২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

যোগ্য প্রতিষ্ঠানের আবেদন শুরু ৩ এপ্রিল


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ আগামী ৩ এপ্রিল থেকে একমি ল্যাবরেটরিজের যোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের চাঁদা গ্রহণ শুরু হবে। এটি চলবে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ৮৫ দশমিক ২০ টাকা করে মোট আড়াই কোটি শেয়ার কিনবে। তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে চাঁদা গ্রহণ ১১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রবাসীরাও একই সময় থেকে আইপিও আবেদন করতে পারবেন। তবে সাধারণ বিনিয়োগকারী, প্রবাসী ও মিউচুয়াল ফান্ড এই আবেদন করবে কাট অব প্রাইসে।

পূর্ব নির্ধারিত সময়ে চাঁদা উত্তোলন করলেও কোম্পানিটির আইপিও নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারী ও বাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। টানা পতনে থাকা বাজার থেকেই এই সময়ে ৪০৯ কোটি টাকা উত্তোলনের সময়টা নিয়েও অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, একমির মতো কোম্পানির চাঁদা গ্রহণের জন্য নতুন ফান্ড বাজারে না আসার কারণে টানা পতন ঘটছে। এছাড়া তারা এই পরিস্থিতিতে আইপিও এবং রাইট অনুমোদনেরও কড়া সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, নতুন ফান্ড না আসায় এমনি বাজারে ক্রেতা সঙ্কট, এই পরিস্থিতিতে নতুন করে টাকা উত্তোলন করলে তারল্য সঙ্কট আরও বাড়তে পারে।

অন্যদিকে চাঁদা গ্রহণ করতে যাওয়া একমির ক্যাশফ্লো বা নগদ প্রবাহ হিসেবে বড় ধরনের গরমিল পাওয়া গেছে। কোম্পানিটিকে ইউএনডিপি ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছিল। কিন্তু এই অনুদান ২০১২-১৩ অর্থবছরের ক্যাশফ্লোতে দেখানো হয়নি। পরবর্তীতে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের অনুদানে এটি ক্যাশফ্লো হিসাবে দেখানো হয়েছিল। তবে কোম্পানিটি অনুদানের অর্থ ব্যবহার না করে নিজেদের অন্যান্য আয়ের মধ্যে দেখিয়েছে। একইসঙ্গে কোম্পানিটির আর্থিক হিসাবের ক্যাশফ্লোতে পৃষ্ঠাভেদে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রকাশ করেছে। ড্রাফট প্রসপেক্টাসের ১৯৪ পৃষ্ঠায় ২০১২-১৩ অর্থবছরের ক্যাশফ্লোতে জমির বিপরীতে ৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা অগ্রিম প্রদান হিসাবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু ১৫৪ পৃষ্ঠার ক্যাশফ্লোতে তা নেই।

এছাড়া কোম্পানি নগদ লভ্যাংশ পরিশোধেও ব্যর্থ হয়েছে। কোম্পানিটি ২০১২-১৩ অর্থবছরে মধ্যবর্তীকালীন ৯ কোটি ৯০ লাখ ও বছরের জন্য আরও ৩৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মধ্যবর্তীকালীন ৩২ কোটি ৩২ লাখ টাকার নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। তবে কোম্পানিটি এখনও ২০১২-১৩ অর্থবছরের লভ্যাংশ ২০১৩-১৪ অর্থবছর শেষেও সম্পূর্ণ প্রদান করেনি। যে কারণে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে শেষেও কোম্পানিটির কাছে শেয়ারহোল্ডারদের ৬০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।

একইসঙ্গে কোম্পানির নিজের ঋণ সব সময়ই বাড়িয়েছে। তাই এত চড়া মূল্যে কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে তা ফিরে পেতে ঝুঁকির মাত্রা বেশি থাকবে। দেখা গেছে, কোম্পানিটির ২০১৩-১৪ অর্থবছর শেষে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদীসহ প্রায় ৮শ’ ৯০ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে। কোম্পানিটি নিয়মিতভাবে ঋণের পরিমাণ বাড়াচ্ছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ২শ’ কোটি টাকা সংগ্রহের পরেও এটিরও ঋণ আরও বেড়েছে।

এই বিষয়ে হেলাল উদ্দিন (এফসিএমএ) বলেন, এ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী (হিসাব মান) কোন কোম্পানি নগদ টাকা পেলে তা ক্যাশফ্লো হিসাবে থাকবে। এমন না যে একবছর থাকবে তো আরেক বছর থাকবে না। আর একই বিষয়ে পৃষ্ঠাভেদে ভিন্ন তথ্য প্রকাশ হতে পারে না।