১৬ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

তনু হত্যার বিচার দাবি


কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যার বিচারের দাবিতে শুধু কুমিল্লা নয়, বরং সারাদেশই প্রতিবাদ-বিক্ষোভে হয়ে উঠেছে উত্তাল। শুক্রবার কুমিল্লায় দিনব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল-মানববন্ধনে অংশ নিয়েছে হাজার হাজার শিক্ষার্থী। তনু হত্যার প্রতিবাদে প্রতীকী অবরোধ হয়েছে ঢাকার শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের উদ্যোগে। রাজধানীর বাইরে বিক্ষোভ কর্মসূচী ও মানববন্ধন হয়েছে চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে। সবারই এক দাবি, যত দ্রুত সম্ভব তনু হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের হাতে সোপর্দ ও বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। তা না হলে আইনের শাসন নিশ্চিত হবে না। ২০ মার্চ রবিবার রাতে কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাসের ভেতরে একটি কালভার্টের সন্নিকটে ঝোপ থেকে উদ্ধার করা হয় সোহাগী জাহান তনুর লাশ। দুর্ভাগ্যজনক হলো, এ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এর কোন কূলকিনারা করতে পারেনি। সর্বশেষ খবর হলো, তনু হত্যাকা-ের তদন্তে আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা বাহিনীর একাধিক টিম কাজ করছে। কুমিল্লা সেনানিবাসের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে। প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে ঢাকায় সন্দেহভাজন এক যুবককে আটকের খবরও আছে, যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা স্বীকার করেনি।

কিছুদিন আগে দেশব্যাপী কয়েকটি শিশু হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই ঘটল তনু হত্যার ঘটনা। হত্যার আগে তনুকে ধর্ষণ অথবা ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল কি-না ময়নাতদন্তের রিপোর্টেই তার প্রমাণ মিলবে। এর বাইরেও প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর অনিবার্য শিকার হয় অসহায় নারী ও শিশুরা। এ ক্ষেত্রে যারা দরিদ্র ও কম অবস্থাসম্পন্ন, তারা সহজে থানা পুলিশের দ্বারস্থ হতে চায় না। কেননা, সেখানে চলে টাকার খেলা এবং প্রভাবশালীদের দাপট। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ভিকটিমের পরিবারটিই প্রায় একঘরে হয়ে পড়ে সমাজে। এমনকি সমাজে জনসমক্ষে মুখ দেখানোই দায় হয়ে পড়ে তাদের পক্ষে। ইদানীং অবশ্য পরিস্থিতি কিছুটা হলেও পাল্টাতে শুরু করেছে। গণমাধ্যম অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি দাঁড়াবার একটা জায়গা পাচ্ছে। অনেকক্ষেত্রে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এবং এনজিওরাও পাশে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে তাদের। বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ-স্কুলের শিক্ষার্থীরাও পিছিয়ে থাকে না। ফলে সমাজ ও রাষ্ট্রে ক্রমশ আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের দাবি জোরদার হচ্ছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও এক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। এ রকম পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও নড়েচড়ে বসার সুযোগ পাচ্ছে। এত কিছুর পরও বলতেই হয় যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে। তনু হত্যাকা-ের পর কয়েকদিন অতিবাহিত হলেও ঘটনার তদন্তে শৈথিল্য প্রদর্শন অথবা কাউকে গ্রেফতার করতে না পারায় নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের উদ্রেক করে বৈকি। কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকাটি অপেক্ষাকৃত নিরাপদ। সেখানে বহিরাগতদের প্রবেশ সহজ নয়। পুলিশ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতায় খুব দ্রুতই তনু হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের হাতে সোপর্দ করতে সক্ষম হবে, এটাই প্রত্যাশা।