২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

তরুণদের লোভ দেখিয়ে দলে ভেড়ায় বোকো হারাম


গত এক বছরে আফ্রিকার কয়েকটি দেশের আঞ্চলিক বাহিনীর প্রতিরোধের মুখে নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চল থেকে পিছু হঠতে হয়েছে ইসলামপন্থী সশস্ত্র সংগঠন বোকো হারামকে। ওই অঞ্চলে কিশোর ও তরুণদের টাকা দিয়ে যোদ্ধা হিসেবে নিয়োগ দেবার দুর্নাম রয়েছে বোকো হারামের বিরুদ্ধে। খবর বিবিসির।

সম্প্রতি বাড়ি ফিরে আসা এরকম কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন বিবিসির থমা ফেসি। নিজেদের জমিজমা আর ভিটে বাড়ি ছেগে দূরে মরুভূমিতে এসে ক্যাম্প গড়েছেন নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলের এক গ্রামের মানুষজন। ইসলামপন্থী সশস্ত্র সংগঠন বোকো হারামের জঙ্গীদের হামলার মুখে এভাবে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তারা। কিন্তু হামলার বেশ কিছু আগে এই গ্রামেরই অনেক তরুণ চলে গেছেন বোকো হারামে যোগ দিতে। সম্প্রতি পালিয়ে আসা একজন ২৬ বছর বয়সী ইউসুফ বলছিলেন, তাদের অনেক টাকার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। বাড়িতে করার কিছুই ছিল না। কাজ ছিল না। ওরা এসে আমাদের বলল অনেক টাকা দেবে। আমরা যা চাই তাই পাব। বালির মধ্যে হাঁটু মুড়ে বসে কথা বলছিল ১৬ বছর বয়সী কিশোর আদম আর ইউসুফ। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী পাশের দেশ চাদ থেকে কিছু যোদ্ধা এসেছিল। অর্থাৎ বোকো হারামের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়েসীমান্ত অতিক্রম করেছে। ইউসুফ বলছিল তারা কেন ফিরে এলো, আমাদের ওরা কয়েকটি দলে বিভক্ত করে রাখত। যারা বেশিদিন ধরে ওদের সঙ্গে আছে তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ ছিল। তারা সবাই একসঙ্গে কোরান পাঠ করত। কিন্তু এসব থেকে দূরে রাখা হতো আমাদের। ওরা আমাদের টাকা দেবার কথা বললেও ওরা তা দেয়নি। পরে আমরা কোনরকমে পালিয়ে এসেছি। ইউসুফ বা আদম যে গ্রামের বাসিন্দা তার আশপাশের অনেক গ্রামেই বোকো হারাম বেশ কবার করে হামলা চালিয়েছে। বোমা হামলায় ল-ভ- হয়ে গেছে ব্যস্ত বাজার। সেসব গ্রামের মানুষজন নিজেরাই বলছেন তাদের গ্রামের তরুণরাই জঙ্গী প্রশিক্ষণ নিয়ে এসব ঘটিয়েছে। যে গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছিল ইউসুফ ও আদম এখন সে গ্রামেই তাদের আবারও আশ্রয় মিলেছে। গ্রামের মানুষজন তাদের দ্বিতীয়বারের জন্য সুযোগ দিয়েছে। জঙ্গীদের ধরতে সেনাদের টহল চলছে। গত এক বছরে আফ্রিকার কয়েকটি দেশের আঞ্চলিক বাহিনী বোকো হারামের বিরুদ্ধে একত্রে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।