১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

স্বাধীনতা দিবসে শিবিরের তামাশা


স্বাধীনতা দিবসে শিবিরের তামাশা

বিভাষ বাড়ৈ ॥ ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনেছে ছাত্রশিবির, প্রহরী ছিলেন জামায়াত নেতারা’- সরকারের নমনীয়তার সুযোগে এমনই ঔদ্ধত্যপূর্ণ সেøাগান নিয়ে এবার প্রকাশ্যেই মহান স্বাধীনতা দিবসে র‌্যালি বের করল জামায়াত-শিবির! কেবল তাই নয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সরকারের চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠান করে বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের ডেকে তাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সম্মাননা দিয়েছে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত দলটি। জামায়াত-শিবিরের দেয়া কথিত ‘মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা’ ও বিজয় র‌্যালি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে স্বাধীনতাবিরোধীদের তামাশার এ কর্মকা-। এ ঘটনার জন্য প্রশাসনে জামায়াতীকরণকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

যে সংগঠনটির প্রথম দুই সভাপতিসহ একের পর এক নেতা যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসির দ-প্রাপ্ত হচ্ছেন, কার্যকর হচ্ছে একের পর এক রায়, যেখানে দলটিকে নিষিদ্ধের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে, সেই জামায়াত-শিবিরের দাবি বাংলাদেশের স্বাধীনতা তারাই এনেছেন। সে স্বাধীনতা রাখবেন নাকি তারাই। গণমাধ্যমে শিবিরের পাঠানো প্রেস রিলিজ, বিবৃতি ও সরেজমিন অনুসন্ধানে স্বাধীনতাবিরোধীদের কর্মকা-ের এ চিত্র ফুটে উঠেছে। স্বাধীনতা দিবসের আগের দিনই দলীয় অনুগত কয়েকজন ‘মুক্তিযোদ্ধা’কে সম্মাননা দিয়েছে বলে দাবি করেছে শিবিরের ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা। রাজধানীর একটি ছোট্ট মিলনায়তনে গোপনে এ সম্মাননা দেয়া হয়। এতে ছাত্র শিবিরের সভাপতি আতিকুর রহমান অংশ নেন। তবে অনুষ্ঠানে কয়জন মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা দেয়া হয়েছে, তাদের পরিচয়, এসব তথ্য গোপন রেখেছে শিবির। কয়েকদিন আগেই ছাত্রশিবির স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচী ঘোষণা করেছিল একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে। কর্মসূচীর মধ্যে ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা প্রদান, দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কবর জিয়ারত, শাখা পর্যায়ে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান, সাধারণ জ্ঞান, রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা, এতিম ও পথ শিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ, ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী।

রাজধানী ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, দিনাজপুর, গাজীপুর, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঔদ্ধত্যপূর্ণ সেøাগান নিয়ে র‌্যালি করেছে সংগঠনটি। দিনব্যাপী আয়োজিত শিবিরের কর্মসূচীতে জামায়াত-শিবির নেতারা দাবি করেছেন, তারাই এই দেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী ছিলেন। বলেছেন, ‘আমাদের সেই প্রিয় ইসলামী নেতৃবৃন্দকে আজ বিচারের নামে হত্যা করা হচ্ছে এবং কারারুদ্ধ রাখা হয়েছে।’ বিষয়টিকে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে বেয়াদবি হিসেবেই দেখছেন একাত্তরের রণাঙ্গনের যোদ্ধারা। বলছেন, এই ঘাতকদের সংগঠন স্বাধীনতা বিষয়ে র‌্যালি করার মানেই হচ্ছে মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বাংলাদেশকে নিয়ে তামাশা করা। ৩০ লাখ শহীদকে অসম্মান করা।

লাল সবুজের জাতীয় পতাকা নিয়ে শনিবার সকালে রাজধানীতে শিবিরের মহানগরী উত্তর শাখার উদ্যোগে র‌্যালি বের করা হয়। ঝটিকা এ র‌্যালিতে শিবিরের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। সকাল ৮টায় রাজধানীর বসুন্ধরা গেট এলাকা থেকে র‌্যালিটি শুরু হয় এবং নর্দ্দা বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। শাখা সভাপতি হাসান জারিফের পরিচালনায় র‌্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা শাহিন আহমেদ খান। র‌্যালিতে শিবির নেতারা বলেন, ‘অবিলম্বে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ ইসলামী আন্দোলনের সব নেতাকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। তাদের কারারুদ্ধ রেখে কখনও স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ গ্রহণ সম্ভব নয়।’ গাজীপুরে র‌্যালি করেছে জামায়াত-শিবির। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে খুলনায় র‌্যালি করে শিবির। ব্যানারে লেখা ছিল, ‘স্বাধীনতা এনেছি, স্বাধীনতা রাখব, স্বপ্নীল স্বাধীনতা অন্তরে আঁকব’।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ময়মনসিংহে শিবির র‌্যালি বের করে। তাদের ব্যানারে ছিল, ‘স্বাধীনতা এনেছি, স্বাধীনতা রাখব’ শীর্ষক সেøাগান। সারাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা দেয়ার কথা নিজেরাই জানায় শিবির। তবে এই মুক্তিযোদ্ধারা কারা, তাদের নাম, ঠিকানাসহ কোন তথ্যই প্রকাশ করেনি সংগঠনটি। ছাত্রশিবির নেতারা দাবি করেছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে দরিদ্র ও অভাবীদের খুঁজে খুঁজে সম্মাননা ও নগদ অর্থ দেয় শিবির।

এদিকে জামায়াত-শিবিরের এ কর্মকা-কে ঔদ্ধত্য-মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে বেয়াদবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা বলে মন্তব্য করেছেন সর্বস্তরের মানুষ। ছাত্রশিবিরের স্বাধীনতা র‌্যালি ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননার বিষয়টিকে ঔদ্ধত্য ও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে বেয়াদবি হিসেবে দেখছেন একাত্তরের রণাঙ্গনের যোদ্ধারা।