মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৬ আশ্বিন ১৪২৪, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

রিজার্ভ হ্যাকিংয়ের টাকা ফিরে পেতে চিঠি চালাচালি শুরু

প্রকাশিত : ২৮ মার্চ ২০১৬
রিজার্ভ হ্যাকিংয়ের টাকা ফিরে পেতে চিঠি চালাচালি শুরু
  • চলছে আলামতের চূড়ান্ত বিশ্লেষণ

রহিম শেখ ॥ রিজার্ভ থেকে হ্যাক হওয়া টাকা ফেরত আনতে চিঠি চালাচালি শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধির কাছে। এছাড়া চিঠি দেয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের চেয়ারম্যান, ফিলিপিন্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গবর্নর ও ফিলিপিন্সের এ্যান্টি মানিলন্ডারিং কাউন্সিলের (এএমএলসি) প্রধানকে। এদিকে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক কিভাবে ডলার পেমেন্ট করল, কিসের ভিত্তিতে তারা ডলার ছাড়করণ, এ বিষয়ে তথ্য জানতে এফবিআইকে চিঠি দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এদিকে টাকা লোপাটের ঘটনায় রবিবার থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, কর্মকর্তাদের ব্যবহৃতদের ইমেল, সিসিটিভি ফুটেজ ও ব্যাংকের লেনদেনের তথ্য ও সংগৃহীত আলামতের চূড়ান্ত পর্যালোচনা শুরু করছেন সিআইডি কর্মকর্তারা। এরই অংশ হিসেবে ‘ব্যাক অফিস অব ডিলিং রুমের (সুইফ্ট সার্ভার কক্ষ) কম্পিউটারসহ সন্দেহজনক পিসিতে ফরেনসিক বিশ্লেষণ শুরু করেছেন তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে টাকা লোপাটের ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও এ্যাটর্নি জেনারেলকে চিঠি দেয়ার পর এবার আন্তর্জাতিক ৪টি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধির কাছে। এছাড়া চিঠি দেয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের চেয়ারম্যান, ফিলিপিন্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গবর্নর ও ফিলিপিন্সের এ্যান্টি মানিলন্ডারিং কাউন্সিলের (এএমএলসি) প্রধানকে। এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা। রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপকদের সঙ্গে গবর্নর ফজলে কবিরের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। শুভঙ্কর সাহা বলেন, চুরি যাওয়া টাকা ফেরত আনতে যেখানে চিঠি দেয়া দরকার বাংলাদেশ ব্যাংক সেসব জায়গায় চিঠি দিয়েছে। এর আগে গবর্নর ফজলে কবির বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সব বিভাগের মহাব্যবস্থাপকদের সঙ্গে। বৈঠকে ডেপুটি গবর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান ও এসকে সুর চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে মহাব্যবস্থাপকদের উদ্দেশে ফজলে কবির বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিরাপত্তার বিষয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে সব কর্মকর্তাকে কাজ করতে হবে। সম্পূর্ণ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্পর্কে মানুষের মধ্যে যেন নেতিবাচক ধারণা তৈরি না হয় সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। প্রসঙ্গত এর আগে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও এ্যাটর্নি জেনারেলকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চিঠিতে টাকা ফেরত আনার ক্ষেত্রে এই দুটি প্রতিষ্ঠানের সার্বিক সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এর বাইরে প্রয়োজনীয় নথি পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য এরই মধ্যে সুপ্রীমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আজমালুল হক কিউসিকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, সুপ্রীমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আজমালুল হক কিউসিকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি আইনানুগ বিষয়গুলোকে এ্যাসেস করবেন।

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের জমা রাখা টাকার মধ্যে ৮শ’ কোটি টাকা লোপাটের ঘটনা ঘটে। এমন ঘটনায় গত ১৫ মার্চ রাজধানীর মতিঝিল থানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব ও বাজেট বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জোবায়ের বিন হুদা অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে দায়েরকৃত মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করছে। ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের কাছে এফবিআইয়ের মাধ্যমে তথ্য চেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সম্প্রতি এক চিঠি দিয়ে এ ধরনের তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে সিআইডির এক কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক কিভাবে ডলার পেমেন্ট করল, কিসের ভিত্তিতে তারা ডলার ছাড়ল, এই বিষয়ে আমরা এফবিআইয়ের সাহায্যে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের কাছে তথ্য চেয়েছি। এটা আমাদের জানা খুব দরকার। তিনি বলেন, যে কোন ব্যাংক থেকে সরাসরি তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা রয়েছে। আমাদের দেশের ব্যাংকও আমাদের কোন তথ্য দিতে বাধ্য নয়, আদালতের অনুমতি নিয়ে তথ্য নিতে হয়। তাই এফবিআইয়ের মাধ্যমে আমরা ফেডারেল ব্যাংকের তথ্য চেয়েছি। সিআইডির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে তদন্ত কার্যক্রম চালানো হয়েছে। এর মধ্যে আমরা চারটি বিষয় থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছি। এবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, কর্মকর্তাদের ব্যবহৃতদের ইমেল, সিসিটিভি ও ব্যাংকের লেনদেনের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। সিআইডির ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, আমরা সবচেয়ে বেশি নজর দিয়েছি ‘ব্যাক অফিস অব ডিলিং রুমে’র (সুইফ্ট সার্ভার কক্ষ) পিসির ওপর।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, টাকা লোপাটের অন্যতম কারণ মনিটরিংয়ের দুর্বলতা। সার্ভার স্টেশনটি চব্বিশ ঘণ্টা মনিটরিংয়ের কথা থাকলেও তা হয়নি। এমন সুযোগে হ্যাকাররা যান্ত্রিক পদ্ধতির আওতায় থাকা টাকার মধ্যে ৮শ’ কোটি ছাড় করিয়ে নিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে ফিলিপিন্স, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ও হংকং তোলপাড় হয়। তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত করছে। মার্কিন সাইবার অপরাধ তদন্ত কোম্পানি মেন্ডিয়ান, সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ফায়ারআই ও ওয়ার্ল্ড ইনফরমেটিক্স ও সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফিন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশনের (সুইফট) অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন অর্থ মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যে হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব প্রতিবেদনের একটি কপি সরকারের তদন্ত কমিটি প্রধান বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন গবর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের কমিটির কাছে দেয়া হয়েছে। দুই-একদিনের মধ্যে সিআইডির কাছে এসব তদন্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।

প্রকাশিত : ২৮ মার্চ ২০১৬

২৮/০৩/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: