২৪ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

রিজার্ভ হ্যাক ॥ কাল সুইজারল্যান্ডে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক


রিজার্ভ হ্যাক ॥ কাল সুইজারল্যান্ডে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রিজার্ভ চুরির ঘটনার তিন মাস ও নতুন গবর্নরের দায়িত্ব গ্রহণের দেড় মাসের মাথায় বাংলাদেশ ব্যাংকে মহাব্যবস্থাপক পদমর্যাদায় বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ফরেক্স রিজার্ভ এ্যান্ড ট্রেজারি বিভাগের সেই বিতর্কিত মহাব্যবস্থাপক (জিএম) কাজী ছাইদুর রহমানসহ ছয় মহাব্যবস্থাপককে বদলি করা হয়েছে। রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ-১ বিভাগ (এইচআরডি) থেকে এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। এদিকে রিজার্ভ চুরি নিয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক, সুইফট কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দায় নিরূপণে এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে রিজার্ভের অর্থ স্থানান্তরে সুইফট বার্তা ব্যবহার করে যে পাঁচটি আদেশ দেয়া হয়েছিল তা কেন আটকানো গেল না, জানতে চাওয়া হবে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের কাছে। একই সঙ্গে অর্থ চুরির ঘটনায় বেলজিয়ামভিত্তিক কোম্পানি সুইফট কর্তৃপক্ষের কাছেও জবাব চাইবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া রিজার্ভের অর্থ চুরির টাকা আদায়ের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে বৈঠকে। এ উদ্দেশ্যে রবিবার রাতেই সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ফজলে কবিরসহ চার সদস্যের প্রতিনিধি দল।

জানা গেছে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০১ মিলিয়ন ডলার চুরি হয়। অর্থ চুরির ঘটনা সরকারী মহলে যথাসময়ে না জানানোয় চাপের মধ্যে ১৫ মার্চ গবর্নরের পদ থেকে পদত্যাগ করেন ড. আতিউর রহমান। একই দিনে দুই ডেপুটি গবর্নর আবুল কাসেম ও নাজনীন সুলতানাকেও সরিয়ে দেয়া হয়। পরদিন বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চার বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর হিসেবে ফজলে কবিরকে নিয়োগের আদেশ জারি করা হয়। ২০ মার্চ ফজলে কবির আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওই দিন ফজলে কবির সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, রিজার্ভ চুরির অর্থ উদ্ধার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের আস্থা ফেরানোই হবে তার প্রধান কাজ। এছাড়া রিজার্ভ চুরির ঘটনায় গঠিত সাবেক গবর্নর ড. ফরাসউদ্দিনের কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এর আগে ১৬ মার্চ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত কেন্দ্রীয় ব্যাংককে পুরোপুরি ঢেলে সাজানোর কথা জানিয়েছিলেন। ওই সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের অবস্থা স্বাস্থ্যকর নয়। এর বিভিন্ন সিস্টেমের বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে ফরেক্স রিজার্ভ এ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট। প্রায় ২২ বছর যাবত এ বিভাগে কাজ করে আসছেন কাজী সাইদুর রহমান। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধান অনুযায়ী টানা তিন বছরের অধিক কেউ একই ডিপার্টমেন্টে কাজ করতে পারবে না। রিজার্ভ চুরির ঘটনা প্রকাশের পর একই বিভাগে কাজী সাইদুর রহমানকে টানা ২২ বছর রাখা নিয়ে নানা সমালোচনার জন্ম দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত রবিবার এই জিএমকে রংপুর অফিসে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন এইচআরডি-২ এর জিএম আজিজুর রহমান। আর এইচআরডি-১ এর জিএম কাজী এনায়েত হোসেনকে এইচআরডি-২ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট এ্যান্ড স্ট্র্যাটিজিক ডিপার্টমেন্টের (এফএসএসএসপিডি) জিএম জোয়ারদার ইসরাইল হোসেনকে গবর্নর সচিবালয়ে বদলি করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমির (বিবিটিএ) জিএম জামাল মোল্লাকে দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেডে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া কাজী এনায়েত হোসেনকে এইচআরডি-২ এর জিএম হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আর এইচআরডি-১ এর মহাব্যবস্থাপক মোঃ সহিদুল ইসলামকে ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট এ্যান্ড স্ট্র্যাটিজিক ডিপার্টমেন্টে (এফএফএসপিডি) বদলি করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচারক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা জনকণ্ঠকে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যক্রমে গতি আনতে কিছু রদবদল করা হয়েছে। এ বিষয়ে রবিবার একটি অফিস আদেশও জারি করা হয়েছে।

এদিকে রিজার্ভ চুরি নিয়ে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক, সুইফট কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিতে রবিবার রাতে গবর্নরসহ চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। গবর্নর ছাড়া অন্য সদস্যরা হলেনÑ বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি অপারেশন্স এ্যান্ড কমিউনিকেশন্স ডিপার্টমেন্টের মহাব্যবস্থাপক কাজী নাছির আহমেদ, এ্যাকাউন্টস এ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের মহাব্যবস্থাপক বদরুল হক খান ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের উপ-পরিচালক আবদুল রব। প্রতিনিধি দলটি আগামীকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক ও সুইফট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকেরও দায় রয়েছে। রিজার্ভের অর্থ স্থানান্তরে সুইফট বার্তা ব্যবহার করে যে ৩৫টি আদেশ পাঠানো হয়েছিল, তার মধ্যে ৩০ আদেশ আটকে দেয়া হয়েছিল। অপর পাঁচটি আদেশ কেন আটকানো গেল না। এক্ষেত্রে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক কোনভাবেই তাদের দায় এড়াতে পারে না। পাশাপাশি সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে অর্থ চুরির ঘটনা ঘটায় বেলজিয়ামভিত্তিক সুইফট কর্তৃপক্ষেরও দায় রয়েছে। তবে দুর্বলতা আসলে কোন্ পক্ষের সে বিষয়টি কেউ পরিষ্কার করছেন না। বৈঠকে এ বিষয়গুলো পরিষ্কার হতে পারে। যদিও ঘটনার পর ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক ও সুইফট কর্তৃপক্ষ একাধিকবার বলেছে যে, তাদের কোন দায় নেই। সব দায় বাংলাদেশ ব্যাংকেরই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা জনকণ্ঠকে বলেন, বৈঠকে রিজার্ভের অর্থ চুরি ও তা আদায়ের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। এ ঘটনায় ফেডারেল রিজার্ভ ও সুইফট কর্তৃপক্ষের দায় নিরূপণ নিয়ে আলোচনা হবে কিনাÑ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা মূলত ত্রিপক্ষীয় বৈঠক। এখানে রিজার্ভ চুরি ইস্যুতে সার্বিক বিষয়েই আলোচনা হবে।