১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

খালিয়াজুরিতে তিন দিন দোকানপাট বন্ধ


নিজস্ব সংবাদদাতা, নেত্রকোনা, ২৭ মার্চ ॥ ইউপি নির্বাচনী সহিংসতায় যুবলীগ কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় খালিয়াজুরি উপজেলা সদরে টানা তিনদিন ধরে অঘোষিত হরতাল চলছে। সকাল থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত আংশিক খোলা থাকলেও দিনের বাকি সময় বন্ধ থাকছে সব দোকানপাট। এর ফলে স্থানীয় হাট-বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্য ও কেনাকাটা স্থবির হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, গত ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে খালিয়াজুরির আদাউড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গোলাম কাউছার ওরফে কাউছার মিয়া নামে যুবলীগ কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। নিহত কাউছার খালিয়াজুরি সদর ইউনিয়নে পরাজিত আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম আবু ইছহাকের ছোট ভাই। গত বৃহস্পতিবার তার জানাজার সময় স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ সাতদিনের শোক কর্মসূচী ঘোষণাসহ উপজেলা সদরের দোকানপাট বন্ধ রাখার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান। এরপর থেকে খালিয়াজুরি উপজেলা পরিষদসংলগ্ন বাজার এবং নতুন বাজারের ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন বেলা ১২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সব দোকানপাট সম্পূর্ণ বন্ধ রাখছেন। এর আগে সকাল থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত আংশিক খোলা রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ বেলা ১২টার পর থেকে এসব দোকানপাটে কেনাবেচা হচ্ছে না।

ভোলায় আহত

অর্ধশত

নিজস্ব সংবাদদাতা ভোলা থেকে জানান, সদরের বাপ্তা ইউনিয়নে প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচন শেষ হলেও ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী মনিরুল ইসলাম ও মেম্বার প্রার্থী ইলিয়াস গ্রুপের মধ্যে সংর্ঘষ হামলা ২০ বাড়ি ভাংচুর লুটসহ সহিংস ঘটনার জের ধরে উত্তেজনা থামেনি। গত পাঁচ দিনে হামলা ধাওয়া পাল্টার ঘটনায় অন্তত অর্ধশত নারী-পুরুষ আহত হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতরদের ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এখন দেয়া হচ্ছে পাল্টাপাল্টি মামলা। এতে সাধারণ মানুষ মামলার ভয়ে বর্তমানে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, ভোলার বাপ্তা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ছোট সুন্দর খালি গ্রামে মেম্বার প্রার্থী মনিরুল ইসলামের সমর্থন করার অপরাধে গত ২১ মার্চ নির্বাচনের আগের রাতে মোস্তফা মিলিটারি, আমির, কাজল রাজ, সফিক, রফিক, শহিদ ডাক্তারসহ ১৫/১৬টি বাড়িতে প্রতিপক্ষ মেম্বার প্রার্থী ইলিয়াস ও তার ভাই ইয়ামিনসহ ৪০/৫০ লোক অস্ত্র লাঠিসোটা নিয়ে ঘুমন্ত মানুষের ওপর হামলা চালায়। এ সময় বোমা বিস্ফোরণ করে তা-ব চালিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে।

মানিকগঞ্জে হামলা

নিজস্ব সংবাদদাতা মানিকগঞ্জ থেকে জানান, দৌলতপুর উপজেলার ধামশ্বর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছে পাঁচজন। এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। শনিবার রাত এগারোটার দিকে ঘটনাটি ঘটে উপজেলার ধামশ্বর ইউনিয়নের গালা বাজারে।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ইদ্রিস আলীর সমর্থক শুকুর আলীর সঙ্গে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলেক মিয়ার সমর্থক তারা মিয়ার তর্কতর্কির একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়। এর জেরধরে বিএনপি সমর্থকরা হামলা করে ইদ্রিস আলীর নির্বাচনী অফিসে। ইদ্রিস আলী, তার ভাতিজা রজ্জব আলী ও নাছিরসহ কয়েকজন আহত হয়। এদের মধ্যে রজ্জব আলী ও নাছিরকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কিছুক্ষণ পর আওয়ামী লীগ সমর্থকরা পাল্টা হামলা চালায় বিএনপির সমর্থকদের ওপর। বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আলেক মিয়া ও সমর্থক আব্দুল কাদের আহত হয়।

