মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১০ আশ্বিন ১৪২৪, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

অবশেষে জ্বালানি তেলের দাম কমানো হচ্ছে

প্রকাশিত : ২৯ মার্চ ২০১৬
অবশেষে জ্বালানি তেলের দাম কমানো হচ্ছে

রশিদ মামুন ॥ জ্বালানি তেলের দাম কমাতে যাচ্ছে সরকার। সহসা তেলের দাম কমানোর কথা জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। এর আগে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন জানুয়ারির শেষ দিকে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের প্রস্তাব দেয় অর্থ বিভাগে। ওই প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার।

বিদ্যুত জ্বালানি খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এ প্রসঙ্গে সোমবার বিকেলে বলেন, সহসাই তেলের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত আসবে। প্রথমে বিদ্যুত উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম কমবে। পর্যায়ক্রমে অন্য জ্বালানি তেলের দামও কমানো হবে। তিনি একই সঙ্গে জানান, বিদ্যুত উৎপাদনে এখন গড়ে এক টাকা করে ইউনিট প্রতি লোকসান হচ্ছে যা সমন্বয় করা হবে। একই সঙ্গে গ্যাসের দামও সম্বয়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

জ্বালানি বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খুব শীঘ্রই ফার্নেস অয়েলে (এইচএফও) এর দাম কমানো হবে। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সম্মতির অপেক্ষায় রয়েছে জ্বালানি বিভাগ। সম্মতি মিললে চলতি সপ্তাহের মধ্যেও দাম কমানোর প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে। পর্যায়ক্রমে অন্য জ্বালানি তেলের দামও কমানো হবে বলে জানায় ওই সূত্র।

বিদ্যুত বিভাগ সূত্র জানায়, গ্রীষ্মে বিদ্যুত উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য তরল জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হয়। দেশে তিন হাজার মেগাওয়াট তরল জ্বালানি বিদ্যুত কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ফার্নেস অয়েলে চলে প্রায় দুই হাজার ৭০০ মেগাওয়াট কেন্দ্র। পিডিবি দৈনিক ভিত্তিতে জ্বালানি তেল কিনে বিদ্যুত কেন্দ্রে সরবরাহ করে। দেখা যায় গেল শনিবার ৪৩ কোটি টাকার জ্বালানি তেল কেনা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে চলতি বছর গ্রীষ্মে দৈনিক ৫০ কোটি টাকার তরল জ্বালানির প্রয়োজন হবে কেন্দ্রগুলোর। তবে গ্যাসের স্বল্পতায় দিন রাত একই হারে কেন্দ্রগুলো চালানো হলে বাড়তে পারে এই খরচ।

বিদ্যুত বিভাগ বলছে, এখন ৩০ শতাংশ জ্বালানি তেল আমদানি করা হয় বেসরকারীভাবে। এসব কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ব্যয়ও অর্ধেকের কম। নিজস্ব উদ্যোগে আমদানি ফার্নেস অয়েল দিয়ে যেসব কেন্দ্র বিদ্যুত উৎপাদন করছে তারা প্রতি ইউনিট বিদ্যুত দিতে সরকারের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৭ টাকা নিচ্ছে। আর সরকারী উদ্যোগে বিপিসির কাছ থেকে তেল নিয়ে উৎপাদন করা কেন্দ্রগুলো নিচ্ছে ১৩ টাকার মতো। এতে এক ধরনের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। বিপিসি তেল বিক্রি করে মুনাফা করলেও অতিরিক্ত বিদ্যুত উৎপাদন করতে গিয়ে লোকসান গুনতে হচ্ছে পিডিবির।

