১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

গত বছর ৩০টি দেশের ১০০ ব্যাংক সাইবার আক্রমণের শিকার


হামিদ-উজ-জামান মামুন প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে এখন আর গ্রাহকদের ব্যাংকে যাওয়ারও দরকার পড়ে না। দিনের বেশিরভাগ কাজই অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসেই করা যাচ্ছে। একইভাবে এখন ব্যাংক ডাকাতি করতেও ব্যাংকের ভল্ট ভাঙতে হচ্ছে না। অনলাইনে ঘরে বসেই সাইবার ডাকাতরা হাতিয়ে নিতে পারছে ব্যাংকের সমস্ত তথ্য আর অর্থ। গত এক দশকে সাইবার জগতের পরিধি বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সাইবার ক্রাইমের সংখ্যাও।

২০১৫ সালে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, চীন, ইউক্রেন, কানাডাসহ বিশ্বের ৩০টি দেশের প্রায় এক শ’ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সাইবার আক্রমণের শিকার হয়েছে। এ অপরাধে রাশিয়া, ইউক্রেন ও চীনের একটি সুসংগঠিত সাইবার ডাকাত চক্রকে অভিযুক্ত করা হয়। ‘কারবানাক’ নামের একদল হ্যাকার অনলাইনে ওইসব দেশের ১০০টির মতো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার হাতিয়ে নিয়েছে। ক্যাস্পারস্কি ল্যাব জানায়, ওই সাইবার ডাকাত চক্রটি ২০১৩ সাল থেকে এ তৎপরতা শুরু করে। ইন্টারপোল, ইউরোপোলসহ বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে এসব তথ্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ইউক্রেনের একটি ব্যাংকে প্রথম গরমিল ধরা পড়ে। তারা বুঝে উঠতে না পেরে রুশ সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি ল্যাবকে বিষয়টি জানায়। ওই চক্রটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অর্থ তাদের ভুয়া এ্যাকাউন্টে সরিয়ে নিয়েছে। ব্যাংকিং খাতে ওই ভয়াবহ সাইবার ডাকাতির তথ্য প্রকাশ করলেও ক্যাস্পারস্কি ব্যাংকের নাম প্রকাশ করেনি।

ক্যাস্পারস্কি ল্যাবের প্রধান নিরাপত্তা গবেষক সার্জেই গোলোভানোভ বলেন, এই সাইবার ডাকাতরা খুবই দক্ষ এবং পুরোপুরি পেশাদার। প্রতিষ্ঠানটির ডিজিটাল ক্রাইম সেন্টারের পরিচালক সঞ্জয় বার্মানি বলেন, এ ধরনের হামলা আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছে, অপরাধীরা যে কোন নিরাপত্তা দেয়ালই ভাঙতে সক্ষম। তাই, আমাদের আরও সতর্ক হতে হবে। ক্যাসপারস্কি উত্তর আমেরিকার ব্যবস্থাপক পরিচালক ক্রিস ডগেন বলেন, হ্যাকাররা ই-মেইলের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংকিং সিস্টেমে ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে দিয়ে সিস্টেমকে নিয়ন্ত্রণ করে ব্যাংকের টাকা অন্য ব্যাংকে সরিয়েছে। ক্যাস্পারস্কি ল্যাবের চীফ স্টাফ এ্যান্টন সিঙ্গারিভ এই বিষয় বলেন, হ্যাকাররা এক একটি ব্যাংক হ্যাক করার জন্য অন্তত দুই মাস কাজ করেছে। তিনি আরও জানান, হ্যাকাররা ব্যাংকিং সিস্টেমের সব কিছুই তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে টাকা এক এ্যাকাউন্ট থেকে অন্য এ্যাকাউন্টে নিয়ে যায়, এমনকি তারা এটিএম মেশিনও নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং এটিএম মেশিন ব্যবহার না করেই টাকা তুলে নেয়। হ্যাকাররা সফটওয়্যার ব্যবহার করে গ্রাহকের টাকার পরিমাণকে বাড়িয়ে সেই বাড়তি টাকা অন্য ব্যাংকের ভুয়া এ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে নিয়ে নিজেদের সুবিধামতো এটিএম মেশিন থেকে টাকা উত্তোলন করে নিয়েছিল। এটিএম মেশিনগুলোকেও তারা এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছিল যেন সময়মতো টাকাগুলো মেশিন থেকে বের হয়ে আসে। গত বছর এমন সাইবার ক্রাইমের কবলে পড়েছে আরও বেশ কিছু দেশ ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ই-পেমেন্ট সার্ভিস। ব্রাজিলিয়ান পেমেন্ট সার্ভিস থেকে প্রায় ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার চুরি করে নিয়েছিল হ্যাকাররা।