বাগেরহাটে পুরুষশূন্য কাফুরপুরা গ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট থেকে জানান, ‘দিনেরাতে মহিলাদের ওপর অমানুষিক অত্যাচার করেছে, ঘরে আগুন দিয়েছে, দুই বছরের শিশু জুবায়েরের পেট-বুক-মুখ পুড়ে গেছে, জীবিত গবাদিপশুসহ গোয়ালঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে, অত্যাচার, বসতঘরে আগুন, লুটপাটসহ ঘেরের মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে, মারপিট ও মিথ্যা মামলা দিচ্ছে, নির্বাচনে হেরে গিয়ে হাবিবুর ও তার বাহিনীর অত্যাচারে বাগেরহাট সদরের বারুইপাড়া ইউনিয়নের কাফুরপুরা গ্রাম আজ পুরুষশূন্য।’ রবিবার দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে আহূত সংবাদ সন্মেলনে বারুইপাড়া ইউপির ৯নং ওয়ার্ডের বিজয়ী প্রার্থী মাজেদ শেখের স্ত্রী রুখসানা এ অভিযোগ করেন। পরাজিত প্রার্থী হাবিবুর রহমান ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর বর্বর নির্যাতনের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। শহর, ফিরোজ, রাজসহ ১০-১২ জন এই হামলার নেতৃত্ব দিচ্ছে। এই বাহিনী মুক্ত, ওয়াজেদ, আয়ুব, জাহিদ, আকোব্বর, সিরাজুল, আবু বক্কার, নজরুল, নুরুল, সোহাগ, তোরাব আলী, শাদাদাৎ ফকির, সোলেয়মানের বাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও মালামাল লুটে নিয়েছে। এদিকে, শরণখোলায় উপজেলার পূর্বখোন্তাকাটা ও সোনাতলা এলাকায় রাতে নির্বাচনী সহিংসতার জের ধরে দুটি বসতঘর, গোয়ালঘরসহ ৭টি খড়ের গাদায় অগ্নিসংযোগ করেছে প্রতিপক্ষরা। এ সময় নারী-পুরুষসহ ৫ ব্যক্তি আহত হয়েছে।

দৌলতপুরে ১০ কর্মী আহত

নিজস্ব সংবাদদাতা দৌলতপুর থেকে জানান, নৌকা প্রার্থীর সশস্ত্র ক্যাডাদের হামলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর ১০ কর্মী ও সমর্থক আহত হয়েছে। এ সময় হামলাকারীরা বাড়িঘর, চায়ের দোকান ও মোটরসাইকেল ভাংচুর করে এলাকার সাধারণ ভোটারদের মাঝে ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে তাদের ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার হুমকি দিয়েছে। রবিবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের লালনগর গ্রামে হামলার এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, ওই ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী তারিক আল মামুনের সধারণ কর্মী ও সমর্থকরা লালনগর বাজারে অবস্থানকালে প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকার প্রার্থী সাইদ আনছারী বিপ্লবের বহিরাগত ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী আনিস, অমূল্য, রাজিব, রাজন, জাহাঙ্গীর, হীরা, কামাল, তুহিন ও জিন্নাহসহ ১৫-২০ জন মোটরসাইকেল যোগে এসে সশস্ত্র অবস্থায় তাদের ওপর হামলা করে।

যশোরে আহত ১০

স্টাফ রিপোর্টার যশোর অফিস থেকে জানান, পৃথক নির্বাচনী সহিংসতায় ১০ জন আহত হয়েছেন। ইউপি নির্বাচনের প্রচারকালে বোমা বিস্ফোরণে তারা আহত হন। শনিবার রাতে যশোর সদর উপজেলার শেখহাটি বাবলাতলা ও লেবুতলা বাজারে এ বোমা হামলার ঘটনা ঘটে।

যশোর সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলনের স্ত্রী নাসরিন সুলতানা জানান, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে শেখহাটি বাবলাতলা এলাকায় পৌঁছান। এরপর তিনি ওই এলাকার নির্বাচনী অফিসের সামনে অবস্থান নিয়ে মাইক্রোবাসের মধ্যে এশার নামাজ আদায় করছিলেন। এ সময় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তার মাইক্রো লক্ষ্য করে একটি হাতবোমা নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। বোমাটি বিস্ফোরিত হলে নৌকা প্রতীকের ৫ কর্মী আহত হন। এরা হলেনÑ হাসানুজ্জামান টুটুল, মানিক, সোহাগ, হালিম ও মাহমুদুল হাসান। অপরদিকে ইউপি নির্বাচনের প্রচারণা ঘিরে শনিবার রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলার লেবুতলা বাজারে বোমা হামলায় ৫ জন আহত হয়েছেন। এ হামলার ঘটনায় পরস্পরকে দায়ী করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা।