১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

টি-২০ ক্রিকেট ‍অনেকটা ইনস্ট্যান্ট কফির মতো – সব্যসাচী


টি-২০ ক্রিকেট ‍অনেকটা ইনস্ট্যান্ট কফির মতো – সব্যসাচী

অনলাইন ডেস্ক ॥ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট এই খেলার ব্যাকরণকেই শুধু বদলে দেয়নি, তৈরি করেছে এমন এক জাতের বিশেষ ক্রিকেটারদেরও – যাদের খেলার ধরন এই দুর্দান্ত গতির ক্রিকেটের সঙ্গে খুব মানানসই।

ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টিতে যে সব দল খেলছে তার প্রতিটিতেই এমন কিছু ক্রিকেটার আছেন টেস্ট দলে হয়তো যাদের জায়গা পাকা নয় – কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে তারা দলের অপরিহার্য অঙ্গ।

কিন্তু এই টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্টদের কী বৈশিষ্ট্য? না কি টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞ বলে আসলে কিছু হয় না – খুব ভাল মানের ক্রিকেটাররা সব ধরনের ক্রিকেটেই নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেন ?

অস্ট্রেলিয়ার মতো বিশ্বসেরা দল আজ অবধি কখনও টিটোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতেনি। এই ফর্ম্যাটে তাদের পারফরম্যান্সও টেস্ট বা ওয়ান-ডের তুলনায় মোটেই বলার মতো নয়। কিন্তু কী আছে এই ধরনের ক্রিকেটে যা অস্ট্রেলিয়ার মতো দলকেও কখনও স্বস্তি দেয়নি? মোহালিতে বিবিসি বাংলার এই প্রশ্নের জবাবে অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ সরাসরি মেনে নেন, ‘এই ফর্ম্যাটটা কঠিন – বেশ কঠিন’।

তার কথায়, ‘আমার মতামত যদি জিজ্ঞেস করেন তাহলে আমি বলব টিটোয়েন্টিটা খুব টাফ – আর ঝট করে এখানে সব হিসেব উল্টে যেতে পারে। একজন মাত্র খেলোয়াড় হঠাৎ করে আপনাকে একটা টিটোয়েন্টি ম্যাচ জিতিয়ে দিতে পারেন – যদিও সে কাজটা খুব শক্ত।’

স্টিভ স্মিথ যে ধরনের ম্যাচ উইনারদের কথা বলছেন, তাদেরকেই অনেকে টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট বলে চিহ্নিত করে থাকেন।

ক্রিকেট ভাষ্যকার ইন্দ্রনীল দত্ত ব্যাখ্যা করছিলেন কারা এই ধরনের ম্যাচে বিশেষজ্ঞদের মর্যাদা পেতে পারেন। তিনি বলছিলেন, আসলে সব ধরনের ক্রিকেটেই এখন স্পেশালাইজেশনের যুগ চলে এসেছে, টিটোয়েন্টিও তার ব্যতিক্রম নয়।

‘১৯৯৬ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কা একটা নতুন জিনিস চালু করল – পিঞ্চ হিটার। তিন নম্বরে নেমে বেধড়ক মারবে সে। কিংবা ওপেনিং জুটি পনেরো ওভারে একশোর বেশি রান তুলে দেবে। ফলে যুগে যুগে সব ধরনের ক্রিকেটে এভাবেই নতুন ভাবনার এবং স্পেশালাইজেশনের আমদানি হয়েছে।’

ইন্দ্রনীল দত্ত আরও বলছিলেন, ‘টিটোয়েন্টিতে ঘন্টাচারেকের প্যাকেজ – অসম্ভব গতি, তার মধ্যেও আপনি নিজের আলাদা জায়গা করে নিতে পারবেন যদি দিলস্কুপ (দিলশানের সিগনেচার শট) বা হেলিকপ্টার শটের (ধোনির ট্রেডমার্ক) মতো বিশেষ কিছু আপনার হাতে থাকে। আমি এই ধরনের বিশেষ প্রতিভাদেরই টিটোয়েন্টি স্পেশালিস্ট বলব।’

বর্তমান ভারতীয় দলেই যশপ্রীত বুমরা-হার্দিক পান্ড্য-আশিস নেহরার মতো অনেকে আছেন যারা টেস্ট দলের ধারেকাছে না-থাকলেও টিটোয়েন্টিতে অপরিহার্য। বাংলাদেশে অনেকে সাব্বির রহমানের কথাও উল্লেখ করেন।

