১২ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

মুক্তিযোদ্ধা হত্যা


মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির ষড়যন্ত্র থেমে নেই। স্বাধীন সত্তা নিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াকÑ শত্রুরা তা চায় না। একাত্তর সালে দখলদার পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীও তাদের এদেশীয় দোসরদের পরাজিত করে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন সার্বভৌম ভূখ-টি বিশ্ব মানচিত্রে নিজস্ব অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু পরাজিত শক্তিরা বাঙালীর এ বিজয়কে মেনে নিতে পারেনি। বাঙালীকে সর্বত্র পর্যুদস্ত করার জন্য তারা ষড়যন্ত্রে মত্ত হয়। এমনকি পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশনের জন্য পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটিও গঠন করেছিল। পাকিস্তান প্রত্যাগত বাঙালীদের মধ্যে অনেকে পাকিস্তানী মানসিকতায় লালিত হয়ে দেশবিরোধী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের চরিত্র হনন শুরু হয়। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর শুরু হয় মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদাহানির নানা চেষ্টা। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ছড়ানো হয় নানান বিভ্রান্তি এবং বিভক্তি। মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে সেই যে শুরু হয় উপহাস, তার রেশ এখনও শেষ হয়ে যায়নি। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের একীভূত করার কাজটি শুরু করে ক্ষমতা দখলকারী ও রাজাকার পুনর্বাসনকারী জান্তা শাসক জিয়াউর রহমান, পাকিস্তানী ভাবধারায় দেশকে ফিরিয়ে নিতে সেনাবাহিনীতে কর্মরত মুক্তিযোদ্ধাদের নিশ্চিহ্ন করার কাজটি শুরু হয় তখনই। অপর জান্তা শাসক এরশাদ যুগে মুক্তিযোদ্ধা বিলুপ্তিকরণ অব্যাহত রাখা হয়। একাত্তরে যারা শান্তি কমিটি গঠন করে মুক্তিযোদ্ধা নিশ্চিহ্ন শুধু নয়, তাদের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও পরিবারের সদস্যদের হত্যার জন্য হানাদার পাকিস্তানীদের সহায়তা করত, তারা রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হয় জান্তা শাসকের উদ্দীপনায়। শান্তি কমিটির সদস্যরা একাত্তরেই অর্থ-বিত্তে ফুলে ফেঁপে উঠেছিল। মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতাকামীদের এমন কী তাদের পরিবারের সদস্যদের ধরে নিয়ে আসা হতো। সেই শান্তি কমিটির সদস্যরা সারাদেশে নারকীয় অবস্থা তৈরিতে নৃশংস ভূমিকা রেখেছে। পঁচাত্তরের পর এদের অনেককেই পুনর্বাসিত করা হয়েছে। অফিস-আদালতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারা হয়ে উঠেছে দ-মু-ের কর্তা। মুক্তিযোদ্ধা হত্যা করতেও এরা দ্বিধা করে না। এরা দেশজুড়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিস্তার ঘটিয়ে আসছে। মুক্তিযোদ্ধারা একাত্তরের মতোই তাদের শত্রু আজও। স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধা হত্যার কাজটি শুরু করে জান্তা শাসক জিয়া। তার উত্তরসূরি এরশাদও কম যায়নি মুক্তিযোদ্ধা নিধনে। স্বাধীনতার পরাজিত এই শক্তি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভুলিয়ে দিয়ে যেমন বিকৃত ইতিহাস তৈরি করেছে, স্বাধীনতাবিরোধীদের পুনর্বাসিত করেছে, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের হেয় করার কাজটিও করেছে। জীবনবাজি রেখে যে যোদ্ধারা একাত্তরে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে, স্বাধীন দেশে তাদের রক্ত ঝড়বে এটা কোনভাবেই কাম্য না হলেও তা হয়েছে। শেখ হাসিনার সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার পর পরাজিতরা হিংস্র হয়ে উঠেছে। তাই দেখা যায় স্বাধীনতার মাস মার্চেও মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে উত্তরবঙ্গে। পাকিস্তানী হানাদারদের এই উত্তরসূরিদের নির্মূল করা আজ জাতীয় কর্তব্য। সেই লক্ষ্যে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। পরাজিত শক্তির আস্ফালন থেকে দেশকে রক্ষা করতেই হবে। এর অন্যথা হতে পারে না।