২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

৬ ঘণ্টায় বিশ্বের যে কোন নগরীতে


মাত্র ছয় ঘণ্টায় বিশ্বের যে কোন নগরীতে পৌঁছে যাবে। এমনকি তার চেয়ে কম সময়ও লাগতে পারে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা স্থংস্থা ‘নাসা’ এমনই দ্রুত গতির এক জেট বিমান তৈরি করবে পরিকল্পনা নিয়েছে। দূরপাল্লার সুদীর্ঘ সময়ের বিমান যাত্রায় সিটে বসে থাকতে পায়ে খিল ধরে যাওয়া যাদের জন্য অসহনীয় তারা এমন সংবাদে খুশিতে বাগ বাগ হয়ে যাবেন তাতে সন্দেহ নেই।

ভুক্তভোগীদের এই কষ্ট ও যন্ত্রণা নাসা অনুভব করতে পেরেছে। তাই এমন দ্রুতগতির বিমান তৈরির প্রাথমিক উদ্যোগে সংস্থাটি অর্থায়ন করছে এজন্য লকহিড মার্টিন কোম্পানিকে নাসার ডিজাইন অনুযায়ী ‘লো-বুম’ বা লঘু শব্দের বিমান তৈরির উদ্দেশ্যে ২ কোটি ডলারের কনট্রাক্ট দিয়েছে। অর্থাৎ আগামী দিনের যাত্রীরা বিমানে করে সুপারসনিক গতিতে অর্থাৎ শব্দের গতির চেয়েও দ্রুত গতিতে যেতে পারবে।

শব্দের গতি হলো ঘণ্টায় ৭৬৭ দশমিক ২৫ মাইলের কিছু বেশি। কোন বিমান শব্দের গতি অতিক্রম করলে এমন আওয়াজ সৃষ্টি হয় যা অতি বিরক্তিকর। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দিয়ে সুপারসনিক বিমানের যাত্রা সাধারণভাবে নিষিদ্ধ। সেজন্যই নাসা ডিজাইন করেছে এমন বিমানের যা সুপারসনিকের সেই প্রচ- শব্দের তুলনায় লঘুতর শব্দ বা মুদৃ দুম করে ওঠার আওয়াজ শোনা যাবে। সেই সুপারসনিক বিমান সত্যিই যদি এমন লঘুতর দুম জাতীয় শব্দ তোলে যে সেটাকে ব্যাপকভাবে চলাচলের সুযোগ দেয়া যায় তাহলে ওটা যে যাত্রীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই। এর প্রধানতম কারণ হলো যাত্রায় কম সময় লাগা।

নাসার এক কর্মকর্তা বলেন, এক বৈপ্লবিক প্রযুক্তির পূর্ণ সম্ভাবনময় ক্ষমতাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা চলছে যা বিমান চলাচলকে আরও উন্নত, নিরাপদ ও দ্রুত পর্যায়ে নিয়ে যাবে। ১৯৪৭ সালে প্রথমবারের মতো শব্দপ্রাচীর ভেঙ্গে দেয়ার পর থেকে অন্যান্য সুপারসনিক ফ্লাইট চালানোর চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু কোনটাই টেকেনি। তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো কনকর্ড। কনকর্ড বাণিজ্যিক দিক দিয়ে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হওয়ার পর ২০০৩ সালে তা শেষবারের মতো আকাশে উড়ে। বিমানটির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় দেড় হাজার মাইল। এটি সাড়ে তিন ঘণ্টায় আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিতে পারত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে যাওয়া আসায় এতে খরচ পড়ত ৯ হাজার ডলার। তাছাড়া জেটটির আওয়াজ ছিল অনেক বেশি।