২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি বিএনপির


দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি বিএনপির

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আদালত অবমাননার দায়ে দুই মন্ত্রীকে দণ্ডিত করে আদালতের দেয়া রায়কে ঐতিহাসিক অভিহিত করে তাঁদের পদত্যাগ দাবি করেছে বিএনপি। রবিবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আদালতের রায় সম্পর্কে সাংবাদিকদের কাছে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় দলের পক্ষ থেকে এ দাবি জানান ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইন্টারপোলের রেড এ্যালার্ট প্রত্যাহার হওয়ায় গণমাধ্যমে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারের জন্য এবার আইনী লড়াই করবে বিএনপি। ফখরুল বলেন, আদালতের রায়ের পর দুই মন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও আ ক ম মোজাম্মেল হকের মন্ত্রিত্বে থাকার নৈতিক অধিকার নেই। এখন তাদের নৈতিক দায়িত্ব হচ্ছে গণতন্ত্রের স্বার্থে নিজ থেকেই মন্ত্রিসভা থেকে সরে যাওয়া। অন্যথায় প্রধানমন্ত্রীর নৈতিক দায়িত্ব হবে মন্ত্রিসভা থেকে ওই দুই মন্ত্রীকে সরিয়ে দেয়া। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুই মন্ত্রী সরকারে থাকবে কি-না সেটা নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর ওপর। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারকে কিভাবে দেখতে চান সেটা তাঁর বিষয়। তবে ডেমোক্র্যাসি ডিমান্ড করে, নৈতিকতা ডিমান্ড করে যখন সর্বোচ্চ আদালত থেকে কোন সাজা দেয়া হয়, তখন সরকারের মন্ত্রী হিসেবে থাকার তাদের কোন অধিকার থাকে না। সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, তারেক রহমানের বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকায় গণমাধ্যম তা প্রচার করতে পারছে না। তাই এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তবে বিভিন্ন কারণে সেটি বেশিদূর অগ্রসর হয়নি। কিন্তু এবার ইন্টারপোলের রেড এ্যালার্ট প্রত্যাহারের পর আমরা নতুন করে এ বিষয় নিয়ে আইনী লড়াইয়ে যাব। তারেক রহমান একজন নিরপরাধ এবং জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ বলে দাবি করে মামলা দিয়ে তাকে হয়রানি না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল কাহার আকন্দকে দিয়ে পুনঃতদন্ত করিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তারেক রহমানকে মামলার আসামি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর পর সরকারের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে পলাতক দেখিয়ে তার বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে ইন্টারপোলে বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ইন্টারপোল ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে রেড নোটিস জারি করে। রেড নোটিসের যৌক্তিকতা নিয়ে তারেক রহমানের পক্ষে লন্ডনিয়াম সলিসিটর্স ইন্টারপোল হেড কোয়ার্র্টারে আপীল করে। ইন্টারপোল পরে তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের দেয়া তথ্য যাচাই করে এর সত্যতা না পাওয়ায় এবং বিষয়টি তাদের আর্টিকেল-৩ এর ধারায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রমাণিত হওয়ায় রেড নোটিস প্রত্যাহার করে নেয়। একই সঙ্গে ইন্টারপোল হেড কোয়ার্টার তারেক রহমানের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের দেয়া সকল তথ্য বাতিল করে দেয়। গত ১৪ মার্চ কমিশন ফর দ্য কন্ট্রোল অব ইন্টারপোলস ফাইলসের পক্ষ থেকে লন্ডনের লিগ্যাল ফার্ম লন্ডনিয়াম সলিসিটর্স ফার্মকে লিখিতভাবে ইন্টারপোলের এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার দুদকের মাধ্যমে ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর ক্যান্টনমেন্ট থানায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের মামলা দায়ের করেছিল। চার বছর ধরে ওই মামলা চলার পর ২০১৩ সালের ১৭ নবেম্বর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক মোঃ মোতাহার হোসেন মামলার রায়ে তারেক রহমানকে বেকসুর খালাস দেন। দুদক এবং রাষ্ট্রপক্ষ ওই মামলাতেও তাকে দোষী সাব্যস্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছিল। রায়ে বলা হয়েছিল, তারেক রহমান ২০০৭ সালের ৭ জুন দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে খরচ করা অর্থের কথা উল্লেখ করেছেন। তারেক রহমান টাকা উত্তোলন ও ব্যয় করার বিষয়টি গোপন বা আড়াল করেননি। ফলে ২০০২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী কোন অপরাধ তিনি করেননি। ফখরুল বলেন, তারেক রহমান একজন রাজনৈতিক নেতা। তারেক রহমান পলাতক নন এবং রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই তারেক রহমানের নাম ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় জড়ানো হয়েছে। সরকার তারেক রহমানের রাজনৈতিক ইমেজ কালিমালিপ্ত করতে গিয়ে এখন নিজেরাই মিথ্যাবাদী প্রমাণিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেনÑ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, দলের সহ-দফতর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি, শামীমুর রহমান শামীম, আসাদুল করিম শাহীন প্রমুখ।

সরকার সকল ক্ষেত্রে দ্বিমুখী আচরণ করছেÑ হান্নান শাহ ॥ সরকার সকল ক্ষেত্রে দ্বিমুখী আচরণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) আ স ম হান্নান শাহ। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের অনুসারীরা কোন অপরাধ করলে সরকার নীরব থাকে কিন্তু বিএনপির কেউ অপরাধ করলে সরকার সরব হয়ে ওঠে। সরকারের আস্কারার কারণেই তনুকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। আর তনু হত্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নীরবতাই প্রমাণ করে যারা হত্যা, গুম, খুন ও ধর্ষণ করছে তাদের তিনি উৎসাহিত করছেন। রবিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তনুর হত্যার বিচারের দাবিতে ‘অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট কাউন্সিল অব বাংলাদেশ’ আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি প্রজ্ঞাপন জারি করে সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে তনু হত্যার আসল রহস্য উদ্ঘাটন ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।