বিদ্যুত বিভাগ জানায়, সম্প্রতি বিষয়টি তুলে ধরে এ বিষয়ে সরকারে উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করা হয়। জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় না করলে গ্রীষ্মে বিদ্যুত উৎপাদনে আর্থিক সংকটের কথাও জানানো হয়। সরকার যে পরিমাণ ভর্তুকি রেখেছে বিদ্যুত উৎপাদনে তা ছাড়িয়ে যাবে বলে বৈঠকে জানানো হয়। সূত্র জানায়, গ্রীষ্মে আট হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের মধ্যে তিন হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন হবে তরল জ্বালানি দিয়ে। জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় না করলে কৃষি সেচ ব্যহত হবে।

জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তা জানান, এর মধ্যে বিপিসি লোকসান কাটিয়ে উঠেছে। এছাড়া জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের বিষয়ে সরকারের ওপর ব্যবসায়ীদের চাপও বাড়ছে। দেশে বিদ্যুত উৎপাদনের একটি বড় অংশ তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে আসে। জ্বালানি তেলের দাম না কমানোতে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। একদিকে সরকারের প্রতিষ্ঠান বিপিসি লাভ করলেও লোকসান গুনছে বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। সবগুলো বিষয় মাথায় রেখেই সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি। তবে সরকার এতদিন বিপিসিকে যে অর্থ ভর্তুকি হিসেবে দিয়েছে এখন অর্থ বিভাগ তা ঋণ হিসেবে দেখিয়ে ওই অর্থ ফেরত চাইছে। অর্থ ফেরত দিতে হলে এ মুহূর্তে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা কঠিন হবে। কারণ এর পরিমাণ ২৬ হাজার কোটি টাকা।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, দেশে সর্বশেষ জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয় ২০১৩ সালের ৪ জানুয়ারি। তখন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ১২০ থেকে ১২৫ মার্কিন ডলারে ওঠা নামা করছিল। তখন দেশে দাম বাড়িয়ে প্রতি লিটার অকটেন ৯৯ টাকা, পেট্রোল ৯৬, ডিজেল ও কেরোসিন ৬৮ এবং ফার্নেস অয়েল ৬০ টাকা করা হয়। এখন পর্যন্ত এই দামেই জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে। তবে এখন আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে ২৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব বাজারের অব্যাহত পতনের মধ্যে দেশে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। বিগত ২০১৪ সালের জুন মাস থেকে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অব্যাহতভাবে কমতে শুরু করে। প্রায় দুই বছর ধরেই জ্বালানি তেলে লাভ করেছে বিপিসি। বিপিসি তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে জ্বালানি তেল বিক্রিতে তারা লাভ করেছে ১০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। আর জ্বালানি তেলের বর্তমান দাম বজায় থাকলে বিপিসি চলতি অর্থবছরে লাভ করবে ১২ হাজার কোটি টাকা।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ বলছে জ্বালানি তেলের দাম আগামী বছরগুলোতে বৃদ্ধির সম্ভাবনা কম। ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ তুলে দেয়ার পর জ্বালানি তেলের দাম আরও কমতে পারে। এছাড়া সৌদি আরব এক তরফাভাবে তেলের উৎপাদন বৃদ্ধি করায় আগামী কয়েক বছর জ্বালানি তেলের দাম খুব একটা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই। বলা হচ্ছে জ্বালানি তেল সমৃদ্ধ দেশগুলো বাজেট ঘাটতি মেটাতে বেশি বেশি জ্বালানি বিক্রি করছে। যদিও এখন মাঝে মাঝে বিশ্ববাজারে সামান্য পরিমাণ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে।

এখন ৬৮ টাকা প্রতি লিটার ডিজেল এবং কেরসিন বিক্রি করে বিপিসি সরকারকে ভ্যাট ট্যাক্স দেয়ার পরও ২৬ থেকে ২৭ টাকা লাভ করছে। প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েল ৬০ টাকায় বিক্রি করে একই পরিমাণ লাভ হচ্ছে। অন্যদিকে পেট্রোল ৯৬ টাকা আর অকটেন ৯৯ টাকায় বিক্রি করে লাভ করছে ৩৬ থেকে ৩৭ টাকা।

প্রকাশিত : ২৯ মার্চ ২০১৬

২৯/০৩/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: