২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

৪৫ বছর পর শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের সন্ধান


এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার ॥ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হায়েনাদের গুলিতে শহীদ উপজাতি যোদ্ধা পার্বত্য নাইক্ষ্যংছড়ির লাপ্রে ম্রোর সন্তানের সন্ধান পেয়েছে স্থানীয় প্রশাসন এবং মোজাফফর আহম্মদ ও রমেশ বড়ুয়া। বান্দরবানের এ শহীদের একমাত্র সন্তান সিনতন ম্রোর খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় খবর নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। লাপ্রে ম্রো হানাদার বাহিনীর গুলিতে শহীদ হওয়ার সময় প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন সহযোদ্ধা রামুর মোজাফফর আহম্মদ ও রমেশ বড়ুয়া। দীর্ঘ ৪৫ বছর পাহাড়ে জুম চাষ করে এখনও বেঁচে আছেন সিনতন ম্রো। তাঁর বসবাস পাহাড়ের চূড়ায়। বাবা স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন দিলেও আজও রাষ্ট্রের কোন সুযোগ-সুবিধা পায়নি তারা। সিনতন ম্রোকে সঙ্গে নিয়ে ২৬ মার্চ রাতে স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেছে নাইক্ষ্যংছড়ি ও রামু এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা।

অনেক অমুক্তিযোদ্ধা অবাধে নানা সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছে। অথচ বান্দরবান জেলার একমাত্র শহীদ লাপ্রে ম্রোর সন্তান সিনতন ম্রোর কপালে জোটেনি কিছুই। বসবাস করছেন পাহাড়ের চূড়ায় ঝুপড়িতে। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা তো দূরে থাক, ন্যূনতম কোন সুযোগ-সুবিধাও পায়নি পরিবারটি। সূত্র জানায়, মিয়ানমার সীমান্তের দুর্গম অরণ্য ঘেরা পাহাড়ি গ্রাম কুরুপপাতা ঝিরি এলাকা থেকে সিনতন ম্রোকে (মুরুং) ২৪ মার্চ বিকেলে নাইক্ষ্যংছড়ি ইউএনও এএসএম শাহেদুল ইসলামের অফিসে নিয়ে আসে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। ইউএনও জানান, সিনতন ম্রোকে না পাওয়ায় এতদিন তাকে কোন সুযোগ-সুবিধা দেয়া যায়নি। এখন তার সন্ধান পাওয়া গেছে। তার জন্য কিছু করার সুযোগ এসেছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি অধ্যাপক শফি উল্লাহর সঙ্গে এসে সিনতন ম্রো জানান, হানাদার বাহিনী তার বাবাকে অন্তত পাঁচটি গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ২৫ ঘরের পাড়া জ্বালিয়ে দেয়।

তাদের ৩০ হাজার কেজি ধান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পর হানাদার বাহিনী ফিরে গেলেও ম্রো পরিবারগুলো আর গ্রামে ফিরে আসেনি। তিনি জানান, বাবাকে হারিয়ে পুরো পরিবার গ্রামছাড়া হয়ে পাহাড়ের পর পাহাড় ঘুরে বেড়িয়েছি ৪৫ বছর। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান তিনি।