সাংবাদিক সব্যসাচী সরকার বিশ্ব ক্রিকেট থেকে এমন আরও কিছু উদাহরণ দিয়ে বলছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ওয়াটসনও টেস্ট-ওয়ান ডে থেকে বাদ, কিন্তু টিটোয়েন্টিতে নিয়মিত। জন হেস্টিংস শুধু বিগ ব্যাশে ভাল খেলেই অস্ট্রেলিয়ার টিটোয়েন্টিতে ঢুকে পড়েছেন – টেস্ট কিন্তু বহু দূর। পাকিস্তানের শোয়েব মালিকও এখন শুধুই টিটোয়েন্টি খেলেন।

কিন্তু কী এমন এরা করে দেখাচ্ছেন যা টেস্ট তারকাদের করতে মুশকিলে পড়তে হচ্ছে ? বা অন্যভাবে বললে কী বিশেষ গুণ দরকার টিটোয়েন্টি তারকা হয়ে ওঠার জন্য?

সব্যসাচী সরকার বলছিলেন, ‘বেসিক স্কিল সব ধরনের ক্রিকেটেই লাগে – ওটা ছাড়া কিছুই হবে না। কিন্তু টিটোয়েন্টিতে একটা বাড়তি গুণ দরকার – সেটা হল চটজলদি সব কিছু করার ক্ষমতা। এটা অনেকটা ইনস্ট্যান্ট কফির মতো। টেস্টে আপনি ধাতস্থ হতে দশ-বারোটা ওভার পেতে পারেন, কিন্তু এখানে পাঁচ বলে পনেরো করতে না-পারলে আপনার দলে জায়গা হওয়াই মুশকিল!’

তবে ক্রিকেট দুনিয়াতে অনেকে আবার বিশ্বাস করেন সেরা ক্রিকেটাররা সব ধরনের ফর্ম্যাটেই সমান সফল হতে পারেন। অস্ট্রেলিয়ার শেন ওয়াটসন – যাকে অনেকেই টিটোয়েন্টি স্পেশালিস্ট হিসেবে চিহ্নিত করে থাকেন, তিনি বলছিলেন হাতের কাছেই কিন্তু এমন উদাহরণ অন্তত দুটো মজুত আছে।

তিনি বলছিলেন, ‘স্টিভ স্মিথকেই দেখুন না, সব ফর্ম্যাটেই ও দারুণ বল হিট করতে পারে। টেস্টে লম্বা সময় ধরে ব্যাটিং করার জন্য যে মানসিক শক্তি দরকার সেটা ওর আছে – ঘন্টার পর ঘন্টা বোলারকে কোনও সুযোগ দেয় না। আবার ওই যখন টিটোয়েন্টিতে ব্যাট করে নিজেকে দারুণ অ্যাডাপ্ট করে নেয়। আমি এ প্রসঙ্গে আরও একজনের কথা বলব, সে হল এ বি ডি ভিলিয়ার্স – সব ধরনের ক্রিকেটে ও একজন সাঙ্ঘাতিক ব্যাটসম্যান, আমার জীবনে দেখা অন্যতম সেরা!’

কিংবা ধরা যাক ক্রিস গেইলের কথা – টেস্টেও তিনি কম সফল নন – কিন্তু এখন মনপ্রাণ ঢেলে দিয়েছেন দুনিয়াজোড়া টিটোয়েন্টিতে। আজ আইপিএল তো কাল বিগ ব্যাশ, পরশু ঢাকায় তো তার পরদিন ক্যারিবিয়ানে। অনেকে মজা করে বলেন, বছরের তিনশো পঁয়ষট্টি দিনই ক্রিস গেইল পৃথিবীর কোনও না কোনও মাঠে ছক্কা মারতে ব্যস্ত!

আসলে গেইল-ডিভিলায়ার্স-ওয়াটসনের মতো এই ধরনের বর্ণময় চরিত্ররাই টিটোয়েন্টি ফরম্যাটটাকে এত রঙিন করে তুলেছেন – যার সুবাদে তা এখন অনায়াসে চ্যালেঞ্জ করতে পারছে টেস্ট ক্রিকেটের ধ্রুপদী ঘরানাকেও!

সূত্র : বিবিসি বাংলা

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: