২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড়


পাকিস্তানের লাহোরে গুলশান ই-ইকবাল পার্কে রবিবারের আত্মঘাতী বোমা হামলা ঘটনায় বিশ্বব্যাপী নিন্দা প্রকাশ করা হয়েছে। পার্কে খ্রীস্টানদের ইস্টার সানডে উদযাপনকালে সংঘটিত এ বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা ৭২ জনে দাঁড়িয়েছে এবং ৩শ’ জনের বেশি আহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পাকিস্তান তালেবানের একটি উপদল এর দায়িত্ব স্বীকার করে। খবর এএফপি ও বিবিসি অনলাইনের।

জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন রবিবার গুলশান ই-ইকবাল পার্কে ইস্টার সানডে পালনকালে আত্মঘাতী বোমা হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এ হামলাকে মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেছেন। এ ভয়াবহ সন্ত্রাসী কর্মকা- যারা ঘটিয়েছে তাদের বিচারের সম্মুখীন করার আহ্বান জানান তিনি। মহাসচিব পাকিস্তানে বসবাসকারী ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ সকল নাগরিকের দৈহিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেয়ার জন্য ইসলামাবাদ সরকারের কাছে আহ্বান জানান। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান। ভ্যাটিকান বোমা হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটা সংখ্যালঘু খ্রীস্টানদের বিরুদ্ধে এক উন্মত্ত সহিংসতা। যুক্তরাষ্ট্র ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটা কাপুরুষোচিত আত্মঘাতী হামলা। দেশটিতে ওই সন্ত্রাসীদের নির্মূলে পাকিস্তানের সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেছেন, লাহোরে সন্ত্রাসী হামলায় তীব্র ভাষায় নিন্দা জানাচ্ছে ওয়াশিংটন। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের কাছে টেলিফোন করে লাহোরে বোমা হামলার ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। মোদি রবিবার বলেছেন, শিশু ও নারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। কাপুরুষ সন্ত্রাসীদের নিরপরাধ শিশু ও নারীর ওপর হামলা নিন্দনীয়। তিনি বলেন, এ দুঃখজনক ঘটনায় আমরা পাকিস্তানী জনগণের পাশে আছি। মালালা ইউসুফজাই এক বিবৃবিতে বলেছেন, লাহোরে নিরপরাধ মানুষের ওপর এ নির্মম হত্যাকা-ে আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি।

পাকিস্তান তালেবানের একাংশ বলেছে, এ হামলা তারা চালিয়েছে। এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের ওয়েবসাইটে এ কথা বলা হয়। ওই অংশ জামাতুল আহরারের এক মুখপাত্র বলেন, লাহোরে খ্রীস্টানদের ইস্টার সানডে পালনকালে তাদের ওপর এ হামলার দায় স্বীকার করছি আমরা। তারাই ছিল আমাদের টার্গেট। কিন্তু পুলিশ বলেছে, একটা সম্পূর্ণ তদন্তের আগে দায় স্বীকারের দাবির ব্যাপারে তারা কিছুই বলতে পারছেন না।

পাকিস্তানের ২০ কোটি জনসংখ্যার প্রায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বী। তারা বৈষম্যের শিকার দীর্ঘকাল ধরে।