২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

চট্টগ্রামে অনুমোদন ছাড়াই বেসরকারী হাসপাতালে আইসিইউ ও সিসিইউ


আহমেদ হুমায়ুন, চট্টগ্রাম অফিস ॥ স্বাস্থ্য অধিদফতরের অনুমোদন ছাড়াই চট্টগ্রামে বিশেষায়িত ইউনিট খুলে রমরমা ব্যবসা করে যাচ্ছে বেসরকারী হাসপাতালগুলো। আইসিইউ, সিসিইউ, এনআইসিইউসহ বিশেষায়িত ইউনিট খোলার জন্য ডাক্তার, নার্সসহ প্রশিক্ষিত জনবল ও আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি থাকা অত্যাবশ্যক হলেও এই সব বেসরকারী হাসপাতালে ওই সব সুযোগ-সুবিধার বালাই নেই। অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ হাসপাতাল ছোট আকারে ও ক্লিনিক পরিচালনার সাধারণ লাইসেন্স নিয়ে অবৈধভাবে আইসিইউ ও সিসিইউ চিকিৎসাসেবা প্রদান করছে।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডাঃ আজিজুর রহমান ছিদ্দিকী জানান, চট্টগ্রামে বেসরকারী হাসপাতালগুলোর একটিরও বিশেষায়িত ইউনিট খোলার অনুমোদন নেই। স্বাস্থ্য অধিদফতরের অনুমোদন নিতে আমরা তাদের নিকট চিঠি পাঠিয়েছি। কয়েকটি হাসপাতাল অনুমোদন নিতে আমাদের নিকট আবেদন করেছে। অধিকাংশ হাসপাতাল বিশেষায়িত ইউনিটের জন্য আবেদনই করেনি।

শুধু বিশেষায়িত ইউনিটের অনুমোদন নেই তা নয়, নগরীর এসব বেসরকারী হাসপাতালের পরিবেশ ছাড়পত্রও নেই। দুয়েকটি হাসপাতাল শুরুতে পরিবেশ ছাড়পত্র নিলেও পরে আর নবায়ন করেনি। অপরদিকে, পরিবেশ ছাড়পত্র না থাকায় এসব হাসপাতালের অধিকাংশের মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নেই। ফলে তারা যেখানে সেখানে বর্জ্য ফেলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার ১৪ উপজেলায় ১৩৪ হাসপাতাল এবং ৩৪১ ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র চট্টগ্রাম নগরীতে রয়েছে ৭৫ বেসরকারী হাসপাতাল এবং ১২৭ ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এসব হাসপাতাল এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একটিরও পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। ইতোমধ্যে প্রায় সবকটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে পরিবেশ অধিদফতর। তবে একটি প্রতিষ্ঠানও পরিবেশ অধিদফতরের নোটিসের কোন ব্যাখ্যা দেয়নি। উল্টো পরিবেশ অধিদফতরকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম মহানগরীতে চালু থাকা হাসপাতালগুলোর পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। বিশেষায়িত ইউনিট খোলার অনুমোদনও নেই হাসপাতালগুলোর। অনুমোদন না থাকলেও বাস্তবে দেখা গেছে, এসব হাসপাতালের মধ্যে সার্জিস্কোপ, সিএসসিআর, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালসহ ২০-২৫টি হাসপাতাল বিশেষায়িত ইউনিট খুলে সেবা প্রদান করছে। অনুমোদন না নিয়ে বিশেষায়িত ইউনিট পরিচালনার শীর্ষে রয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের দোসর জামায়াত পরিচালিত বেসরকারী হাসপাতালগুলো। নগরীর মেহেদীবাগ এলাকার ন্যাশনাল হাসপাতাল ও জিইসি মোড় এলাকার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল নামে জামায়াতের অধিক পরিচিত দুটি হাসপাতাল রয়েছে। এগুলোয় বিশেষায়িত ইউনিটের অনুমোদন ছাড়াই আইসিইউ ও সিসিইউ ইউনিট রয়েছে। প্রশিক্ষিত নার্স ও ল্যাব টেকনিশিয়ান না থাকায় প্রতিনিয়ত মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অভিজ্ঞ ডাক্তারের অভাবে অনেকে অপচিকিৎসারও শিকার হচ্ছেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী তায়েফুল হক তপু জানান, দুই মাস আগে তার এক বন্ধুর পিতাকে জামায়াত পরিচালিত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, তার বন্ধুর পিতার লিভার সমস্যা, অপারেশন করতে হবে। এজন্য তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চার-পাঁচ দিন চিকিৎসা নেয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালে নিলে সেখানকার ডাক্তার জানান, এ ধরনের কোন রোগ তাঁর হয়নি।