২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

মুক্তিযুদ্ধে ঠাকুরগাঁওয়ের প্রথম শহীদ রিক্সাচালক মোহাম্মদ আলী


নিজস্ব সংবাদদাতা, ঠাকুরগাঁও, ২৬ মার্চ ॥ ২৭ মার্চ, ১৯৭১ সাল, ঠাকুরগাঁওয়ের স্বাধীনতার ইতিহাসে সবার হৃদয়ে রক্তক্ষরণের একটি দিন। ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে এ দিনটির কথা। ওই দিন স্বাধীনতার পক্ষে জয়বাংলা বলে সেøাগান দেয়ার অপরাধে হানাদার বাহিনীর গুলিতে প্রাণ দিতে হয় শহরের রিক্সাচালক মোহাম্মদ আলীকে। সেদিন ঠাকুরগাঁও শহরে বলবত ছিল সান্ধ্য আইন। সান্ধ্য আইন ভঙ্গ করে বিচ্ছিন্নভাবে শহরে মিছিল চলে। অনেকেই ভিড় করে আওয়ামী লীগ নেতা এমপিএ ফজলুল করিমের বাসার সামনে। সে সময় ফজলুল করিম ছিলেন জেলা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক।

২৫ মার্চ গভীর রাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ঢাকায় বাঙালীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছিল। পাকবাহিনী নির্বিচারে হত্যা করে বাঙালী পুলিশ, ইপিআর ও ছাত্রসহ সাধারণ মানুষকে। কিন্তু ২৬ এবং ২৭ মার্চ ঠাকুরগাঁওয়ের জনসাধারণ এ ব্যাপারে কোন সংবাদই পায়নি। সান্ধ্য আইন জারি থাকলেও ঠাকুরগাঁওবাসী অন্যান্য দিনের মতো ২৭ মার্চে দুপুরে একটি মিছিল জয় বাংলাসহ বিভিন্ন সেøাগান দিতে দিতে এগিয়ে যায় ইপিআর ক্যাম্পের দিকে। আর একটি ছোট মিছিল শহরের কালীবাড়ি মোড়ের সামনে পৌঁছলে দক্ষিণ দিক থেকে ইপিআরবোঝাই একটি লরি এসে থামে। জিপ থেকে নামে ইপিআর উইং কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ হোসেন ও ক্যাপ্টেন নাবিদ আলম। সামনে হানাদার বাহিনীকে দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়ে ছোট মিছিলটি। মিছিলের সামনেই দাঁড়িয়ে বলিষ্ঠকণ্ঠে, মুখে চাপ দাড়ি মধ্যবয়সী রিক্সাচালক মোহাম্মদ আলী। হানাদার বাহিনীর সামনে বুক ফুলিয়ে মোহাম্মদ আলী বলে উঠে জয় বাংলা। মেজর মোহাম্মদ হোসেনের ইশারায় হানাদারের রাইফেল গর্জে উঠে। মুহূর্তে চিৎকার দিয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে মোহাম্মদ আলী। মিছিলের বাকি লোক ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন দিকে ছুটে পালিয়ে যায়। পাকা রাস্তার ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে মোহাম্মদ আলীর লাশ। কেউ কেউ অবশ্য বলে খ-মিছিলটি হঠাৎ ইপিআরের গাড়ির সামনে পড়ে যায়। বিনা উস্কানিতে ইপিআর বাহিনী মোহাম্মদ আলীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

২৮ মার্চ রাতেই ইপিআর ক্যাম্পে বাঙালী সেনাদের অভ্যুত্থানের সময় আরও ৩ জন নিহত বাঙালী ইপিআরকে সমাধিস্থ করা হয় মোহাম্মদ আলীর কবরের পাশে। শহীদ মোহাম্মদ আলীর কবরের নামফলকে তার মৃত্যু তারিখ ২৮ মার্চ লেখায় তা সংশোধনের জন্য ১৯৭১ সালের ঠাকুরগাঁও জেলা সংগ্রাম কমিটির সদস্যবৃন্দ দাবি জানান। কিন্তু দীর্ঘদিন হলেও এখন পর্যন্ত সঠিক তারিখটি লেখা হয়নি।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: