ভাতা ও সুদ পরিশোধের মতো অনুন্নয়ন খাতে ব্যয় অনেক বেশি বেড়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে অষ্টম পে-স্কেলের বেতন দেয়া শুরু হয়েছে। আসছে নতুন বাজেটে ভাতা কার্যকর করা হবে। এতে সরকারের বাড়তি বরাদ্দ প্রয়োজন হবে। চলতি অর্থবছরে ব্যয়ের সবচেয়ে বড় খাত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বেতন-ভাতা। মোট বরাদ্দের ২৩ শতাংশই খরচ হচ্ছে সরকারী চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে। এর আগে সুদ পরিশোধ ছিল বরাদ্দের সবচেয়ে বড় খাত, প্রায় সাড়ে ১৮ শতাংশ। আর এক বছর আগেও বেতন-ভাতায় ব্যয় হয়েছে ১৭ শতাংশ। ফলে কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর বরাদ্দ বাড়ানোর পদক্ষেপটি চাপে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: