২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

চলার পথে স্মার্টফোন


প্রতিদিনের চলার পথে অনেক কাজ এখন পথেই সেরে নেয়া সম্ভব। আর এ কাজটি সম্ভব হয়েছে স্মার্টফোনের বদৌলতে। অফিসে ঢোকার আগ মুহূর্তে গাড়ি বসেই যাবতীয় মেইল কিংবা ইনফরমেশনের আপডেট জানার কাজ শেষ করা যায়। সারা দিনে কোথায় কি ঘটছে বা ঘটবে তা সহজেই অনলাইন নিউজ পোর্টাল থেকে জেনে নেয়া সম্ভব। নিজের প্রয়োজনীয় যে এ্যাপস্ কিংবা জরুরী সামগ্রী নেট থেকে মুহূর্তের মধ্যে ডাউনলোড করে নেয়া সম্ভব। এছাড়া ইউটিউব তো রয়েছেই। বিনোদন থেকে শুরু অফিসিয়াল কোন জিজ্ঞাসার উত্তর মিলবে ইউটিউব কিংবা গুগল সার্চের মাধ্যমে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিজেকে আপডেট রাখার কাজটি সহজ করে দিচ্ছে স্মার্টফোন। বাড়িতে বসে গৃহিণীরাও পিছিয়ে নেই। নিজেদের পছন্দের রান্নার রেসিপি থেকে শুরু করে বাচ্চার স্কুলের ভর্তি সংক্রান্ত যাবতীয় ইনফরমেশন নামিয়ে নিচ্ছেন স্মার্টফোনের নেট থেকে। জীবন যেন আগের থেকে অনেক বেশি গতিশীল এবং সহজ হয়ে গেছে। বর্তমান যুগ হচ্ছে প্রযুক্তির যুগ। আর এ প্রযুক্তি এখন জীবনের প্রতিটি পরতে যেন অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে। স্মার্টফোন সহজ হওয়ার কাজটি আরও একধাপ এগিয়ে দিয়েছে। এখন ল্যাপটপ কিংবা নেটবুক বয়ে বেড়াতে হয় না। পকেটে থাকা স্মার্টফোনটিই যেন সব কাজ সেরে দিচ্ছে। যার ফলে সম্ভব হয়েছে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সমান তালে এগিয়ে যাওয়া। এদেশের প্রতিটি সেক্টর এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে। যার ফলে ঘরে বসেই জেনে নেয়া যাবে কোথায়, কখন, কিভাবে কোন কাজটি হচ্ছে। প্রয়োজন শুধু নিজের হ্যান্ডসেটটি থেকে একটা ক্লিক করা।

স্মার্টফোন! একটি আশ্চর্য জাদুর প্রদীপ। কি নেই এর মধ্যে। ছবি এডিটিং থেকে শুরু করে ক্লাউড অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে বহুদূরে প্রিন্ট দেয়া, আর কথা বলা সেটা তো এখন গৌণ একটা বিষয়। সব মিলিয়ে তাবত দুনিয়া এখন আপনার হাতের মুঠোয়।

একটি বিষয় পাঠকদের বলে নেয়া ভাল যে, প্রযুক্তির যত রকম উন্নতি হয়েছে তার সবটুকু বাজার দখল করে রেখেছে পশ্চিমা বিশ্ব। মজার বিষয় হলো, এই প্রযুক্তির সর্বশেষ পণ্যটি অনায়াসে মিলবে এশিয়ার বাইরের মহাদেশে। যদিও এক নিরীক্ষায় দেখা গেছে, মোবাইল ফোন তৈরির বাজার চীন, ইউরোপ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার। আর এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি কোম্পানি ভারতে তৈরি করতে শুরু করেছে। যদিও এর মান নিয়ে একটা সংশয় আছে ক্রেতাদের কাছে। যাই হোক সেদিকে না গিয়ে স্মার্টফোনের দিকে পৃথিবীর সেরা সেরা প্রযুক্তি পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ঝুঁকছে কেন সেই প্রশ্নের একটা উত্তর সাবলীলভাবে বলার চেষ্টা করা যায়। স্মার্টফোন এমন একটা ডিভাইস, যেটাকে আপাতদৃষ্টিতে ছোট্ট কম্পিউটার ভাবলে ভুল হবে না। ইউরোপে ব্রাকলেস ব্যাংক তার ৪০০ শাখা বন্ধ করে দিয়েছে। কেন দিয়েছে তার কারণ, তারা খুব উন্নত সফটওয়্যার তৈরি করেছে যা দিয়ে স্মার্টফোনের মাধ্যমে লেনদেন ও এ্যাকাউন্ট ক্রিয়েট করতে পারবে। পশ্চিমা বিশ্বে স্মার্টফোনের মাধ্যমে এত এ্যাপ্লিকেশন ব্রাউজ করে মানুষ, যা ল্যাপটপ থেকেও বেশি। পৃথিবীর বিখ্যাত প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ইলেক্ট্রনিক্স, সনি এবং চীনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হুয়াহুই ও জেড টিই তারা তাদের বিভিন্ন প্রযুক্তি পণ্য নির্মাণ করার চিন্তায় এখন স্মার্টফোন তৈরিতে বেশি শ্রম ও অর্থ বিনিয়োগ করছেন। ছোট্ট একটা পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ট্যাব পিসিতে ফোন যুক্ত করা হয়েছে। যার চেহারা পাল্টে গেছে। অন্যদিকে টিভি দেখার প্রযুক্তি বিল্টইন করা হয়েছে বহু আগেই। এখন একটা তথ্য পাঠকদের দেয়া দরকার। সেটা হলো এ প্রতিষ্ঠানগুলো স্মার্টফোন তৈরিতে এশিয়ার দিকে একভাবে নজর দেয় আবার পশ্চিমা বিশ্বের ক্রেতাদের জন্য একভাবে নজর দেয়, এই ছোট্ট পার্থক্য আমরা হয়ত খালি চোখে বুঝব না।

কিন্তু এক্সপার্টরা বুঝবে। একটা উদাহরণ দেই, এখানকার ফোনগুলোর মনিটর বা ডিসপ্লে আকারে বড় করার পিছনে সব থেকে বড় কারণ হলো এশিয়ার ক্রেতাদের মাঝে বড় ডিসপ্লে সমৃদ্ধ স্মার্টফোন জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বিক্রিও হয়েছে অনেক। অন্যদিকে ইউরোপে এই একই কোম্পানির স্মার্টফোনগুলোর ডিসপ্লে তুলনামূলকভাবে ছোট করা হয়েছে কারণ যাতে করে তারা তাদের পকেটে প্রবেশ করাতে পারে সহজেই।

দুনিয়া এখন হাতের মুঠোয় এ কথাটি যেন স্মার্ট ফোনের জগতে খুব বেশি কার্যকর। ফোন কলের মাধ্যমে দ্রুত জেনে নেয়া যায় কার অবস্থান কোথায়। দেশে কিংবা দেশের বাইরে থ্রিজি কলের মাধ্যমে কিংবা ভাইবার-স্কাইপের মাধ্যমে দূর দেশের বন্ধুকেও কাছে পাওয়া সম্ভব। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে স্মার্টফোন যেন এক অপরিহার্য উপকরণ। এর সঠিক ব্যবহার আমাদের বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।

মডেল : তুর্য ও সামিয়া