২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

লালমনিরহাটে আ’লীগের মনোনয়ন পেতে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছে রাজাকার পরিবারের সদস্য


নিজস্ব সংবাদদাতা, লালমনিরহাট ॥ ৭১’র সালের গণ হত্যা ও মুক্তিযুদ্ধ খুনিয়াগাছ ইউনিয়নে আওযামীলীগের চেয়াম্যান প্রাথী মনোনয়ন সমনে এসেছে। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সদ্য বিএনপি হতে ডিকবাজি দিয়ে আসা মনোনয় প্রত্যাশী রাজাকার পরিবারের সন্তান খায়রুজ্জামান মন্ডল বাদল ( চেয়ারম্যান) নৌকা প্রতীক নিয়ে পূনরায় চেয়াম্যান প্রার্থী হতে দৌড়ঝাপ শুরু করেছে। এতে করে খুনিয়াগাছের ত্যাগী আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছে। প্রচার পাচ্ছে জেলা পর্যায়ের কয়েক জন আওয়ামীলীগের নেতা কে ম্যানেজ করে রাজাকার পরিবারের সন্তান খায়রুলজামান মন্ডল বাদল মনোনয়ন পেতে যাচ্ছে। এই প্রচারে খুনিয়াগাছ ইউনিয়নে ভোটারদের মাঝে ক্ষোভ বিক্ষুদ্ধতায় রূপ নিয়েছে।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিগত দিনে যেকোন আন্দোলন কর্মসূচি দিলে লালমনিরহাটে সফরে আসতেন। সফরে এলেই তিনি খুনিয়াগাছ ও রাজপুরে যেতেন। এমন কী অগ্নিকন্যা মতিয়া চৌধুরী রাজপুর ও খুনিয়া গাছে আসতেন। ৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এলে রাজপুর ও খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের তিস্তা নদীতে বাধ ও র্স্পার নির্মান করে। এই দুই ইউনিয়নের মানুষের ভাগ্য বদলাতে থাকে। রাজপুরের চেয়ারম্যান মোফাজ্জাল হোসেন মোফা ও খুনিয়াগাছের চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান মন্ডল বাদল আওয়ামীলীগের সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে বিগত দিনে চেয়াম্যান নির্বাচিত হয়। পরে বিএনপি ক্ষমতায় এলে বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেয়। বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলে এহন অপরাধ নেই তারা করেনি। তাদের দ্বারা আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা নির্যাতন হয়রানির শিকার হয়েছে। বাড়ি ঘর জ্বালিযে দেয়া হয়েছে। খুনিয়াগাছে হরতালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার কারনে শিশু শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করা হয়েছে। রাজপুরের হিন্দু পরিবারের উপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। হিন্দু পরিবারের শতশত একর জমি দখল করে খামার করা হয়েছে। তারা এবারের নির্বাচনে পড়েছে বেকায়দায়। বিএনপি জামায়াতের জনসমর্থন তলানিতে এসে ঠেঁকেছে। তাই তারা ভোল্ট পাল্টিয়ে ফেলেছে। জেলা পর্যায়ের সুবিধাবাদ কয়েকজন আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীকে নানা প্রলোভন ও কৌশলে ম্যানেজ করেছে। তাদের দিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়ন পেতে তদবির করছে।

খুনিয়াগাছের চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান বাদল রাজাকার পরিবারের সন্তান। ১৯৭১ সালে মহানমুক্তিযুদ্ধে পরিবারটি পাকসেনাদের সহায়তা করেছিল। নিজ বাড়িতে ঘাঁটি করে মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস গ্রামের মানুষ কে ধরে নিয়ে এসে নির্মমভাবে হত্যা করা হতো। নারীদের ধরে নিয়ে এসে সম্ভমহানী করা হতো। বাদল চেয়ারম্যানের জ্যোঠা নরুল ইসলাম মন্ডল তাদের নেতৃত্ব দিয়ে ছিল।

চেয়াম্যান খারুজ্জামান বাদলের জ্যোঠা লালমনিরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক নূরুল ইসলাম মন্ডল ছিলেন কুখ্যাত রাজাকার।

খুনিয়াগাছের বাতাসে এখনো ভাসে এই মন্ডল পরিবারের অত্যাচারীত নিরীহ মানুষের কান্নার সুর। বিধবাদের আর্তনাত। খুনিয়াগাছে মন্ডল পরিবার রামরাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। কখন আওয়ামীরীগের মোড়কে আবার কখন বিএনপির মোড়কে। এবার পুনরায় বিএনপি হতে এসে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন নিয়ে খুনিয়াগাছে চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চায় খারুজ্জামান ইসলাম মন্ডল বাদাল ও রাজপুরে চেয়ারম্যান হতে চায় মোফাজাজল হোসেন মোফা।

খুনিয়াগাছ রাজারের বয়ঃবৃদ্ধ আব্দূস সোবাহান (৬০) জানান, খুনিয়াগাছের চেয়ারম্যান বাদলকে মনোনয়ন দিলে তার সকল অপকর্মের দায় আওয়ামীলীগের গায়ে লেগে যাবে। বিএনপি দায়মুক্ত হবে। আমরা খুনিয়াগাছের মানুষ শেখ হাসিনাকে ভালবাসি । শেখ হাসিনা আমাদেরকে ভালবাসে। কোন রাজাকারের পরিবার যাতে মনোনয়ন না পায় তিনি শেখ হাসিনাকে অনুরোধ জানান।

জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক ও জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য এরশাদ হোসেন জাহাঙ্গীর জানান, খুনিয়াগাছের রাজনীতিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে রাজাকার পরিবারের সদস্য মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাপ শুরু করেছে। এতে করে ত্যাগী তৃর্ণমূলের কর্মীদের মধ্যে হতাশা বেড়েছে। নতুন প্রজন্ম চায় যাতে কোন রাজাকার পরিবার আওয়ামীলীগের রাজনীতির মাধ্যমে সমাজে পূর্নবাসন না হয়।

জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়াম্যান এ্যাডভোকেট মোঃ মতিয়ার রহমান জানান, খুনিয়াগাছসহ তৃতীয় পর্যায়ে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মনোনয়নে তৃর্ণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া হবে। কোন অবস্থাতে যাতে স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের পরিবার ও রাজাকার পরিবারের কেউ মনোনয়ন না পায় সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: