২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৩ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

কলমাকান্দা-ঠাকুরাকোনা সড়ক ॥ ৯ বেইলি সেতুতে শত শত জোড়াতালি!


কলমাকান্দা-ঠাকুরাকোনা সড়ক ॥ ৯ বেইলি সেতুতে শত শত জোড়াতালি!

নিজস্ব সংবাদদাতা, নেত্রকোনা ॥ একটি বা দুটি নয় গোনা ৬শ ৪২টি জোড়াতালি দিয়ে সচল রাখা হয়েছে একটি বেইলি সেতু! আর প্রতিদিন এই সেতুর ওপর দিয়ে মরণ ঝুঁকি নিয়ে চলছে শ’ শ’ ট্রাক, বাস ও লড়িসহ ভারি যানবাহন। সরেজমিনে নেত্রকোনার ঠাকুরাকোনা-কলমাকান্দা সড়কের বাউসী এলাকায় কংস নদের ওপর নির্মিত বেইলি সেতুতে গিয়ে দেখা গেছে এমন ভয়াবহ দৃশ্য। একই সড়কের গোমাই সেতুতে দেয়া হয়েছে ৩শ ৬২টি জোড়াতালি। এমন আরও সাতটি সেতুর দেখা মিলেছে ওই সড়কে।

জানা গেছে, আশির দশকে ঠাকুরাকোনা-কলমাকান্দা সড়কে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) উদ্যোগে মোট ৯টি স্টিলের বেইলি সেতু নির্মাণ করা হয়। জেলা সদরের সঙ্গে কলমাকান্দা উপজেলায় যাতায়াতের একমাত্র সড়ক হওয়ায় এ সড়কের ওপর দিয়ে প্রতিদিন শ’ শ’ বাস, ট্রাক, লড়িসহ অন্যান্য ভারি যানাবহন চলাচল করে। কিন্তু ধারণ ক্ষমতার অধিক ভারি যান চলাচলের কারণে ন’টি সেতুর প্রায় প্রত্যেকটিই এখন ঝুঁকিপূর্ণ। যান চলাচলের অনুপযোগী। বিশেষ করে বাউসী ও গোমাই সেতু দু’টির অবস্থা ভয়াবহ। এ দুই সেতুর বেশিরভাগ স্টিলের পাটাতন ওঠে গেছে। অনেক পাটাতন বেঁকে গেছে। খুলে গেছে জয়েন্টের নাট-বল্টু। সওজ বিভাগ কোন রকমে জোড়াতালি ও ঝালাই দিয়ে এগুলো সচল রেখেছে। গুনে গুনে দেখা গেছেÑ বাউসী সেতুতে ৬শ ৪২টি এবং গোমাই সেতুতে ৩শ ৬১টি তালি দেয়া হয়েছে। এরপরও সেতুগুলোর ওপর দিয়ে হরদম চলছে ভারি যানবাহন। বছরের পর বছর ধরেই চলছে এমন অবস্থা। এ কারণে সেতুগুলোতে প্রায় সময়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। স্থানীয়রা জানান, ইতিমধ্যে বহুবার বাউসী ও গোমাই সেতুতে পণ্যসহ ট্রাক খাদে পড়েছে। ভারি যানবাহন ওঠলেই সেতুগুলো কাঁপতে শুরু করে। পারাপারের সময় চালকসহ যাত্রীদের ভয়ে-আতঙ্কে থাকতে হয়। এদিকে সেতুগুলো সরু হওয়ায় এক সঙ্গে একাধিক যানবাহনও চলতে পারে না। একটি যান পার হলে অন্য আরেকটির অপেক্ষায় থাকতে হয়। সোহাগ মিয়া নামে ওই সড়কের এক বাস চালক জানান, যানবাহনের চাকার ঘর্ষণে ওই সেতু দু’টির অনেক পাটাতন পিচ্ছিল হয়ে গেছে। এছাড়া প্রায় সময় জোড়াতালি ছুটে পাটাতন ওঠে যাচ্ছে। এ কারণে সেতুগুলো পার হওয়ার সময় মারাত্মক আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এসব সেতুতে যে কোন সময় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের স্থানীয় নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ খান জানান, ওই সড়কের ৯টি বেইলি সেতু ভেঙ্গে পাকা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা আছে। এপ্রিল মাসের মধ্যেই এ ব্যাপারে ডিপিপি প্রস্তুত করে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়া হবে। অর্থ বরাদ্দ পেলে আশা করা যায় আগামী দু’বছরের মধ্যে পাকা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে সেতুগুলো মেরামত করে সচল রাখা হচ্ছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: