১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

আইজিসিসিতে সৈয়দ শামসুল হকের একক আবৃত্তি


আইজিসিসিতে সৈয়দ শামসুল  হকের একক  আবৃত্তি

গৌতম পাণ্ডে ॥ নিজেই পড়লেন নিজের কবিতা। এতে ছিল ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চের ভয়াল রাত্রির কথা, বঙ্গবন্ধুর কথা, ছিল নিজের খুব কাছের কিশোরবেলার বন্ধুর কথা, এমনটি স্বৈরশাসকের কথাও বাদ পড়েনি। আবৃত্তির মাঝে কখনও কখনও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নিজের স্মৃতিময় দিনগুলোর কথা স্মরণ করে। তিনি আমাদের প্রাণের কবি সৈয়দ শামসুল হক। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁর একক কবিতা পাঠের আয়োজন করে ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। মিলনায়তনে শ্রোতার উপস্থিতি তেমন ছিল না। তাইত কবিতা পাঠ শুরুর আগে তিনি বললেন, শ্রোতা কম, তাতে কিছু আসে-যায় না, বাঙালীরা একাই এক শ’। কাজেই আমি মনে করি এখানে এক হাজার শ্রোতা আছে। শুরুটা ছিল একাত্তরের ২৫ মার্চের বেদনাতুর রাত্রির কথা দিয়ে। এ সময় তিনি রাজধানীর গ্রীন রোডের বাসায় ছিলেন। তাঁর স্ত্রী প্রচ- জ্বরে কাতর হয়ে শুয়ে আছে বিছানায়। মনে উৎকণ্ঠা নিয়ে ওই দিনই তার কলম থেকে বের হয় কিছু পঙক্তিমালা। তিনি সেসব পঙক্তিমালা উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, আমার লেখার শেষে শুনতে পাই গুলির শব্দ। আমার শিশুপুত্র ঘুম, স্ত্রী জ্বরে মূর্ছিত। সমস্ত বাতি নিভিয়ে স্থির বসে থাকি। আরও শোনালেন সে সময়ে ২৫ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত লেখা তাঁর কিছু কবিতা, যেগুলো তিনি লিখেছেন যুদ্ধকালীন ঢাকার দৃশ্যপট নিয়ে। পাশাপাশি কবিতা রচনার প্রেক্ষাপটও বর্ণনা করেন তিনি। কবিকণ্ঠে সব উচ্চারণ পিনপতন নীরবতায় শোনেন শ্রোতারা। অনেকে ছিলেন একাত্তরের সেই বিভীষিকাময় দৃশ্যের সাক্ষী। কবিকণ্ঠে এ সকল কবিতা শুনতে শুনতে অনেকে যেন ফিরে যান সে সময়ের সেই ভয়াবহ দিনগুলোতে। একজন শ্রোতা বলেই ফেললেন, মনে হচ্ছে চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি পাকিস্তানীদের সেই নিষ্ঠুর আচরণের দৃশ্য। এর পর কবি ফিরে গেলেন তার কিশোর বয়সে। উচ্চারণ করলেন স্কুল সহপাঠী প্রিয় বন্ধু পরিমলকে নিয়ে একটি কবিতা। দেশভাগের সময় কবির বয়স ছিল ১২ বছর। ‘পরিমলদের বাড়ি’ শিরোনামে একটি কবিতা লিখেছেন তিনি দেশভাগের কথা নিয়ে। সেই কবিতাও পাঠ করেন তিনি। একই সঙ্গে কবিতা রচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে জানালেন তাঁর বাল্যবন্ধু ছিল শ্যামল ও পরিমল। দেশভাগের পটভূমিতে এই দুই প্রাণপ্রিয় বন্ধু তাঁকে না জানিয়ে চলে যায় কলকাতায়। সেই ঘটনা তাঁকে ব্যথিত করেছে। স্বাধীনতাপরবর্তী কবির লেখা কিছু কবিতা পাঠ করে শোনালেন। সোয়া ঘণ্টাব্যাপী এই আয়োজনে তাঁর লেখা ‘ভষ্ম যদি সর্বাঙ্গে আমার’, ‘কবিতা সমগ্র’, ‘শ্রেষ্ঠ কিশোর কবিতা’ ও ‘নির্বাচিত ১০০ কবিতা’ বই থেকে বিভিন্ন কবিতা পাঠ করেন। ‘তুমি কি জান, তুমি আমার কতটা এবং কী’ পাঠের মধ্য দিয়ে ইতি টানেন কবি-লেখক সৈয়দ শামসুল হক। এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে কবি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ভারতের ইন্দিরা গান্ধীকে।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: